বাংলাদেশ

Team Image

এবার লক্ষ্য সেমিফাইনাল

বদলে গেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগের বাংলাদেশ আর ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগের বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল ‘মিনোজ’ হিসেবে। আর এবার মিনোজ নয়, রীতিমত হুঙ্কার ছাড়ছে ফেবারিটদের সামনে। বুক ফুলিয়ে বলতে পারছে, বিশ্বকাপ জয় করার সুযোগ রয়েছে আমাদেরও।

২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের শুরু। ২০১৩ আর ২০১৪ সালটা বাংলাদেশের ছিল বেশ হতাশার। মুশফিকুর রহীমদের নেতৃত্বে বাজে সময় কাটাচ্ছিল টাইগাররা। এমনকি এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে পর্যন্ত হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সুরেশ রায়নার নেতৃত্বে ভারতের তৃতীয় সারির একটি দলের কাছেও বারবার তীরে এসে তরি ডুবছিল বাংলাদেশের।

এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের পালা বদল ঘটালো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বারবার ইনজুরিতে পড়ে ক্যারিয়ারের সোনালি সময় নষ্ট করে ফেলা মাশরাফির কাঁধেই তুলে দেয়া হলো বাংলাদেশের রঙিন পোশাকের ক্রিকেটের দায়িত্ব।

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই মাশরাফি পেলেন জিম্বাবুয়েকে। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তুখোড় নেতৃত্বগুণ কতটা, সেটা ওই সিরিজেই দেখিয়ে দিলেন মাশরাফি। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলেন ৫-০ ব্যবধানে।

এরপর এলো কাংখিত বিশ্বকাপ। ক্যানবেরার মানুকা ওভালে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্বপ্নের অভিযাত্রা শুরু। মাঝে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়া, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে মাশরাফি বাহিনী। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে হলে ইংল্যান্ডকে হারাতে হবে।

অ্যাডিলেইডে ইংলিশ বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে প্রথম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবিশ্বাস্য, অতিমানবীয় সেঞ্চুরি, এরপর রুবেল হোসেনের সেই দুটি ডেলিভারি... বাংলাদেশকে ১৫ রানের অসাধারণ এক জয় এনে দিলো। সে সঙ্গে প্রথমবারেরমত টাইগারদের পৌঁছে দিলো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেলেও রিয়াদের সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছিল টাইগাররা।

কোয়ার্টার ফাইনালটি ছিল বিতর্কিত। আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের খেসারত বাংলাদেশকে দিতে হয় পরাজয় দিয়ে। তবুও, যে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ সেবারের বিশ্বকাপে, তা সত্যিকারার্থেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল প্রবলভাবে।

বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয় বাংলাদেশকে পৌঁছে দিলো ক্রিকেট বিশ্বের উচ্চাসনে। সেই তিন সিরিজের প্রতিপক্ষদের নাম শুনলেও এক সময় টাইগার ক্রিকেটাররা ভয়ে কাঁপতো। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা- ক্রিকেটের তিন পরাশক্তি।

১৯৯৯ সালে নর্দাম্পটনে পাকিস্তানকে সেই যে হারিয়েছিল, এরপর আর তাদের বিপক্ষে জয় আসেনি। অবশেষে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে পেয়ে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়লো মাশরাফি বাহিনী। পাকিস্তানের পর ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালো ২-১ ব্যবধানে।

সাফল্যের শুরু তখন থেকেই। দেশের মাটি কিংবা বিদেশের মাটিতেও সাফল্য আসতে থাকলো। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মত দেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়, বিদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে টেস্টে পরাজয়ের স্বাদ দেয়া..., নিয়মিতই এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা যেন বাংলাদেশের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিফাইনালে খেলাও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এক সাফল্য। গত চার বছরে বাংলাদেশ জন্ম দিয়েছে একঝাঁক ক্রিকেট তারকা। মোস্তাফিজ, লিটন, সৌম্য, মিরাজ, মোসাদ্দেক, মিঠুন কিংবা সাইফউদ্দিনের মত তারকারা এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাঁপিয়ে তুলছে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গন।

সে সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পাঁচ ক্রিকেটার, যাদেরকে এখন নাম দেয়া হয়ে গেছে পঞ্চ পাণ্ডব..., মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহ- তারা তো রয়েছেনই। বরং, আগের চেয়ে আরও বেশি স্বমিহমায় উজ্জ্বল এই পাঁচ ক্রিকেটার। তারা আরও বেশি পরিণত।

