মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২১

‘মাতৃদুগ্ধ দান সুরক্ষায়, সকলের সম্মিলিত দায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবার মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সোমবার (২ আগস্ট) থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হবে।

সোমবার সকালে সপ্তাহব্যাপী এ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। যে জাতি শিশুদের কথা ভাবে না, সে জাতি খুব বেশি উন্নত হতে পারে না। আর দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত অবস্থানে দেখতে হলে আমাদের আজকের এবং অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে মায়ের দুধের বিকল্প নেই।’

বিভিন্ন জরিপের তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ পান করালে শিশু মৃত্যুহার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। আর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করালে (এক ফোটা পানিও নয়) শিশুর মৃত্যুঝুঁকি আরও ১৩ শতাংশ কমে। তাই শিশুর মৃত্যুহার রোধে এবং শারিরীক ও মানসিক বিকাশে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ পান; ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান ও ছয় মাস বয়সের পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত ঘরে তৈরি বাড়তি খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী শিশুর মায়ের দুধ পান করানোর হার এখন অনেক কম। মাত্র ৪৩ শতাংশ নবজাতককে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ পান করানো হয়। অপরদিকে ৪১ শতাংশ শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানো হয়। বাংলাদেশে এ হার বর্তমানে যথাক্রমে ৬৯ শতাংশ ও ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে শিশুর ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত এ হার ৮৭ শতাংশ, যদিও ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানোর হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ১-৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে নিরাপদে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে ঢাকা শহরে ২৫টি, বিভাগীয় শহরে ৫টি, জেলা শহরে ১৩টিসহ মোট ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু রয়েছে।

এছাড়াও গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের সন্তানের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রতিটিতে ৩০ আসনবিশিষ্ট ১৫টি দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু রয়েছে। হতদরিদ্র গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকালে মায়েদের ভাতা ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা করা হয়। মাতৃত্বকালীন ভাতার মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডাইরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান সভাটি সঞ্চালনা করেন।

এমইউ/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]