বিনামূল্যে মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এখন থেকে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে সপ্তাহব্যাপী ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গ্রামাঞ্চলে অধিক মূল্য হওয়ার কারণে মা ও মেয়ে শিশুদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এতে তাদের শরীরে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে দেশের সর্বত্র এ বছর থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে আমাদের মা-বোনদের জন্য বিনামূল্যে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রদান করা হবে।’

নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যুহার প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে ৩.৭.২ সূচকে কৈশোরকালীন মাতৃত্ব কমানোর ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। কারণ, ১৪ বছর বা তার কম বয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে গর্ভজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যুঝুঁকি পাঁচগুণ বেশি। ২০ বছরের বেশি বয়সী মায়েদের তুলনায় ১৫-১৮ বছর বয়সী মায়েদের মৃত্যুহার দ্বিগুণেরও বেশি। এক্ষেত্রে অধিকাংশ মায়ের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা থাকে। এ কারণে সারাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি সিস্টেম চালু করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাল্যবিয়ে, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব, কিশোরী মায়ের গর্ভে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি, মৃত সন্তান প্রসব, অপরিণত জন্ম, কম ওজনের শিশুর শিশু, প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে কিশোরী মায়েরা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ১৫-১৯ বছরের বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনার অপূরণীয় চাহিদার হার ১৭ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে সব সক্ষম দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিবাহিত কিশোরীদের সঠিকভাবে পদ্ধতির ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন, যাতে কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করা যায়।

কৈশোরকালীন মাতৃত্বের বর্তমান হার লাখে ১১৩ জন। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫০-এ নামিয়ে আনার কথা বলেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/এসআর/এমকেএইচ