বাংলাদেশ থেকেও রেনিটিডিন ট্যাবলেট তুলে নেবে জিএসকে!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশের বাজার থেকেও তাদের উৎপাদিত রেনিটিডিন ট্যাবলেট প্রত্যাহার করে নেবে! রোববার রাজধানীর মহাখালীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দেশীয় ৩১ কোম্পানি রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করতে সর্বসম্মতিক্রমে রাজি হয়।

সভায় জিএসকের উপস্থিত এক প্রতিনিধিও এ সিদ্ধান্ত মেনে নেন বলে জানান ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক জানান, জিএসকে গত বছরের জুনে বাংলাদেশ থেকে তাদের ওষুধের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। তথাপি বাজারে তাদের ওষুধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তাদেরও বাজার থেকে ওষুধ প্রত্যাহার করতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে জিএসকের জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমানা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন ধরে জিএসকের কোনো ওষুধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে না, তাই আজকের সভায় কোনো প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, পূর্ব সতর্কতা এবং অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জিএসকে ইতোমধ্যে রেনিটিডিন ট্যাবলেট জ্যানট্যাক উৎপাদন ও বিতরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ সংস্থা জিএসকে গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় একসময় বহুল সেবনকৃত রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণার কারণে বাংলাদেশও এই ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করল

রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান পাওয়ায় ইতিপূর্বে জিএসকে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের উৎপাদিত রেনিটিডিন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিএসকে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে গ্যাস্ট্রিকের জনপ্রিয় ট্যাবলেট রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতের বাজার থেকেও রেনিটিডিন গ্রুপের ‘জ্যানটেক’ নামের এই ট্যাবলেট প্রত্যাহারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে জিএসকে।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজার গবেষণা সংস্থা এআইওসিডি আওয়াকস ফার্মা ট্রাক বলছে, শুধু ভারতেই প্রায় ৬৮৮ কোটি রুপির ব্যবসা করছে রেনিটিডিন। রেনিটিডিন ছাড়াও একই ব্র্যান্ডের রেনট্যাক, রেনট্যাক-ওডি, আর-লক, রেনিটিনও গ্যাসের ট্যাবলেট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।

বিশ্বের বাজার থেকে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন রেনিটিডিন তুলে নিলেও অন্যান্য সংস্থা গ্যাসের চিকিৎসার এই ওষুধ তুলে নিচ্ছে কি-না সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট রেনিটিডিন সেবনের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বরের ওই সতর্ক বার্তায় মার্কিন এফডিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, রেনিটিডিনে পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে পরিচিত ‘এনডিএমএ’র স্বল্পমাত্রার উপস্থিতি রয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী এ উপাদান অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য এবং পানিতেও পাওয়া যায়।

গত বছর মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ ব্লাড প্রেসারের ওষুধ ভালসার্তান এবং লোসার্তানের ব্যাপারে তদন্ত করে। ব্লাড প্রেসারের এ দুই ওষুধে উচ্চমাত্রায় এনডিএমএর উপস্থিতি পায় মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। পরে এই ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

রেনিটিডিনে স্বল্পমাত্রায় এনডিএমএ পাওয়ায় এখনও উচ্চ সতর্কতা জারি করেনি মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন; তবে তদন্ত চলছে। এর মাঝেই গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন স্বেচ্ছায় তাদের এই ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার শুরু করেছে।

গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের এক মুখপাত্র বলেন, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববাজারে রেনিটিডিন উৎপাদন, বাজারজাত ও সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এমইউ/বিএ/এমএস