‘বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা এসেছে’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ০৭ জুন ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাঙালির মুক্তির সনদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালির স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক, অবিস্মরণীয় একটি দিন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে যেসব আন্দোলন বাঙালির মনে স্বাধীনতার চেতনা ও স্পৃহাকে ক্রমাগত জাগিয়ে তুলেছিল, ছয় দফা আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতার ফসল। এরই ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির অবিস্মরণীয় বিজয়, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পথ ধরে দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

সোমবার (৭ জুন) ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে বিএসএমএমইউয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ছয় দফা দাবির সঙ্গে যেমন এ দেশের মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছিল। ঠিক যেমন দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে তারই সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ-যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এসব সম্ভব হচ্ছে।

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল আলোচনা সভায় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের জন্মের মূলে রয়েছে ছয় দফা। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষকে একাত্ম করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন, ‘দফা তো দিলাম ছয়টা, আসলে দফা দিলাম একটা’। এই এক দফা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাহাত্তরের বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ভিত্তিও ছিল এই ৬ দফা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে তৈরি করেছেন, কর্মসূচি দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শুধু দুই লাখ নয়, বর্তমান গবেষকরা বলেছেন- পাঁচ লাখ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের কয়েক মাসের মধ্যেই ছয় লাখ শিশু মারা গিয়েছিল। তখন এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের অনেকেই ওই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৩০ লাখ শহীদদের মধ্যে এই মৃত্যুর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল কি-না তা খুঁজে বের করা দরকার। এরপরও যখন কোনো রাজনৈতিক নেতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা মূলত দেশের স্বাধীনতাকে নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না।

তিনি বলেন, বাংলদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর নয়, পাঁচ হাজার বছর পরেও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি থাকতে পারে। যতদিন স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি থাকবে ততদিন এই বিপক্ষ শক্তিকে নির্মূলের জন্য স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার থাকতে পারে না।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতার স্বাস্থ্য ভাবনা ও বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সেবা সম্পর্কিত কার্যক্রম, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও অগ্রগতি, চক্ষু রোগসমূহের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ, করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন সচেতনামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ রচিত ‘নির্বাচিত কলাম’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছেন বিএসএমএমইউয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ সাইফুল ইসলাম শাহীন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল।

আলোচনা সভায় ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. খন্দকার মানজারে শামীম, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এমইউ/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]