এবার বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে অন্তত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার। এমনকি বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলে দিয়েছেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলে যেতে পারলে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করলে বিশ্বকাপ জয় করাও অসম্ভব কিছু নয়। যদিও কাজটা কঠিন।

তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা আশায় বুক বাধতেই পারেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথমবারেরমত কোনো টুর্নামেন্ট জয় অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার ব্যাপারে।

যদিও বোলিং দারুণ দুঃশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মনে। এমনিতে ইংল্যান্ডের উইকেটে প্রচুর রান উঠবে। তার ওপর মাশরাফির নেতৃত্বে বোলিং ডিপার্টমেন্ট খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর। মোস্তাফিজ রয়েছেন পুরোপুরি ছন্দহীন। প্রচুর রান দিয়ে ফেলছেন তিনি। কিন্তু উইকেটের দেখা পাচ্ছেন না।

আবু জায়েদ রাহীর ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় না। সাইফউদ্দিন তরুণ বোলার- কতটুকুই বা চাপ নিতে পারবেন? রুবেল হোসেন দলে নিয়মিত নন। বাঁ-হাতি কেবলমাত্র স্পিনার সাকিব আল হাসান। ইনজুরি প্রবণ হওয়ার কারণে তার বিকল্প কোনো বাঁ-হাতি স্পিনার নেই।

একজন লেগ স্পিনারের অভাব তো সব সময়ই বোধ করছে সবাই। অফ স্পিনার হিসেবে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মোসাদ্দেক হোসেনও ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনে দারুণ সহযোগিতা করতে পারেন। তবুও এই বোলিং দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে তো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ!

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম পা রাখে ১৯৯৯ সালে। নিজেদের প্রথম মিশনেই জায়ান্ট কিলারের খাতায় নাম লেখায় টাইগাররা। ৬২ রানের বড় ব্যবধানে তারা হারিয়ে দেয় ১৯৯২-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে। গোটা বিশ্ব প্রথমবারের মতো শুনল বাঘের গর্জন, ক্রিকেটেরই সবচেয়ে বড় আসরে। তবে এর আগেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ ২২ রানে হারিয়ে দেয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারলেও জায়ান্ট কিলিংয়ের তৃপ্তি নিয়েই টাইগাররা সেবারের মতো ফিরে আসে দেশের মাটিতে।

পরেরবার ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার আসর ছিল পুরোপুরি উল্টো অনুভূতির। সেবার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হার তো এলোই, সঙ্গে কানাডা আর কেনিয়ার বিপক্ষেও মাঠ ছাড়তে হয় মাথা নিচু করে। আরও চার বছর পর ২০০৭ বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়ান দ্বীপে গিয়ে আবারও টাইগাররা ফিরে পায় আগের চেহারা।

মাশরাফি বিন মর্তুজার বোলিং তোপে টাইগাররা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতকে হারিয়ে দেয় ৫ উইকেটে। আবারও লেগে যায় জায়ান্ট কিলারের তকমা। এরপর দুর্বল প্রতিপক্ষ বারমুডাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে বেশ প্রতাপ নিয়েই বাংলাদেশ উঠে যায় সুপার এইটে। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো যেমন সাফল্য তেমনি আবার অপ্রত্যাশিতভাবে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৭৪ রানের হার সাফল্যকে ম্লান করে দেয়।

২০০৮ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারানোর মধ্য দিয়ে ওডিআইর নব্য দানব হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করে টাইগাররা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলংকাকে ও জুলাইয়ে টানা তিন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় বাংলাদেশ।

২০১০ সালে বাংলাদেশ নিজেদের আরও তুলে ধরার মিশনে নামে। ইংল্যান্ডকে তাদের মাঠেই ৫ রানে হারায় জুলাইয়ে। তবে অক্টোবরে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা বিশ্ব ক্রিকেটে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে হার ও একটি পরিত্যাক্ত ম্যাচের বোঝা নিয়ে সফর শেষ করে কিউইরা।

সাকিব আর হাসানের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতাই হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচে বড় হার দিয়ে শুরু। আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ের খাতাও খুলেছিল সাকিব আল হাসানরা। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়ে সমালোচনার শিকার হয় বাংলাদেশ।

