ICC ODI Worldcup 2023
বাংলাদেশ

Team Image

কতদূর যেতে পারবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু। অথচ এই খেলা বাংলাদেশে কখনোই প্রধান খেলা বা জনপ্রিয় খেলা ছিল না। বরং ফুটবল ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ছিল বলা হচ্ছে, কারণ জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে ফুটবল এখন তলানিতে। সে স্থান অনেক আগেই দখলে নিয়েছে ক্রিকেট।

বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশ এখনও পরাশক্তির কাতারে নাম লেখাতে না পারলেও দারুণ সমীহ জাগানিয়া একটি দল। যে কোনো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে এখন আর আগেভাগে বাদ দেয়ার তালিকায় রাখতে পারে না কেউ।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ সময়ের অন্যতম প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ শুরুর দুইদিন পর অর্থাৎ ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে।

১১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে বাংলাদেশর গ্রুপ পর্ব। এর মাঝে বাংলাদেশ ক্রমানুসারে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে।

পরিসংখ্যান দিয়েও একটি দেশের অবস্থা অনুধাবন করা যায়। দলটি আসন্ন টুর্নামেন্টে কেমন করতে পারে তারও ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্বকাপের আগে মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ কেমন ছিল তা জেনে নেওয়া যাক।

সর্বশেষ ১০ দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশে সাফল্যের মধ্য গগনে ছিল- এমনটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ১০ সিরিজের সাতটিতেই সাফল্যের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। হেরেছে তিন সিরিজে। যে তিনটিতে হেরেছে সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে- এই দুই দলের বিপক্ষে সিরিজের হার এখনো সমর্থকদের মনে কাটা দেয়। জয় পাওয়া সাত সিরিজে প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও আয়ারল্যান্ড। এসব সিরিজের সবগুলো যে নিজেদের মাঠে খেলেছে তা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠে হারিয়েছে।

বিশ্বকাপ আসরে অবশ্য বাংলাদেশের পরিসংখ্যান স্বস্তিদায়ক নয়। এ পর্যন্ত ছয়টি আসরে বাংলাদেশ খেলেছে। ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলে লাল সবুজের দেশটি। ছয় আসরে দুইবার তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ২০০৭ সালের টুর্নামেন্টে উঠেছিলো সুপার এইটে। ২০১৫ বিশ্বকাপে উঠেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই সময়ের তারকাখচিত পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল শিরোপা প্রত্যাশী দলটিকে। একই আসরে প্রথমে হারিয়েছিলো স্কটল্যান্ডকে। যা বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

২০০৩ সালে পরের আসর থেকে বাংলাদেশ ফিরেছিলো শূন্য হাতে। কোনো ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি। বরং, কানাডা-কেনিয়ার মত দলের কাছেও পরাজিত হয়েছিলো টাইগাররা।

পরের সব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তিনটি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে। এসব জয় যেমন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে এসেছে, তেমনি পরাশক্তির বিপক্ষেও সাফল্যের হাসি হেসেছে। হারিয়েছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার বাংলাদেশের শিকারে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। এই দুই দেশকে দুইবার করে হারিয়েছে তারা।

বিশ্বকাপের ছয় আসরে বাংলাদেশ ৪০টি ম্যাচ অংশ নিয়েছে। জয়ের সংখ্যা ১৪ এবং হার ২৫ ম্যাচে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৪১৭ ম্যাচে অংশ নিয়েছে। ১৫৩ ম্যাচে জয় তাদের, হার ২৫৫ম্যাচে।

বিশ্বকাপে আগের ছয় টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যানে এবারের বাংলাদেশকে বিচার করলে ভুল করা হবে। কেননা বর্তমান বাংলাদেশ অনেক পরিণত। সর্বশেষ কয়েকটা সিরিজই তার প্রমাণ। ইংল্যান্ডে কাছে সিরিজ হারলেও তিন ম্যাচের সিরিজে একটা ম্যাচে তাদেরও হারিয়েছিল টাইগাররা।

বাংলাদেশ দলের এবার ভালো করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। আবার ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কাও কম নয়। কেননা এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাট একটু ভিন্ন ধরণের। সুপার এইট বা কোয়ার্টার ফাইনালের ব্যবস্থা নেই। গ্রুপ পর্ব শেষে সেমিফাইনাল। ফলে সেমিফাইনাল খেলতে হলে ১০ দলের এবারের বিশ্বকাপে শীর্ষ চারে থাকতেই হবে। সে জন্য অন্তত ৬টি ম্যাচ তো জিততেই হবে টাইগারদের।

