ফিজিওলজিস্ট সংকটে পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে মিটফোর্ড হাসপাতালে আয়োজিত আলোচনা সভা

প্রতিবন্ধকতা বা বিশেষ চাহিদা শুধু জন্মগত দুর্বলতা নয়, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতাজনিত কারণেও হতে পারে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। সেই হিসাবে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচ শতাংশ পুনর্বাসনের সুযোগ পায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এর কারণ হিসেবে ফিজিওলজিস্ট সংকটকে দায়ী করেছেন তারা।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ও মিটফোর্ড হাসপাতালে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা জানান তারা। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ।

আলোচকরা জানান, সারাবিশ্বে মোট জনগোষ্ঠীর ১৫ শতাংশ মানুষ শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই বসবাস করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ পুনর্বাসনের আওতায় আসেন। এ প্রক্রিয়া ফিজিওলজিস্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অথচ আমাদের দেশে ফিজিওলজিস্টের সংখ্যা খুবই কম।

তবে দেশে এ পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে তারা বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সেবার পরিধি বাড়ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ শতাধিক এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ১০৩ সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে তাদের সেবা দেওয়া হয়। সারাদেশের ৩০ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে ১৪টিতে রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ রয়েছে। এছাড়া ৬টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ৮ বেসরকারি হাসপাতাল, ৪০ জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৬৪ উপজেলায় রয়েছে রিহ্যাবিলিটেশন সার্ভিস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা লেনিন বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান হারে প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। আমরা তাদেরকে প্রতিবন্ধী বা অক্ষম না বলে সাহায্য প্রয়োজন এমন মানুষ বলি। অক্ষম শব্দটি তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। সারাদেশ থেকে এসব রোগী রাজধানী ঢাকায় আসেন। ফলে এত বেশি রোগী হয় যে, সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় আমাদের দায়িত্বশীলদের বুঝাতে হবে ফিজিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসা জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ছড়িতে দেওয়া দরকার। এতে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চাপ কমবে। রোগীও ভালো সেবা পাবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী রশিদুজ্জামান বলেন, যেকোনো সময়, যেকোনো মানুষ ডিজঅ্যাবল হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চলাচলের ক্ষমতা ও চোখের দৃষ্টি কমে আসতে পারে। প্রতিবন্ধী মানেই অটিস্টিক না। যেকোনো ডিজঅ্যাবল ব্যক্তিই প্রতিবন্ধী। যেটা, আমি আপনি সবাই হতে পারি। তাই এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা দরকার। তাদের প্রতি সদয় হয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খান বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। এখন এটি আর শুধু প্রতিবন্ধী দিবস না, শারীরিকভাবে অক্ষম সবাইকে নিয়ে এই দিবস। ইউরোপ, আমেরিকা ও আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশের চিন্তাধারায় বিরাট পার্থক্য। এটি দূর করতে হবে। সমতা নিশ্চিতে আমাদের সবাইকে হতে হবে আন্তরিক ও সদয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিডফোর্ট হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. রুহুল আমিন। এতে প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আহমেদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. হাসান মাসুদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম, নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলাম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এহসানুল হক খান এবং অধ্যাপক ডা. খুরশীদ মাহবুব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন।

এএএম/কেএসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।