স্বাস্থ্য খাতে অনেক অর্জন, এটা আমরা চোখে দেখি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২০

>> আমরা সবচেয়ে কম ফ্যাসিলিটি নিয়ে কাজ করছি
>> স্বাস্থ্য খাতে বাইরের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বেশি
>> দেশের লোক বাইরে চিকিৎসা নিক, অনেকে এটা চায়
>> দেশের অধিকাংশ পুরস্কারই এসেছে স্বাস্থ্য সেবায় 

‘স্বাস্থ্য খাতে বাইরের পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপ বেশি’ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে অধীনস্থ দফতর ও সংস্থার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) শেষে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।  

 তিনি বলেন, ‘যেখানে আমরা অন্যায় দেখছি, সেখানে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। এটা আপনারাও দেখছেন। দুটি প্রতিষ্ঠান অন্যায় করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যেখানে এটা দেখা যাবে, সেখানেই আইনের আওতায় আনা হবে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের নজরে এসেছিল, আমরা সেখানে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলেছি।’

 স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে অন্যায় দেখা যাবে, আমরা চেষ্টা করব; এটা একেবারে ফেরানো যায় না, গোটা সমাজেরও দায়িত্ব আছে। সমস্যা এক জায়গায় না, সমস্যা সব জায়গায় রয়েছে। সব জায়গায় শুদ্ধ হওয়া দরকার।’

 তিনি বলেন, যে সাপ্লাইয়ার, তারও অনেস্ট হওয়া উচিত। যে বায়ার, তারও অনেস্ট হওয়া উচিত। আমরা যারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করি, তাদেরও আমি বলব ইন্টারফেয়ারেন্স-টা কম করা।

 জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য খাতে বাইরের ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ), বাইরের ইনফ্লুয়েন্স-টা (প্রভাব) অনেক বেশি। এটা কমাতে হবে। এটা কমানো হলে আমরা আরও ভালোভাবে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব।’
 
‘যোগ্য লোককে যদি আমরা যোগ্য জায়গায় বসাতে পারি, যেখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স থাকবে না, কোন ইনফ্লুয়েন্স থাকবে না, তাহলে আমরা কাজ আরও ভালো করব।’

 বাইরের হস্তক্ষেপ বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন— জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হেলথ সেক্টরকে যদি আরও ভালো করতে হয়…। তাহলে হেলথ সেক্টরের প্রতি আপনাদেরও সদয় হতে হবে। হেলথ সেক্টরকে এমনভাবে তুলে ধরা উচিত যাতে জনগণ আস্থা পায়, যাতে জনগণ সেবা পায়। হ্যাঁ, কিছু ইনফ্লুয়েন্স তো থাকেই। একটি সমাজে থাকতে হলে... বিভিন্ন ধরনের… হেলথ সেক্টরে ইনফ্লুয়েন্স আছে। সেই ইনফ্লুয়েন্স নিয়েই আমাদের চলতে হয়। সেটা অনেক কিছু থাকে। সামাজিক ইনফ্লুয়েন্স থাকে, রাজনৈতিক ইনফ্লুয়েন্স থাকে। বিদেশি ইনফ্লুয়েন্স থাকে, আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা নেই। সবমিলিয়ে আমাদের চলতে হয়।’

 স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢেলে সাজিয়ে সবকিছু করতে চাচ্ছি, এই কথাটা শুনি। কী ঢালবেন? ঢালার জন্য বস্তুটা আনবেন কোথা থেকে? সব তো দেশের লোক। দেশের লোক দিয়েই কাজ করতে হবে। আমরা যদি আরও যোগ্য, ট্রেইন্ড লোক বসাতে পারি, সঠিক নিয়ম, সিস্টেমটা যদি আমরা পালন করি, অপরের জন্য নয় নিজের জন্য, তা হলে ইনশাআল্লাহ শুদ্ধি অভিযান অবশ্যই হবে।’

 সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য খাতের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা খুব বেশি নেগেটিভ সাইড তুলে ধরি, তবে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরি হবে। তাহলে আমাদের লোকাল হেলথ সেক্টর সাফার করবে। বিদেশি হেলথ সেক্টর ফ্ল্যারিস করবে। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’

 ‘আমাদের দেশের লোক বাইরে বেশি যাবে। হয়তো অনেকে এটা চায়ও, আমাদের দেশের লোক বাইরে বেশি চিকিৎসা নিক। আমাদের হেলথ সেক্টর সাফার করুক। এই ধরনের ঘটনাও আমরা বুঝতে পারি।’
 
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য সেবায় অনেক উন্নতি হয়েছে’ দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘যতগুলো পুরস্কার এই দেশ পেয়েছে, এর অধিকাংশই এসেছে স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে।’
 
নতুন নতুন হাসপাতাল স্থাপন, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ, ওষুধ রফতানিসহ স্বাস্থ্য খাতের নানা অর্জন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক অর্জন, এটা আমরা চোখে দেখি না।’

  তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমি মন্ত্রী হিসেবে কাজ করছি। দুর্ভাগ্য বলেন আর সৌভাগ্য বলেন, দেড় বছরের মধ্যে অর্ধেক সময় গেছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে। বাকি অর্ধেক যাচ্ছে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে। কাজেই এই বিষয়গুলো বুঝতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করছি। ... আমরা সবচেয়ে কম ফ্যাসিলিটি নিয়ে কাজ করছি।’

 স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট আট বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সম্পাদন করা বিভাগগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্য অধিদফতর, কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার, নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদফতর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি), ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অর্গানাইজেশন (টেমো) ও এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। 

আরএমএম/এনএফ/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]