বেড়েই চলেছে চোখে ছানি পড়া রোগী, বছরে আক্রান্ত লাখের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

সারা বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের প্রধান কারণ হলো চোখের ছানিজনিত অন্ধত্ব। বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখের বেশি ছানি পড়া রোগী রয়েছে। প্রতি বছর নতুন করে এক লাখ ৩০ হাজার রোগী যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগীই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। ফলে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসার আওতামুক্ত থেকে যাচ্ছেন।

বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত চোখের ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্লেকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন চক্ষু চিকিৎসকরা।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, আগে ছানি অপারেশন করতে অনেকেই ভয় পেতো। কিন্তু এ ভয় এখন অনেকটা দূর হয়েছে। তবে চোখের রোগ নিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ জনবল খুবই কম। আমাদের এ সংকট কমাতে হবে। বেশি বেশি চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। শুধু চক্ষু চিকিৎসক নয়, তাদের সার্জারিও বিষয়েও জ্ঞান থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ২০৩২ সালের মধ্যে দেশে ৩ হাজার ২০০ জন চক্ষু চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়বে। এখন আছে মাত্র এক হাজার ৪০০ জন।

বিএসসিআরএসের বৈজ্ঞানিক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখের বেশি ছানি পড়া রোগী রয়েছে। প্রতি বছর নতুন করে এক লাখ ৩০ হাজার রোগী যোগ হচ্ছে।

এসব রোগীর মধ্যে এক লাখ সেবা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ ছানি সার্জনের অভাবে সব রোগীর চিকিৎসকের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না- যোগ করেন তিনি।

ছানি পড়া রোগীর ৮০ শতাংশই গ্রামে বসবাস করেন জানিয়ে তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মিনিটেই চোখের ছানি অপারেশন করা সম্ভব। এতে কোনো ধরনের ব্যথা নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে এ সেবা দিচ্ছে সরকার।

ছানি অন্ধত্ব প্রতিরোধে সারা বিশ্বে সচেতনতা বাড়াতে এ বছরের জুনে পালিত হচ্ছে ছানি সচেতনতার মাস। সভায় বক্তারা জানান, চোখের ছানিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে।

বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জাফর খালেদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাক আহমেদ। এতে উপস্থিত ছিলেন ছানি সার্জন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ডা. আব্দুর রকিব তুষার ও ডা. মো. শওকত কবির প্রমুখ।

এএএম/এমপি/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]