শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি বাড়ছে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৪৯ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশু বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে চারমাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন রাজধানীর লালবাগের এক দম্পতি। তাদের চোখেমুখে উদ্বিগ্নতার ছাপ।

শিশুটির মা জানালেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিশুটির ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে থাকে, শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হলেও ঠান্ডা ভালো হচ্ছে না। তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।

চলতি মাসের শুরু থেকে শীতকাল শুরু হওয়ায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে। শীত জেঁকে না বসলেও ভোরে ও রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে।

Child

আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে বর্তমানে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশেরও বেশমি শিশু সাধারণ জ্বর, হাঁচি, কাশিসহ ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা নিয়ে আসছে। তবে অধিকাংশ শিশুই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।

শিশুদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, ম্যানেনজাইটিস ও এনকেফালাইটিসে ভুগছেন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এআরআই-একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাজনিত সংক্রমণ) বলা হয়। নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

Child-3

সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগ ঘুরে শিশুর অভিভাবক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে। দেখা গেল, সরকারি টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে আসা অপেক্ষমাণ শিশুদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে।

হাসপাতালটির শিশু বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদার জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন শিশু রোগী আসছে। তাদের মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুরোগী ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি নিয়ে আসছে। অধিকাংশ প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও ২০ শতাংশ শিশুরোগী নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসজনিত সমস্যায় ভুগছে। তাদের অনেককে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

Child-3

শিশুদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে সুস্থ রাখতে কিছু পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, শিশুদের যেন ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। শীতে নিয়মিত গোসলের দরকার নেই। মাথায় ও গায়ে নারিকেল ও সরিষার তেল না দেয়াই ভালো। তবে চাইলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবু দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এমইউ/এসআর/পিআর