আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

পাঁচ বছরের শিশু মাইশা। সম্প্রতি হাতের অপারেশন করার জন্য মাইশাকে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। কিন্তু এ অপারেশনই কাল হলো তার জীবনে। হাতের চিকিৎসায় কাটা হয় পেট। অবস্থা বেগতিক হলে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য। এর মধ্যেই মারা যায় মাইশা।

রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাইশার অপারেশন করা হয়। মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় ওই হাসপাতালতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের নেই নিবন্ধন সনদ। বেআইনিভাবে চালছিল হাসপাতালটি। পরে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের পরিদর্শন কার্যক্রমের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মানুগভাবে নিবন্ধিত নয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া পরিদর্শন দল প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে এ অবৈধ কাজ তথা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে লিখিতভাবেও এ অবৈধ প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার সকালে মাইশার বাড়িতে চলছিল শোকের মাতম। মেয়ের এমন ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তার বাবা-মা, স্বজন ও প্রতিবেশী। তারা মাইশার মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্ত করার দাবি জানান। কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়ার মোজাফফর আলী ও বেলি আক্তার দম্পতির মেয়ে মারুফা জাহান মাইশা।

শিশু মাইশার পরিবার বলছে, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আহসান হাবীব শরণাপন্ন হন মাইশার বাবা মোজাফফর। শিশু মাইশার হাত দেখে চিকিৎসক তাদের জানান, অপারেশন করলে মাইশার হাত স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সেই অনুযায়ী গত বুধবার সকালে ঢাকায় মিরপুর রূপনগরে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের অপারেশন হয় মাইশার। কিন্তু ঘণ্টা দেড়েক পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় শিশুটির অবস্থা খারাপ, তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিতে হবে। হতবিহবল বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে ছোটেন মিরপুর ১ এর মাজার রোডের ওই হাসপাতালে। সেখানে নেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় শিশুটি মারা গেছে, তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে।

মাইশার বাবা মোজাফফর জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনের খরচ বাবদ নেওয়া টাকা তাদের ফিরিয়ে দেয়। মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করে দেয়। বাড়ি ফিরে মাইশাকে দাফনের জন্য গোসল করাতে গিয়ে নারীরা দেখতে পান, শিশু মাইশার নাভির নিচে পুরো পেট জুড়ে কেটে সেলাই করা হয়েছে। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। কিন্তু ঢাকায় অপারেশন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ চলে যায়। পরে নিরুপায় হয়ে মাইশাকে দাফন করা হয় বাড়ির আঙিনায়।

এ ঘটনায় চিকিৎসকের কাছে হাতের আঙুল অপারেশন করার সময় পেট কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক ডা. আহসান হাবিব জানান, এটা শিশুটির পরিবারকে জানিয়ে করা হয়েছে। হাতের আঙুল অপারেশন করে ওই স্থানে স্কিন সংযুক্ত করার জন্য পেট থেকে স্কিন নেওয়া হয়েছিল। পরিণত বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে পায়ের থাই থেকে চামড়া নেওয়া হয়। কিন্তু শিশুটির থাই সরু থাকায় তার পেট থেকে চামড়া নিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।

তাহলে হাতের অপারেশন করতে গিয়ে মাইশার মৃত্যুর কারণ কী, এমন প্রশ্নে ওই চিকিৎসক বলেন, আমি নিজেও অপারেশন থিয়েটারে প্রায় আধ ঘণ্টা ছিলাম। সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। পরে আমি আমার বাসায় চলে যাই। পরে শিশুটির মৃত্যুর কারণ জানতে ওই সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি তখন জানান, সম্ভবত অ্যানেসথেসিয়ার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এখানে অন্য আর কোনো কারণ নেই। তবে পুরো ঘটনায় আমি নিজেও মর্মাহত।

এএএম/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।