পরে আয়ারল্যান্ড এবং চট্টগ্রামে গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে হইচই ফেলে দেয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিততে পারলেও রান রেটের ব্যবধানে পেছনে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে আর ওঠা হয়নি টাইগারদের। তবে চার বছর পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড গিয়ে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে টাইগাররা। এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কত দুর যেতে পারবেন মাশরাফিরা? সময়ের কাছেই তোলা থাক সেই উত্তর।

Captain Image

মাশরাফি বিন মর্তুজা

এবারের বিশ্বকাপে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান যদি হন সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ, তবে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে সংগ্রামী ও লড়াকু একজন চরিত্র। বয়স কিংবা বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা- দু’দিক দিয়েই অন্য নয়জন অধিনায়কের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ টাইগার অধিনায়ক। তার অধীনেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নামবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ খেলেছেন- এবারের বিশ্বকাপে এমন খেলোয়াড় রয়েছেন মাত্র দুইজন। একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ওপেনার ক্রিস গেইল আর অন্যজন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। যিনি পরে খেলেছেন ২০০৭ এবং ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ইনজুরির কাছে হার মেনে ২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপটি খেলা হয়নি টাইগাদের সেরা পেসারের।

এছাড়া ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের নড়াইলে জন্ম নেয়া ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফি বয়সের ভারেও অন্য ৯ অধিনায়কের চেয়ে ‘মুরব্বি'ই বটে। তবু বারংবার ইনজুরির কারণে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লিখিয়েও সে পরিমাণ ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। দুই হাঁটুতে একের পর এক অস্ত্রোপচারের কারণে অন্তত ১২০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিস করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত এ পেসার।

তবুও দমে যাননি মাশরাফি, যতবারই পড়েছেন ইনজুরিতে, ততবারই ফিরেছেন আগের চেয়েও বেশি উদ্যম নিয়ে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় বুকে ধারণ করে। তাই তো সারা শরীরে প্রায় গোটা দশেক অস্ত্রোপচারের পরেও মাশরাফির চোখেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের ১৮ কোটি প্রাণ। আশায় বুক বাঁধে হয়তো মাশরাফির হাতেই উঠবে বিশ্বকাপের শিরোপা।

অথচ ইনজুরির কারণে প্রথম দফায় অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারই শুরু করতে পারেননি মাশরাফি। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। সেখানে গিয়ে প্রথম টেস্টেই পড়েন ইনজুরিতে, ছিটকে যান মাঠ থেকে। ফলে তখনো ওয়ানডে অধিনায়কত্বের অভিষেক হয় না তার। সে অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় পরের বছর ইংল্যান্ড সফর পর্যন্ত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাওয়া চোটের কারণে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয় তাকে। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করেন মাশরাফি এবং সে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথমবারের মতো ইংলিশদের হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক। ইংল্যান্ড সফর শেষ করে আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের সফলতার সহিত নেতৃত্ব দেন মাশরাফি।

এবার গোল বাঁধে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজে। বোলিংয়ে নেমে নিজের প্রথম ওভারটি করেন ভালোভাবেই। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে বলের ওপর পা পড়ে মচকে যায় গোড়ালি, আবারো লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যান জাতীয় দল থেকে। পরে এ ইনজুরির কারণেই ২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপটি খেলতে পারেননি মাশরাফি। অথচ সবকিছু ঠিক থাকলে সে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নিজ দেশকে নেতৃত্ব দিতেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

সেবার না হলেও ৪ বছর পর ঠিকই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে হওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। তার আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে সরিয়ে তৃতীয় দফায় অধিনায়কত্ব দেয়া হয় মাশরাফিকে। যা বিরতিহীনভাবে চলমান রয়েছে গত পাঁচ বছর ধরে।

এ পাঁচ বছরে মাশরাফির হাত ধরে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ সময়ে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল, ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে রানারআপসহ পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।

সবমিলিয়ে মাশরাফির অধীনে ৭৩টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যা কিনা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড। শুধু সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ডই নই, মাশরাফির রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৪১ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড। এছাড়া ৫৬.৩৩ শতাংশ ম্যাচ জিতিয়ে জয়ের শতকরা হারেও দেশের অন্যান্য অধিনায়কদের চেয়ে এগিয়ে মাশরাফি।

