‘শেখ রাসেল চাইল্ডহুড ক্যানসার সারভাইভর গ্যালারি’ উদ্বোধন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:০৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শিশু ক্যানসার সচেতনতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘শেখ রাসেল চাইল্ডহুড ক্যানসার সারভাইভর গ্যালারি’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের তৃতীয় তলায় শিশু হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগে এ গ্যালারির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

পরে শেখ রাসেলের জীবনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিকেলে এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল যদি বেঁচে থাকতেন দেশকে অনেক কিছুই দিতে পারতেন। শেখ রাসেলের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর মতোই বন্ধুবৎসল গুণাবলি বিদ্যমান ছিল।

তিনি বলেন, শেখ রাসেলকে যারা হত্যা করেছে সেই পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বর্তমানেও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, যারা দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তাদের সেই দুঃস্বপ্ন কোনোদিনও বাস্তবায়ন হবে না।

এসময় মন্ত্রী শেখ রাসেলের নিমর্ম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নেপথ্যের খুনিদের খুঁজে বের করতে একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ রাসেল আমাদের অনুপ্রেরণা। আজ যদি শেখ রাসেল বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি ৫৭ বছর পূর্ণ করে ৫৮ বছরে পদার্পণ করতেন। এই বয়সে তিনি নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সামিল হতেন। ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে তার বোন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে থেকে আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করতেন। হয়তো তিনি বিজ্ঞানী অথবা জাতির পিতার মতো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার কান্ডারি হতেন। কিংবা হতে পারতেন বার্ট্রান্ড রাসেলের মতোই স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল বিশ্বমানবতার প্রতীক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারিয়েছেন তার আদরের ছোটভাইকে আর বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় প্রতিভাবান সন্তানকে। শেখ রাসেল আজ প্রতিটি শিশু কিশোর তরুণের কাছে ভালোবাসার নাম। মানবিক বেদনাবোধ সম্পন্ন মানুষেরা শেখ রাসেলের বেদনার কথা হৃদয়ে ধারণ করে চিরদিন শিশুদের জন্য কাজ করে যাবে। শেখ রাসেলের হত্যাকারী পাকিস্তানি প্রেতাত্মা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বর্তমানেও সক্রিয়। এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্মূল করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, শিশু হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ টি এম আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/ইউএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]