ক্যানসার চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০২২

খাদ্যাভ্যাস আর অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের জন্যই দেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর আড়াই লাখ মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু ক্যানসার চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। বিশেষ করে যাদের রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হয় সেসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে অনকোলজি ক্লাব আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ক্যানসার কংগ্রেসে’ এসব কথা বলেন তারা।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ ও ক্যানসার কংগ্রেসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ হাই বলেন, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, যা আশঙ্কাজনক। দেশে বর্তমানে বিপুল জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত, যার অধিকাংশই চিকিৎসার আওতার বাইরে। আমাদের প্রধান সমস্যা ডায়াগনসিস না করা।

তিনি বলেন, সরকার সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিট করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। গত কয়েক বছরে কিছু অবকাঠামো গড়ে উঠলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখনো অনেক পিছিয়ে। সারাদেশে মাত্র ২৪টি রেডিওথেরাপি মেশিন আছে। আরও অন্তত ৮০টি প্রয়োজন। যা সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। যেহেতু উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায় এখানে এখনো স্বাস্থ্যবিমা গড়ে ওঠেনি, ফলে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে রোগী বা তার পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এটি কমাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

দেশে ক্যানসার চিকিৎসার আধুনিকায়নে মানসম্পন্ন ও দক্ষ জনবল তৈরি করাই অনকোলজি ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য জানিয়ে ডা. হাই বলেন, ক্যানসার জয় করতে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান ক্যানসার রোগী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে তরুণ চিকিৎসকদের।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় আমাদের প্রধান সমস্যা গবেষণা নেই। এখনো দেশে প্রতিবছর কত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। ফলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থাও গড়ে উঠছে না। বিশ্বজুড়েই ক্যানসার চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। আমাদের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত। তাদের একার পক্ষে এই অর্থ বহন করা সম্ভব নয়। তাই দরকার সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা রেডিওথেরাপি মেশিন সংকট। সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়া আমাদের এই অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আমাদের দেশে নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ু ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু স্তুন ক্যানসারের সচেতনতায় যতটা জোর দেওয়া হয়, সে তুলনায় জরাযু ক্যানসারে হচ্ছে না।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের একাডেমিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ইতালির বলোনিয়া ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টার সিঙ্গাপুর, ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল ও রাজীব গান্ধী ক্যানসার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার।

সবমিলিয়ে এই আযোজনে বিশ্বের ১৮টি দেশের মোট ৪০ জন বিখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞসহ ৭৫০ জন চিকিৎসক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন।

এএএম/কেএসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।