অধিনায়কত্ব করা ম্যাচগুলোতে ৫১ ইনিংসে ব্যাট করে ৫৪৩ রান এবং বল হাতে ৯১টি উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি। তবে সবমিলিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত ২০৬ ম্যাচের ১৫১ ইনিংসে ব্যাট করে ১৭৫২ রান এবং বল হাতে দেশের সর্বোচ্চ ২৬২টি উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে।

এবারের বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগেই মাশরাফি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দেড় যুগ দাপটের সঙ্গে খেলে যাওয়া মাশরাফির ক্যারিয়ারের শেষটাও হয়ে থাকবে বর্ণিল- এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের।

Coach Image

স্টিভ রোডস

২০১৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়েন লঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে। বিতর্কিত হাতুরুসিংহের বিদায়ের পর আট মাস কোচবিহীন ছিলো বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব গ্রহন করেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান স্টিভ রোডস। ক্রিকেটার এবং কোচ হিসেবে খুব বেশি হাইপ্রোপাইল না হলেও আসন্ন বিশ্বকাপের ইংলিশ কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে রোডসকেই নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

স্টিভ রোডসের পুরো নাম স্টিভেন জন রোডস। ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে ১৯৬৪ সালে জন্ম তার। বাবা উইলিয়াস জন রোডসও ছিলেন একজন উইকেটরক্ষক। বাবার পথ ধরেই নিজেও ছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ছয় অথবা সাত নাম্বারে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের জন্য রাখতেন কার্যকরী ভূমিকা।

খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় দলে খুব বেশি স্থায়ী না হতে পারলেও ঘরোয়া লীগে তার দলের জন্য ছিলেন কিংবদন্তি। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ১১ টেস্ট যেখানে ৩১ গড়ে এক অর্ধশতকে রোডসের রান ২৯৪টি। ওয়ানডেতে ৯ ম্যাচ খেলে ১৭ গড়ে করেছেন ১৭০ রান। জাতীয় দলে খুব একটা সফল না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ সফল ছিলেন রোডস। ৪৪০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩২.৮২ গড়ে করেছেন ১৪,৮৩৯ রান।

২০০৬ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই বছরই উস্টারশায়ারে অস্ট্রেলিয়ান টম মুডির স্থলাভিষিক্ত হন রোডস। কোচ হিসেবে রোডস ছিলেন দারুণ সফল। তার অধীনে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্টি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপে নাম লেখায় উস্টারশায়ার। ইংল্যান্ডের অনুর্ধ্ব-১৯ দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেন রোডস। তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করা ও গড়ে তোলাতে বেশ নাম-ডাক ছিলো রোডসের।

তার এই গুণের জন্যই দক্ষিণ আফ্রিকান পরামর্শক গ্যারি কারস্টেনের সুপারিশে স্টিভ রোডসকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ। এই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংলিশ এই কোচ। তার অধীনে এখনও পর্যন্ত ১৮ ম্যাচ খেলে ১০ টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪টি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩টি এবং শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এসেছে একটি ম্যাচে। রোডসের অধীনে এমন সাফল্যে বাংলাদেশের আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে আরো। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন সম্পর্কে রোডসের ধারণা থাকা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা অনেকের।

বাংলাদেশ স্কোয়াড

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী।

বাংলাদেশ

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ৫ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই
  • রানার্সআপ : নেই
  • সেমিফাইনাল : নেই
  • কোয়ার্টার ফাইনাল : ২০১৫
  • সুপার এইট : ২০০৭
  • সুপার সিক্স : নেই
  • প্রথম পর্ব : ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১।

