বিএসএমএমইউতে বাড়ছে রোগীর চাপ : বন্ধ ওটি চালু হবে কবে?

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনডোর ও আউটডোরে মহামারি করোনা এবং নন-করোনা উভয় ধরনের রোগীর চাপ বেড়েই চলছে। করোনাকালীন আউটডোরে রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী সেবা নিচ্ছেন।

কেবিন ব্লকে চালু হওয়া করোনা ইউনিটে বর্তমানে ১৯০-২০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। এছাড়া নন-করোনা বিভিন্ন ইউনিটেও গড়ে প্রতিদিন ৮০০-৯০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। মহামারি করোনা সংক্রমণের পর থেকে বিএসএমএমইউয়ের বৈকালিক স্পেশালাইশড চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ। ফলে দিন দিন আউটডোরে তো বটেই ইনডোরেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

বিএসএমএমইউয়ের আউটডোর ও ইনডোর সরেজিমনে পরিদর্শন, রোগী, স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের পর থেকে বিএসএমএমইউয়ে হাতেগোনা জরুরি কয়েকটি ওটি ছাড়া দুই ডজনেরও বেশি বিভাগের ওটি বন্ধ রাখা হয়। ফলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। বন্ধ ওটিগুলো কবে নাগাদ চালু হবে তা জানতে রোগীর স্বজনরা প্রতিদিনই চিকিৎসক ও নার্সের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরাও নির্দিষ্ট করে এর উত্তর দিতে পারছেন না।

সার্বিক বিষয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, আউটডোর ও ইনডোরে চিকিৎসা নিতে রোগীর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। ভিড় সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা। মাসখানেক আগেও শুধু করোনা ইউনিটের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হলেও বর্তমানে আউটডোর ও ইনডোরের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিকভাবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে ওটিগুলো এতদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ নার্স সরকারি চাকরিতে যোগদান করায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া করোনা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ইনডোরের বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নার্স সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর নার্স নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে বন্ধ ওটিগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

বৈকালিক অধিবেশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আপাতত এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা নেই। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরই এটি চালু করা হবে।

এমইউ/এএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]