৫ হাজার টাকার বই ৮৫ হাজারে ক্রয় : তদন্ত কমিটি গঠন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য সাড়ে ৫ হাজার টাকা দামের প্রতিটি বই ১৭ গুণ বেশি দামে সাড়ে ৮৫ হাজার টাকা করে কেনার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এম আই এস) সমীর কান্তি সরকার ও উপ-পরিচালক (অর্থ) ডা. কেএম তারিক।

কমিটির সদস্যদের আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ রোববার দুপুরে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য সাড়ে ৫ হাজার টাকা দামের প্রতিটি বই সাড়ে ৮৫ হাজার টাকায় কেনা-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

গত ৩০ আগস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্জারির ছাত্র ও শিক্ষানবিশদের টেক্সট বই ‘প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব সার্জারি’। গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের জন্য এ বইয়ের ১০টি কপি কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বইটির বাজারমূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি বই কিনেছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা করে। সে হিসাবে ১০ কপি বইয়ের দাম পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাজার দামের তুলনায় ৮ লাখ টাকা বেশি খরচ করে এ বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু এ একটি আইটেমের বই-ই নয়, দুটি টেন্ডারে ৪৭৯টি আইটেমের ৭ হাজার ৯৫০টি বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব বইয়ের মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৩ টাকা। এ বছরের ১৯ জুন টেন্ডার দুটির ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাক্কানি পাবলিশার্স। তারাই বাজার থেকে বইগুলো কিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে সরবরাহ করেছে।

তবে অভিযোগ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে তারা চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জেনেছেন, প্রতিবেদনে যে প্রতিষ্ঠানটিকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে বলা হচ্ছে- প্রকৃতপক্ষে তাদের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়নি বা তাদের কাছ থেকে কোনো রকম বই কেনা হয়নি। তবে তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ায় তারা চূড়ান্তভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এমইউ/এনডিএস/জেআইএম