বিএসএমএমইউতে হত্যা মামলার আসামিকে প্রক্টর নিয়োগ, সমালোচনা

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২১
ফাইল ছবি

নতুন প্রক্টর নিয়োগ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। অধ্যাপক ডা. মোজাফফর আহমেদের স্থলে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

ডা. হাবিবুর রহমানকে প্রক্টর নিয়োগ দিয়ে বুধবার (৩১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবি এম আবদুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অবিলম্বে কার্য়কর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তারা বলছেন, আগের প্রক্টর সরিয়ে দিয়ে নতুন প্রক্টর হিসেবে যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তিনি (ডা. হাবিবুর রহমান) ফৌজদারি মামলার প্রধান আসামি। আদালতে হত্যা মামলার বিচারকালে বিএসএমএমইউর প্রক্টর পদে নিয়োগ দেয়া মোটেই উচিত হয়নি।

এদিকে প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ওয়ার্ক হিসেবেই নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ফৌজদারি মামলার আসামিকে প্রক্টর নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই মামলার মীমাংসা হয়ে গেছে।’

জানা গেছে, দুই বছর আগে এক কিডনির বদলে দুটি কিডনি অপসারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় গত নভেম্বর মাসে বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ডা. হাবিবুর রহমানকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুখ হোসেন, ডা. মোস্তফা কামাল ও ডা. আল মামুন। দুই বছর পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শাহবাগ থানায় এই মামলা করেন ভুক্তভোগী রওশন আরার ছেলে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার।

মামলার পর অভিযুক্ত রফিক শিকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, একটি কিডনিতে সংক্রমণ নিয়ে ২০১৮ সালের ১ জুলাই মা রওশন আরাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করান তিনি। চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানোর কিছু দিন পর ফের হাসপাতালে ডেকে জানানো হয়, তার মায়ের বাম কিডনি ফেলে দিতে হবে। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের পর কিডনিটি ফেলে দেয়া হয়। পরে অন্য একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, রোগীর ডানপাশের কিডনিও ফেলে দেয়া হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক হাবিবুর রহমান লিখিতভাবে অপরাধ স্বীকার করে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন, নিজ খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেবেন তিনি। কিন্তু তিনি কালক্ষেপণ করেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের আইসিইউর লাইফ সাপোর্টে কোমায় ফেলে রাখেন রওশান আরাকে। সেখানে ৩১ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।

রওশন আরার পরিবারের অভিযোগ, বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক তার দুটি কিডনি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাকে যখন ভর্তি করা হয়েছিল তখন সেখানে ওই হাসপাতালেরই চিকিৎসক ডা. মামুনের মাকেও ভর্তি করা হয়। তার দুটি কিডনিই নষ্ট ছিল। চিকিৎসার পর তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান তারা।

মামলার পর পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বাদীর অভিযোগ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেই হত্যা মামলা নেয়া হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী মামলার তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসএমএমইউ রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবেই নতুন ভিসির নির্দেশে নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে বেশ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামে অনিয়মের অভিযোগ এসেছিল। তাদের নিয়ে প্রশাসন চালাতে গেলে সমস্যা হতে পারে। সে জন্য রুটিন কাজের অংশ হিসেবে প্রক্টর বদল করা হয়েছে।

বিএসএমএমইউয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তিনি জামিনে রয়েছেন। এখনও দোষী অপরাধী হননি তিনি। সুতরাং তার নিয়োগে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকনেতা বলেন, মামলাটি বিচারাধীন। তবে নৈতিকভাবে একজন বিচারাধীন মামলার আসামিকে প্রক্টর পদে নিয়োগ দেয়া উচিত হয়নি।

এমইউ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]