বিএসএমএমইউতে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ (১৯-২৫ জানুয়ারি) উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ-ব্লকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। এছাড়া জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি উন্নয়নবিষয়ক একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসাইন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিফতরের মহাপরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিদ্দিকা আক্তার, পরিবার পরিকল্পনা অধিফতরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান, নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রমুখ। জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং প্রতিরোধ কার্যক্রম বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা। সভায় ভার্চুয়ালি ও সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেন। তারা স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আগেভাগেই রোগ দুটি চিহ্নিত করা, এ বিষয়ে সেবার কার্যক্রম কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা, সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার-প্রচারণামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা, স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা, প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. আলী নূর বলেন, বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলেও অসাধ্য নয়। সমন্বিতভাবে এই রোগ দুটি মোকাবিলা করতে হবে। কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার আগেভাগে নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক রোগীই দীর্ঘায়ু লাভ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এ রোগ দুটি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সার্জনসহ সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা নিশ্চিত করা গেলে মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস পাবে।

এদিকে ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে চতুর্থতম এবং ক্যান্সারজনিত কারণে মৃত্যুর চতুর্থতম শীর্ষ কারণ। বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে নতুনভাবে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন আট হাজার ৬৮ জন এবং একই বছরে পাঁচ হাজার ২১৪ জন নারী মারা যান।

দেশে নারীদের যত ক্যান্সার হয় তার ১২ শতাংশ হলো জরায়ুমুখ ক্যান্সার। ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ক্যান্সার। বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুনভাবে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় ১২ হাজার ৭৬৪ জন এবং যাদের মধ্যে মারা যায় ছয় হাজার ৮৪৬ জন। এদেশে নারীদের যত ক্যান্সার হয় তার মধ্যে ১৯ শতাংশ হলো স্তন ক্যান্সার। জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকা অনেকাংশেই নির্ভর করে শনাক্তের সময় ক্যান্সারটি কোন স্টেজে আছে তার ওপর। প্রাইমারি স্টেজে ক্যান্সারের চিকিৎসা খুব কার্যকর, এতে চিকিৎসার ফলাফল অনেক ভালো হয় এবং এটা কম ব্যয়বহুল।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্ণয়ে মোট ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৬ জন নারীর ভায়া টেস্ট করা হয় এবং যাদের মধ্যে এক লাখ ১৪ হাজার ৫৬৩ জন পজিটিভ পাওয়া যায় এবং গত তিন বছরে স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে ১০ লাখ ৬১ হাজার ৬১০ জন নারীর সিবিই টেস্ট করা হয় এবং যাদের মধ্যে ২৬ হাজার ৫৭ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়।

এমইউ/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]