জীবনের প্রতিটি ধাপে ডিমের পুষ্টি দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯

ডিম খেতে কোনো বয়স লাগে না। জন্মের আগে থেকেই মায়ের শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে ডিমের কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষের ডিমের পুষ্টি দরকার।

শুক্রবার জধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য- সুস্থ মেধাবী জাতি চাই, প্রতিদিনই ডিম খাই।

বক্তারা বলেন, শৈশব-কৈশোর-যৌবন এবং জীবনের বাকিটা সময় শরীরের জন্য মূল্যবান অত্যাবশ্যকীয় আমিষের চাহিদা পূরণে ডিমের কোনো তুলনা হয় না। ডিমকে সঠিকভাবে প্রমোট করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর (ডিএলএস), বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) বিশ্ব ডিম দিবস যৌথভাবে উদযাপন করছে। ডিম দিবস উপলক্ষে এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সেদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ডিমকে বলা হয় কমপ্লিট ফুট বা পরিপূর্ণ খাদ্য। কখনও একে বলা হয় সুপার ফুড।ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ এমন একটি প্রাকৃতিক আদর্শ খাবার পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সম্প্রতি জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গবেষকরা এমন একটি মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন যে, মুরগির ডিম ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম হবে।

আয়োজকরা জানান, হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভের (২০১৬) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশে দৈনিক মাথাপিছু ফুড কনজাম্পশন কমেছে, কিন্তু বেড়েছে ডিমের কনজাম্পশন। ডিমের মাথাপিছু কনজাম্পশন ৭.২ গ্রাম থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩.৫৮ গ্রাম।

প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন, সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে এ দিবসটি বিশ্ব জুড়ে একযোগে পালিত হয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পোল্ট্রি সায়েন্সে’র অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মন্ডল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াছি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার প্রমুখ।

এএস/এমএসএইচ/এমএস