মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখা হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২১

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা না নিলে জাতির এই মেধাবী মুখগুলোর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এসব বিবেচনায় রেখে ২ এপ্রিলই দেশে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে গ্রহণ করা হবে।’

বুধবার (২৪ মার্চ) সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ভর্তি পরীক্ষাটি স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে সরকারের পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা শাখা, শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব শাখা মিলে টিমওয়ার্ক ও কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে ও কেন্দ্রের আশেপাশে এলাকার স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখবে। পরীক্ষার আগে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে যেন কোনো গুজব ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিশেষ শাখাগুলো কাজ করবে। আশা করা যায়, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই অনুষ্ঠিত হবে।’

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশবাসীকে আরও সতর্কভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে চলাফেরা করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতমাসে সংক্রমণের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সেটি গতকাল হয়ে গেছে ১৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে করোনা বেড সংখ্যা আবারও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে আরও অন্তত ৫টি হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেডে হাসপাতাল করা হয়েছে। তবে, দেশের মানুষ যদি মুখে মাস্ক না পরেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলেন তাহলে করোনা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সামলানো মুশকিল হতে পারে।’

গতবারের তুলনায় এ বছর মেডিকেল ভর্তির পরীক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার। আর এ বছর ভর্তি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন। পাশাপাশি এ বছর করোনার কারণে সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সংখ্যা ১৯টি এবং ভেন্যু সংখ্যা ৫৫টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের ও কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষামান অভিভাবকদের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ফটোকপি মেশিনের দোকান, কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখাসহ অন্যান্য তৎপরতার দিকেও নজর দেয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূরের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন এবং বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং সরকারের গোয়েন্দা শাখার প্রতিনিধিরা এ সময় সভায় বক্তব্য রাখেন।’

এমইউ/এসএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]