কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই আঁকাবাঁকা শিরার চিকিৎসা বিএসএমএমইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৩ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২২
অত্যাধুনিক আরএফএ মেশিনের উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই রক্তনালীর আঁকাবাঁকা শিরার (ভেরিকোস ভেইন) চিকিৎসা শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক আরএফএ মেশিনের সাহায্যে এই চিকিৎসা দেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

দেশের বাইরে গিয়ে এই চিকিৎসায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়। সেই তুলনায় বিএসএমএমইউতে স্বল্প মূল্যে এর চিকিৎসা করা হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিএসএমএমইউয়ের ডি ব্লকে ভাস্কুলার সার্জারি আয়োজিত অত্যাধুনিক আরএফএ মেশিনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, যারা দিনরাত দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করেন, তাদের পায়ের গোড়ালি ও রক্তনালীর শিরায় নানা সমস্যা দেখা দেয়। এসব মানুষের কিন্তু অনেক বেশি টাকা নেই যে দুই-তিন লাখ খরচ করে এর চিকিৎসা করবেন। আমরা কোনোরকম কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই রক্তনালীর জটিল আঁকাবাঁকা শিরায় উন্নত প্রযুক্তির আরএফএ মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা করবো। এমনকি, মাত্র এক থেকে দুইদিনের মধ্যে রোগীকে বাড়িতে চলে যেতে পারবেন। একদিনের মধ্যেও অনেক রোগী বাড়ি চলে যেতে পারবেন।

খরচ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে যেখানে এই চিকিৎসায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে আমাদের হাসপাতালে মাত্র ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে। এমনকি গরিব-অসহায় রোগী যারা আছেন তাদের মধ্য থেকে ৮০ জনকে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবো।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য প্রচুর লোক বিদেশে যায়। অথচ আমাদের হাসপাতালে এই সার্জারিগুলো হচ্ছে। রোগীদের এখন আর বিদেশ যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, একটা সময় আমাদের ভাস্কুলার সার্জারি বিষয়ে কোনো কোর্স ছিল না, শিক্ষক ছিল না। এমনকি বিভাগে কোনো বেড ছিল না। আস্তে আস্তে একজন-দুইজন করে শিক্ষক হয়েছেন, বেডও হয়েছে। একটা পর্যায়ে এসে ৩০০টি সার্জারি এই বিভাগে হয়েছে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, জাতির পিতার নামে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা কর্মরত তাদের সারাদেশের কথা ভাবতে হবে। কারণ সারাদেশের মধ্যে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন আমাদের এখানে শুধু। এখান থেকে পাস করে শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ হন। আর এখান থেকে পাস করেই জেলা উপজেলায় কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। অর্থাৎ আমাদের অনেক দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য আরও বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এই সেতুর কারণে এখন খুলনা থেকেও তিন ঘণ্টার মধ্যে রোগী ঢাকায় এসে চিকিৎসা নিতে পারেন। আর ওই রোগী যদি আমার স্ট্রোক সেন্টারে আসে, তাহলে সুস্থ হয়ে সাত দিনের মধ্যে বাড়ি চলে যেতে পারবেন। দিনের পর দিন আর বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ খান। আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ও হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাস্কুলার সার্জারি সার্জন ডা. সমরেশ চন্দ্র সাহা। এসময় নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সবুজ, ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রবিকুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক (সার্জিক্যাল অনকোলজি) ডা. মো. রাসেল, হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুম আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এএএম/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।