বিএসএমএমইউয়ে চালু হচ্ছে ইভিনিং সার্জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১৯ মে ২০২২

রোগীদের সুবিধার্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইভিনিং শিফটে সার্জারির কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এসময় ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) নিয়ন্ত্রণে গণসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব আইবিডি দিবস-২০২২ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, রোগীদের সুবিধার্থে ও চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে বিএসএমএমইউয়ে ইভিনিং শিফটে সার্জারির কার্যক্রম চালু করা হবে। এছাড়া দেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আগামী দুই মাসের মধ্যেই দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজ হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলেও আশা করছি।

আইডিবি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পেটের প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনা বাড়াতে হবে। দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এ রোগে ভুগছেন। পরিপাকতন্ত্রের এ রোগের মাধ্যমে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। আইবিডি বা পেটের প্রদাহজনিত এ রোগ নিরাময়যোগ্য না হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং আগেভাগে রোগটি চিহ্নিত হলে ক্যানসার থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।’

jagonews24]

‘আইবিডি যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে ‘আইবিডি এক্সপ্রিয়েন্স ইন বিএসএমএমইউ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও আইবিডি ফ্রি ট্রিটমেন্ট ক্লিনিকের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ এটি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে ক্লিনিকটি পরিচালনা করছি। পেটের প্রদাহজনিত রোগ বা আইবিডি বলতে দুটি আলাদা রোগ আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোনস ডিজিজকে বুঝায়। এ পাঁচ বছরে ৬১৭ জন রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯০ জন ক্রোনস ডিজিজ ও ৩২৭ জন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগী রয়েছেন। মোট রোগীর ৬০ শতাংশ পুরুষ ও ৪০ শতাংশ নারী। রোগীদের প্রায় সবাই ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। অর্থাৎ তরুণদের মধ্যে রোগটির প্রকোপ বেশি। তবে একেবারে কম বয়স থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সীদেরও এ রোগ হতে পারে। শহরের লোকজনের মধ্যে রোগটির প্রকোপ একটু বেশি হলেও গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যেই এ রোগের প্রবণতা কাছাকাছি। শ্রেণি বিবেচনায় গরিব ও ধনী রোগী সমান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স্বপন কুমার তপাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এএএম/এমএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]