বর্তমান ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০ দলের ৯টি রয়েছে বিশ্বকাপে। দশ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাছাই পর্ব পার হতে পারেনি। সেই পর্ব হয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল ২০১৭ সালে। সে সময় ছয়ে উঠেছিল সাকিব আল হাসানরা।

একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটার নিয়ে গড়া বাংলাদেশ এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তত সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাওহিদ হৃদয়ের মতো ব্যাটাররা। অন্যদিকে বল হাতে আগুন ঝরাতে প্রস্তুত তাসকিন আহমদে, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ কিংবা তানজিম হাসান সাকিবরা। আর ঘূর্ণি বলের ফাঁদ নিয়ে তৈরি রয়েছেন সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও মাহদি হাসানরা।

Captain Image

সাকিব আল হাসান

জন্ম: ২৪ মার্চ, ১৯৮৭; বয়স: ৩৬

ব্যাকগ্রাউন্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে যে দুইজন সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন তাদের মধ্যে সাকিব আল একজন। অন্যজন মুশফিকুর রহিম। শৈশবেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি সাকিবের। কাজই ছিল ক্রিকেট খেলা। এ গ্রামে, ও গ্রামে বিভিন্ন দলে ভাড়াটে খেলোয়াড় হিসেবে খেলতেন তিনি। অন্য সব ম্যাচের মতোই একদিন আক্রমণাত্মক বোলিং এবং ব্যাটিং করেছিলেন। পাশাপাশি স্পিন বোলিং করেছিলেন কিন্তু সেদিন তা তেমন একটা কার্যকরী ছিল না। এ সব খেলায় টেপ টেনিস বল ব্যবহার হতো। তবে প্রকৃত ক্রিকেট বলে তিনি প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন।
২০০৩ সালে অনুর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেন সাকিব আল হাসান। পরের বছর খুলনার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০০৫ সালে তিনি অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মাঠে নামেন।
২০০৬ সালের আগষ্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিব প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। একই বছরে সাকিবের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়। টেস্ট অভিষেক ২০০৭ সালে, প্রতিপক্ষ ছিল ভারত।

অধিনায়কত্ব

অনেকটা হঠাৎ করেই দলকে প্রথমবার নেতৃত্ব কাঁধে নিতে হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে সাকিব দলকে নেতৃত্ব দেন। অবশ্য এর আগে সে সময়ের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের পরিবর্তে সাকিবকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাকিবের ওপর চাপ হতে যেতে পারে এমন শঙ্কায় তাকে সে সময় নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি। এবারের বিশ্বকাপে অবর্শ সাকিবের নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবাল অধিনায়কত্ব সরে দাঁড়ান। তারই ধারাবাহিকতায় সাকিব বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যত সাফল্য

অধিনায়ক হিসেবে সাকিব ওয়ানডেতে ৫৪ ম্যাচে দলকে নেতৃত্বে দিয়েছেন। ২৪ ম্যাচে জয় পেয়েছেন। তার দল হেরেছে ২৯ ম্যাচে। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথম অ্যাওয়ে টেস্টে জয়ের দেখা পায়। একই সঙ্গে সিরিজও। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২২-২৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই প্রথম বাংলাদেশের টি-২০ সিরিজ জয়।

ব্যক্তিগত রেকর্ড

বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কীর্তির তালিকা বেশ লম্বা। ২০১৫ সালে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির র্যাংকিংয়ে তিন ফরম্যাটের অল রাউন্ডার ক্যাটাগরিতে শীর্ষ স্থান দখল করেন।

একমাত্র অলরাউন্ডার হিসেবে ৭০০০ রান ও ৩০০ উইকেট শিকার করা একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিতে রয়েছে সাকিব আল হাসানের নাম।

প্রথম স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে এক মাঠে ১০০ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার তিনি। টি-টোয়েন্টিতে একই রেকর্ডের নামটা সাকিব আল হাসানের। টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছানোর দ্রুততম ক্রিকেটার বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ২০২১ সালে আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেট একাদশের জন্য নির্বাচিত হন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত তিনি। মোনার্ক হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান তিনি। অ্যান্টি করাপশন কমিশন ও ইউনিসেফের গুডইউল অ্যাম্বাসাডর। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গেও জড়িত বাংলাদেশ অধিনায়ক।

Coach Image

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে

জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮; বয়স: ৫৪

কোচিং ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতা

প্রথম শ্রেণী ক্রিকেট থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুমে অবসর নেওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে এক বছরের চুক্তি হয় তার। আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে আসেন তিনি। দায়িত্ব নেন শ্রীলঙ্কা এ দলের। চুক্তি শেষে তিনি শ্রীলঙ্কার মূল দলের সঙ্গে যুক্ত হন। সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। কিন্তু একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করতে না পারায় চলে যান অস্ট্রেলিয়াতে। ২০০১ সালের বিশ্বকাপের জন্য কানাডার দায়িত্ব নেন। বিশ্বকাপের পর হাথুরুসিংহে নতুন ঠিকানা খুঁজে নেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডারের হয়েও কাজ করেছেন তিনি।

