দেশে প্রথমবারের মতো থ্যালাসেমিয়া রোগীর ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ১১ মে ২০২২
সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশুর দেহে সফলভাবে ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’ করেছে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল। যা বাংলাদেশে প্রথম। এর মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বুধবার (১১ মে) রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

হ্যাপলো বা হাফ ম্যাচ ট্রান্সপ্লান্ট এমন এক পদ্ধতি যেখানে পরিবারের যে কেউ- যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন ডোনার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে রোগীর ব্লাড ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কোঅর্ডিনেটর এবং জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, সাধারণত শিশুর ২-৫ বছর বয়সের মধ্যেই এই ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। তবে দুই বছরের আগেও করা যায়। দেশে প্রথমবারের মতো গত ৫ মে, ২১ মাস বয়সী শিশুর হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে শেষ হয়।

jagonews24

এই চিকিৎসক জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। জিনগত বিভিন্ন ডেলিশন, মিউটিশনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, যাদের অধিকাংশই এ বিষয়ে অবগত নয়। কারণ তাদের বেশিরভাগই বাহক বা ক্যারিয়ার যা সহজে ধরা পরে না, ফলে একে সাইলেন্ট কিলারও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫০-৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী আছেন যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন। বর্তমানে এই রোগের একমাত্র কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট।

চিকিৎসার প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে ডা. আবু জাফর বলেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ডোনার পাওয়া। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগীর পরিবার ছোট আকারের হওয়ায় ডোনার পাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের নিচে। তাই এর বিকল্প হিসেবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

এসময় প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের জন্য সব প্রকার চিকিৎসা সাশ্রয়ী মূল্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে।

হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এএএম/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]