পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢামেকের উদ্যোগে ফেলোশিপ কোর্স চালু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২৯ জুন ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এক বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিকমানের ইমারজেন্সি মেডিসিনের ফেলোশিপ সার্টিফিকেট (সিপিইএম) দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজে সিপিইএম কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশের যে কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক তৈরি করতে হলে এই ফেলোশিপ প্রোগ্রাম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করে।

বাংলাদেশে এ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু বলেন, বাংলাদেশে ইমারজেন্সি মেডিসিন বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশে জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের জীবন বাঁচাতে এই ফেলোশিপ কোর্স বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার নতুন উদ্যোগ ‘পেন গ্লোবেল ইমারজেন্সি মেডিসিন প্রোগ্রাম’ এর আওতায় অন্যান্য দেশের মতো এই আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেটের ফেলোশিপ প্রোগ্রাম বাংলাদেশে চালু করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দিন আহমেদ এর ছেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আহমেদ।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু জানান, এক বছর মেয়াদি এই ফেলোশিপ প্রোগ্রামে ২ মাস অন্তর অন্তর দুই সপ্তাহের জন্য আমেরিকা থেকে অধ্যাপকেরা বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন, বছর শেষে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে কৃতকার্যদের আন্তর্জাতিকমানের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

jagonews24

প্রতি বছর মাত্র ২৫ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হবে যারা পরবর্তীতে ইমারজেন্সি মেডিসিন বিভাগে কাজ করবেন। সরকারি চিকিৎসক ছাড়া ও কিছু বেসরকারি হাসপাতালের এবং মিলিটারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ও সুযোগ দেয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের থেকে ও ১০ জন অধ্যাপকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংযুক্ত করা হবে যেন ভবিষ্যতে এই প্রোগ্রামটি আরো ব্যাপকভাবে সম্প্রসার করা যেতে পারে। এই প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ ইমারজেন্সি বিভাগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে এবং ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশে এই প্রোগ্রামের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটোর হিসেবে কাজ করবেন যুক্তরাজ্য থেকে আসা ইমার্জেন্সি মেডিসিনের উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্ত ডা. মির সাদউদ্দিন আহমেদ সাদী, সহকারী প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে থাকবেন ঢাকা মেডিকেলে সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফ খান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস।

প্রোগ্রামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিটু মিয়া, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী, মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আহমেদুল কবীর ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইমার্জেন্সি মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

এছাড়া আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইমার্জেন্সি মেডিসিনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নাহরীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইমার্জেন্সি মেডিসিনের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যের কন্সাল্ট্যান্ট ডা. মহম্মদ আলম দায়িত্ব পালন করছেন।

এমইউ/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]