২০১৪ সালের মে মাসে হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান। তিন বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি সরে দাঁড়ান এবং শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেন। এ বছরের শুরুতে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং পুরানো দায়িত্ব ফিরে পান।

সাফল্য

বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে দারুণ সব সাফল্যের দেখা পান হাথুরুসিংহে। অবিশ্বাস্য সব সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশকে। ভারত, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ নয়, সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখান। এখানে শেষ নয়, টেস্টেও সাফল্য রয়েছে তার। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয় করে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জয় পায়। প্রথম দুই দলের বিপক্ষে টেস্ট জয় নিজেদের মাটিতে হলেও শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতে হারিয়েছিল।

সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে এ পর্যন্ত যত কোচ কাজ করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হাথুরুসিংহে। দারুণ এক ঝাঁক ক্রিকেটার তার এই সাফল্যের পেছনের কারিগর। নিজেদের দিনে যারা যে কোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। বল হাতে যেমন ব্যাট হাতেও তেমন বিধ্বংসী সব সেনাদের নিয়ে বিশ্বকাপের মিশনে যাচ্ছেন হাথুরুসিংহে। বড় বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই তার ওপর বিশ্বকাপের পরিবেশটা এখন অনেক বেশি পরিচিত। সে সঙ্গে পরিচিত স্বাগতিক পরিবেশও। সব মিলিয়ে হাথুরুসিংহের সামনে একটা সম্ভাবনা তো থাকছেই।

ব্যক্তিগত জীবন

ক্রিকেটই জীবন হাথুরুসিংহের তবে ব্যক্তিগত জীবনকে উপেক্ষা করে নয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ। অবসর সময়টা বিভিন্নভাবে উপভোগ করে থাকেন তিনি। গান শুনতে ভালোবাসেন। গিটারে ভারো সুর তুলতে দক্ষ তিনি। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এবং জ্ঞান তাকে পৌঁছে দিয়ে অন্য এক উচ্চতায়।

বাংলাদেশ স্কোয়াড

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।

ব্যাটার

নাম

ম্যাচ

ইনিংস

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০/৫০

নাজমুল হোসেন শান্ত

৩০

২৯

৯০৮

১১৭

৩১.৩১

২/৫

লিটন দাস

৭৭

৭৬

২২৫০

১৭৬

৩২.৬০

৫/১০

মুশফিকুর রহিম

২৫৬

২৩৯

৭৪০৬

১৪৪

৩৭.০৩

৯/৪৬

তানজীদ হাসান

৩৪

১৬

৮.৫০

০/০

তৌহিদ হৃদয়

১৭

১৫

৫১৮

৯২

৩৭.০০

০/৫

 বোলার

নাম

ম্যাচ

উইকেট

গড়

৪/

সেরা

ইক. রেট

হাসান মাহমুদ

১৮

২৫

২৯.৮৪

০/১

৫/৩২

৫.৬৩

মুস্তাফিজুর রহমান

৯৩

১৫৬

২৪.২৭

৫/৫

৬/৪৩

৫.০৭

নাসুম আহমেদ

১২

১২

৩১.৫০

০/০

৩/১৯

৩.৯১

শরীফুল ইসলাম

২২

৩৫

২৪.৩৪

৩/০

৪/২১

৫.৩৬

তানজিম হাসান সাকিব

২৮.৫০

০/০

২/৩২

৪.২২

তাসকিন আহমেদ

৬৩

৯০

২৯.২৪

৪/২

৫/২৮

৫.৪১

 অলরাউন্ডার

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

১০০/৫০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা.রেট

উইকেট

গড়

৪/

সেরা

ইক. রেট

সাকিব আল হাসান

২৪০

৭৩৮৪

৩৭.৬৭

৯/৫৫

১৩৪*

৮২.৮৫

৩০৮

২৯.৩২

১০/৪

৫/২৯

৪.৪৪

মাহেদী হাসান

৮৯

১৪.৮৩

০/০

২৯*

৭৭.৩৯

৩৫.৮৭

০/০

৩/৪৫

৪.৪৮

মাহমুদউল্লাহ

২২১

৫০২০

৩৫.৩৫

৩/২৭

১২৮*

৭৬.০৪

৮২

৪৫.৮২

০/০

৩/৪

৫.২১

মেহেদি হাসান মিরাজ

৮২

১০৪৬

২৩.২৪

২/২

১১২*

৭৮.০০

৯১

৩৩.৬৫

৫/০

৪/২৫

৪.৭৩

 

ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ: পরিসংখ্যান

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ৬ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই
  • রানার্সআপ : নেই
  • সেমিফাইনাল : নেই
  • কোয়ার্টার ফাইনাল : একবার (২০১৫)
  • সুপার এইট: একবার (২০০৭)
  • গ্রুপ পর্ব: চারবার (১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১, ২০১৯)

সংক্ষেপে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

টাই

ফল হয়নি

র্সবােচ্চ রান

র্সবনম্নি রান

১৯৯৯-২০১৯

৪০

১৪

২৫

৩৩৩/৮

৫৮

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০টি ইনিংস

স্কোর

ফল

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

সাল

৩৩৩/৮

হার

অস্ট্রেলিয়া

নটিংহাম

২০১৯

৩৩০/৬

জয় 

দক্ষিণ আফ্রিকা

দ্য ওভার

২০১৯

৩২২/৪

জয়

স্কটল্যান্ড

নেলসন

২০১৫

৩২২/৩

জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টনটন

২০১৯

২৮৮/৭

হার

নিউজিল্যান্ড

হ্যামিল্টন

২০১৫

২৮৬

হার

ভারত

বার্মিংহাম

২০১৯

২৮৩/৯

হার

ভারত

মিরপুর

২০১১

২৮০

হার

ইংল্যান্ড

কার্ডিফ

২০১৯

২৭৫/৭

জয়

ইংল্যান্ড

অ্যাডিলেড

২০১৫

২৬৭

জয়

আফগানিস্তান

ক্যানবেরা

২০১৫

২৬২/৭

জয়

আফগানিস্তান

সাউদাম্পটন

২০১৯

২৫১/৮

জয়

দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রভিডেন্স

২০০৭

২৪৪

হার

নিউজিল্যান্ড

দ্য ওভাল

২০১৯

২৪০

হার

শ্রীলঙ্কা

মেলবোর্ন

২০১৫

২২৭/৮

জয়

ইংল্যান্ড

চট্টগ্রাম

২০১১

২২৩/৯

জয়

পাকিস্তান

নর্দাম্পটন

১৯৯৯

২২১

হার

পাকিস্তান

লর্ডস

২০১৯

২০৫

জয়

আয়ারল্যান্ড

মিরপুর

২০১১

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ ব্যাটার

খেলোয়াড়

ম্যাচ

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০

৫০

সাকিব আল হাসান

২৯

১১৪৬

১২৪*

৪৫.৮৪

১০

মুশফিকুর রহিম

২৯

৮৭৭

১০২*

৩৮.১৩

তামিম ইকবাল

২৯

৭১৮

৯৫

২৪.৭৫

মাহমুদউল্লাহ

১৭

৬১৬

১২৮*

৫১.৩৩

সৌম্য সরকার

১৪

৩৪১

৫১

২৪.৩৫

মোহাম্মদ আশরাফুল

১৬

২৯৯

৮৭

২৪.৯১

সাব্বির রহমান

২১৮

৫৩

৩১.১৪

মাশরাফি বিন মর্তুজা

২৪

১৯৯

৩৭

১৩.২৬

ইমরুল কায়েস

১৯৭

৭৩*

২৪.৬২

লিটন দাস

১৮৪

৯৪*

৪৬.০০

 বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ বোলার

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

মেডেন

রান

উইকেট

সেরা

গড়

সাকিব আল হাাসন

২৯

২৩৮.৫

১২২২

৩৪

৫/২৯

৩৫.৯৪

মুস্তাফিজুর রহমান

৭২.১

৪৮৪

২০

৫/৫৯

২৪.২০

আব্দুর রাজ্জাক

১৫

১২১.৪

৫৬৪

২০

৩/২০

২৮.২০

মাশরাফি মর্তুজা

২৪

১৮৭.২

১১

১০১০

১৯

৪/৩৮

৫৩.১৫

রুবেল হোসেন

১৪

১০৭.১

৬৪৫

১৪

৪/৫৩

৪৬.০৭

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

৫৮

৪১৭

১৩

৩/৭২

৩২.০৭

খালেদ মাহমুদ

৬৮.৫

২৯৮

১২

৩/৩১

২৪.৮৩

মোহাম্মদ রফিক

১৭

১১৬.১

১০

৫০৭

১২

৩/৩৫

৪২.২৫

তাসকিন আহমেদ

৫১

৩২৫

৩/৪৩

৩৬.১১

সৈয়দ রাসেল

৬২

২৩৯

২/২৫

২৯.৮৭

 

সময়সূচি