ডায়াবেটিস চিকিৎসার আস্থার ঠিকানা বাডাসের হাসপাতাল

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

দেশের লাখ লাখ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সুচিকিৎসা পাওয়ার পরম আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি (বাডাস) পরিচালিত রাজধানীর বারডেমসহ বিভিন্ন হাসপাতাল।

সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হলেও রোগীরা এখনও ছুটে যান বাডাসের আওতাধীন বারডেম হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) বিআইএইচএসের ৩২টি কেন্দ্র, ৬১টি অধিভুক্ত সমিতি ও ১৬টি এফিলিয়েটেড অ্যাসোসিয়েশনের সারাদেশের চিকিৎসা কেন্দ্রে।

দেশে মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা কত এ নিয়ে জাতীয় কোনো জরিপ প্রতিবেদন নেই। অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে দেশের ৭৩ লাখ ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ রোগীকে ডায়াবেটিস সেবার আওতায় এনেছে বাডাস। ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভারি ও আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে।

কয়েক বছর আগের তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় বাড়লেও এখনও বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসা মেলে সম্পূর্ণ অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটিতে। প্রতি বছর ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তার মধ্যে শুধুমাত্র বিনামূল্যে ইনসুলিন ও ওষুধ বিতরণ বাবদ সমিতির ব্যয় ৯০ কোটি টাকার বেশি।

বাডাস সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের লক্ষ্য ও আদর্শ ছিল- কোনো ডায়াবেটিক রোগী গরিব হলেও বিনা চিকিৎসায়, অনাহারে অথবা বেকার অবস্থায় মারা যাবে না। সেই আদর্শকে অনুসরণ করে বারডেম, এনএইচএন, এইচসিডিপি ও অধিভুক্ত সমিতির মাধ্যমে বর্তমানে ৪৫ লাখেরও বেশি রেজিস্টার্ড ডায়াবেটিস রোগীকে স্বল্পমূল্যে মৌলিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ডায়াবেটিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘এক্রিডিটেড’ ফিজিশিয়ানদের মাধ্যমেও প্রায় ৪৬৫টি উপজেলায় ডায়াবেটিস সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এ প্রক্রিয়ায় ডায়াবেটিস সেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ অব্যাহত আছে। এছাড়া ডিসটেন্স লার্নিং প্রজেক্টের মাধ্যমেও প্রায় ১৫ হাজার জেনারেল প্র্যাকটিশনারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ডা. আজাদ বলেন, বারডেম হাসপাতালের আউটডোরেই শুধু প্রতিদিন চার হাজার রোগী আসছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে ভর্তিযোগ্য রোগীকেও অনেক সময় ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না, অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে। সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় রোগীদেরকে উন্নতি মানের সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বারডেম হাসপাতালে আগের তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারডেম হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সরকারি চাকরির মতো সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হচ্ছে। এছাড়া রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন দামি যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। এ সব কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে বলে স্বীকার করেন ডা. আজাদ।

বাডাস সভাপতি জানান, তারা রাজধানীসহ সারাদেশে রেজিস্টার্ড ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল পরিসংখ্যান ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করার কাজ শুররু করেছেন। এটি করার ফলে প্রকৃত ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা নির্ণয় করার পাশাপাশি এ পদ্ধতিতে একজন ডায়াবেটিস রোগী দেশের যেকোনো সেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

এমইউ/এমএসএইচ/জেআইএম