বিএসএমএমইউ

নিয়ম না মেনে নিয়োগের সুপারিশ, ভিসি বলছেন ব্যত্যয় নয়

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২২
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়/ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় দুই সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের সুপারিশ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। গত ২০ ও ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেটের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বললে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়।

২০২১ সালের ৪ অক্টোবর একটি সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিএসএমএমইউ। বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদে প্রায় ৪০ জনের মতো জনবল নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাইও করেছে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি। বিভিন্ন বিভাগের পদের বিপরীতে প্রত্যাশিত লোক নিয়োগের সুপারিশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চারজন সহকারী অধ্যাপকও রয়েছেন। এর মধ্যে দুজন হলেন ডা. মো. আশরাফুজ্জামান ও ডা. মানস কান্তি মজুমদার। তারা ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন থেকে পাস করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তারা আবেদনের যোগ্যতাই রাখেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. মো. আশরাফুজ্জামান ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডা. মানস কান্তি মজুমদার ওই শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক চিকিৎসক অভিযোগ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে- এমডি/এফসিপিএস ইন অ্যানেস্থেসিয়া। কিন্তু এমডি (ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন) থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দুজনকে, যাদের এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করারই যোগ্যতা নেই।

‘এই দুজনকে এভাবে নিয়োগ দিলে পুরো প্রক্রিয়াটা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন।’ দাবি ওই বিভাগের চিকিৎসকদের।

বঞ্চিতরা বলছেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন থেকে নিয়োগের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। অথচ অ্যানেস্থেসিয়াতে সেই বিষয়ের লোক বাদ দিয়ে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের লোক নিয়োগ হচ্ছে। এটা তো সরাসরি নিয়মের ব্যত্যয়। পাশাপাশি এটি এক ধরনের বৈষম্যও।

তবে এটি নিয়মের ব্যত্যয় নয় বলে দাবি করেছেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সমসাময়িক বা সমযোগ্যতার সবাই। যার কারণে এটি নিয়মের ব্যত্যয় নয়। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সিন্ডিকেট এটি অনুমোদন করেছে।

পরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিষয় উল্লেখ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে নিয়োগের সময় বিষয়টি সমন্বয় করে নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও নার্সিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক বলেন, এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন একই বিভাগের অধীনে। আমরাই তাদের ডিগ্রি দেই। বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। যে কারণে এটি নিয়মের ব্যত্যয় হয়। তবে আমরা কারেকশন করে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।

পরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাদের নিলে তো প্রশ্ন ওঠে না, কিন্তু এই চলমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তো ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে এই সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা এখনো পাইনি। এজন্য এগুলো নিয়ে বলা ঠিক হবে না। উপাচার্য স্যারকে জিজ্ঞাসা করলে এর যথাযথ জবাব পাবেন।

এসইউজে/ইএ/এএসএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।