বন্যাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গবেষণায় জার্মানির সহযোগিতা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১

দেশে বন্যাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্পে সহযোগিতা করছে জার্মানি। ভয়াবহ বন্যার সময় মৃত্যুর প্রধান দুই কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া এবং সাপে কাটা। এসব অপমৃত্যু সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য, তবে এক্ষেত্রে আরও গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উদ্ভাবনসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বর্তমানে বাংলাদেশে জার্মানির সরকারি গবেষক এবং এনজিও অংশীদারদের সাথে 'ফ্লাডনেট' নামে একটি প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা করছে।

আজ বুধবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে অর্থনীতিতে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘটনা বারবার ঘটছে এবং ক্ষতিকর প্রভাবের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ উঁচু ও শুকনো জায়গায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে যায। জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরো জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, গবেষকরা বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে বন্যার সময় প্যারামেডিকেল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যাতে বন্যার সময় বিচ্ছিন্ন জনসাধারণকে মারাত্মক বন্যা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায়। গবেষণাটির জন্য দুটি উপজেলায় কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কোন কোন উপজেলা সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত হয়, কোন কোন উপজেলার মানুষ বন্যার সময় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়- এসব বিষয় বিশ্লেষণের পর উপজেলাগুলো নির্বাচন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গবেষকরা প্যারামেডিক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের সাধারণ মানুষদের জীবন রক্ষাকারী কিছু পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেবেন, যাতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ শনাক্ত করা যায়।

ডা. রোবেদ আমিন জানান, প্রকল্পটি চালকবিহীন ড্রোন ব্যবহার করার সম্ভাব্যতা যাচাই করবে, যাতে জরুরি ওষুধ দ্রুত এবং সাশ্রয়ীভাবে বন্যাকবলিত এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। উপরন্তু প্রকল্পটি সাপসহ অন্য প্রাণীর কামড় এবং বিষক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট জরুরি অবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপন, পরিচালনা ও মূল্যায়ন করবে।
টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (টিএসবি) সভাপতি এবং ফ্লাডনেটের জাতীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক এম এ ফয়েজ বলেন, বিষক্রিয়া থেকে বাঁচানোর জন্য এমন কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাংলাদেশে নেই- যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক এম এ ফয়েজ আরও বলেন, এই প্রকল্পে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা তথ্য - উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে বিষক্রিয়া প্রতিরোধে জাতীয় তথ্যকেন্দ্র তৈরি করার লক্ষ্য অর্জনের একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছাড়াও সামরিক চিকিৎসা সেবা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএমএস), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিডিএম), আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি), সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি), টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (টিএসবি) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইনফেকশাস অ্যান্ড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস (বিএসআইটিডি) তাদের জার্মান অংশীদার- গ্যোটে ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুর্ট, আরডব্লিউটিএইচ, আচেন ইউনিভার্সিটি এবং আইএসওই ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল-ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ফ্রাঙ্কফুর্ট এক সঙ্গে এই প্রকল্পে সহযোগিতা করবে।

এ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অনুদান দ্বারা অনুমোদিত।

প্রকল্পের সমন্বয়কারী ড. উলরিখ কুচ (গ্যোটে ইউনিভার্সিটি, ফ্রাঙ্কফুর্ট) জানান, ইন্টারন্যাশনাল ডিজাস্টার অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ফান্ডিং কর্মসূচির দ্বারা বিশ্বব্যাপী অনেক প্রস্তাবনার মধ্য থেকে এই ধরনের ছয়টি প্রকল্প নির্বাচিত করে, যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য জাতিসংঘের সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি জার্মান অবদান।

২০১৫ সালের বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা গ্রহণের পর সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক ছিল এক্ষেত্রে প্রথম কোনো বড় চুক্তি। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের তৃতীয় বিশ্ব সম্মেলনের পর চুক্তিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যক্তি, ব্যবসা, সম্প্রদায় ও দেশের দুর্যোগঝুঁকি, প্রাণহানি, জীবিকা ও স্বাস্থ্য, আর্থিক, শারীরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পক্ষে সমর্থন আদায় করা হয়।

এমইউ/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]