সংক্ষেপে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

দল

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

ফল হয়নি

সর্বোচ্চ রান

সর্বনিম্ন

বাংলাদেশ

১৯৯৯-২০১৫

৩২

১১

২০

৩২২

৫৮

বাংলাদেশের সেরা ১০টি ইনিংস

রান

উইকেট

ফল

প্রতিপক্ষ

গ্রাউন্ড

সাল

৩২২

জয়

স্কটল্যান্ড

নেলসন

 ২০১৫

২৮৮

হার

নিউজিল্যান্ড

হ্যামিল্টন

২০১৫

২৮৩

হার

ভারত

ঢাকা

২০১১

২৭৫

জয়

ইংল্যান্ড

অ্যাডিলেড

২০১৫

২৬৭

১০

জয়

আফগানিস্তান

ক্যানবেরা

২০১৫

২৫১

জয়

দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রোভিডেন্স

২০০৭

২৪০

১০

হার

শ্রীলঙ্কা

মেলবোর্ন

২০১৫

২২৭

জয়

ইংল্যান্ড

চট্টগ্রাম

২০১১

২২৩

জয়

পাকিস্তান

নর্দাম্পটন

১৯৯৯

২০৫

১০

জয়

আয়ারল্যান্ড

ঢাকা

২০১১

 বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ ব্যাটসম্যান

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ইনিংস

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০

৫০

সাকিব আল হাসান

২১

২১

৫৪০

৬৩

৩০.০০

মুশফিকুর রহীম

২১

২০

৫১০

৮৯

৩১.৮৭

তামিম ইকবাল

২১

২১

৪৮৩

৯৫

২৩.০০

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

১০

৩৯৭

১২৮*

৫৬.৭১

মোহাম্মদ আশরাফুল

১৬

১৬

২৯৯

৮৭

২৪.৯১

ইমরুল কায়েস

১৯৭

৭৩*

২৪.৬২

সাব্বির রহমান

১৮২

৫৩

৩৬.৪০

সৌম্য সরকার

১৭৫

৫১

২৯.১৬

মাশরাফি বিন মর্তুজা

১৬

১৩

১৬৫

৩৭

১৫.০০

মিনহাজুল আবেদিন

১৪০

৬৮*

৭০.০০

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ বোলার

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

মেডেন

রান

উইকেট

সেরা

গড়

সাকিব আল হাসান

২১

১৬৪.৫

৮২৩

২৩

৪/৫৫

৩৫.৭৮

আবদুর রাজ্জাক

১৫

১২১.৪

৫৬৪

২০

৩/২০

২৮.২০

মাশরাফি বিন মর্তুজা

১৬

১৩১.২

১০

৬৪৯

১৮

৪/৩৮

৩৬.০৫

রুবেল হোসেন

১২

৯০.১

৫১৪

১৩

৪/৫৩

৩৯.৫৩

খালেদ মাহমুদ

৬৮.৫

২৯৮

১২

৩/৩১

২৪.৮৩

মোহাম্মদ রফিক

১৭

১১৬.১

১০

৫০৭

১২

৩/৩৫

৪২.২৫

তাসকিন আহমেদ

৫১.০

৩২৫

৩/৪৩

৩৬.১১

মঞ্জুরুল ইসলাম

১০

৬৯.১

৩০১

৩/৬২

৩৭.৬২

সৈয়দ রাসেল

৬২.০

২৩৯

২/২৫

২৯.৮৭

শফিউল ইসলাম

৩৯.২

২০৩

৪/২১

৩৩.৮৩

 

 

সময়সূচি

০২ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য ওভাল

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০৯/৮

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৩৩০/৬

ম্যাচ রিপোর্ট

বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী

০৫ জুন, ২০১৯, ০৬:৩০ পিএম

দ্য ওভাল

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ২৪৪/১০

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২৪৮/৮

ম্যাচ রিপোর্ট

নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী (১৭ বল হাতে রেখে)

০৮ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

সোফিয়া গার্ডেন, কার্ডিফ

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড 386/6

বাংলাদেশ বাংলাদেশ 280/10

ম্যাচ রিপোর্ট

১০৬ রানে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড

১১ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

শ্রীলংকা শ্রীলংকা

ম্যাচ রিপোর্ট

কোন বল মাঠে গড়ানো ছাড়াই ম্যাচ পরিত্যক্ত

১৭ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

কাউন্টি গ্রাউন্ড টন্টন

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

২০ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ট্রেন্টব্রিজ

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

২৪ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হ্যাম্পশায়ার বোল

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

আফগানিস্তান আফগানিস্তান

০২ জুলাই, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

এজবাস্টন

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

ভারত ভারত

০৫ জুলাই, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

লর্ডস

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

পাকিস্তান পাকিস্তান

আরও

মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার পুরান

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার পুরান

শুরুতেই ক্যারিবীয়দের গেম প্ল্যান নষ্ট করা চমক টাইগারদের!

শুরুতেই ক্যারিবীয়দের গেম প্ল্যান নষ্ট করা চমক টাইগারদের!

বিধ্বংসী লুইসকে ফেরালেন সাকিব

বিধ্বংসী লুইসকে ফেরালেন সাকিব