ইংল্যান্ড

Team Image

এবারই বিশ্বকাপ জয়ের আসল সুযোগ

এর আগে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থেকে কোনো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অংশ গ্রহণ করেছে কি না সন্দেহ। পরিসংখ্যান ঘাঁটাঘুঁটি করেও বের করা প্রায় অসম্ভব। তবে, এবারের ইংল্যান্ড বুঝি আগের তিনবার ফাইনালে ওঠার পরও জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচাতে পারবে! ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বাধীন এবারের ইংল্যান্ড যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সবচেয়ে ফেবারিটও ভাবা হচ্ছে তাদেরকে।

অনেক খেলার মতো ইংল্যান্ড ক্রিকেটেরও জনক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এখন পর্যন্ত একবারও বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে তুলতে পারেনি ব্রিটিশ অধিপতিরা। নিজেদের দশম বিশ্বকাপে এ দুর্নাম ঘোচাতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ইয়ন মরগ্যান বাহিনী। এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই, ৩০ মে দ্য ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচটাই তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষার।

৩ জুন, ট্রেন্ট ব্রিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে হবে স্বাগতিক ইংলিশদের। বিশ্বকাপের আগেই ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে..... ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে চেড়েছে পাকিস্তানকে। সুতরাং, কঠিন ম্যাচ ভাবা হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড টপ ফেবারিট। ৮ জুন কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে শুরুটা ভালোই হয়েছিল তাদের। ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে ইংল্যান্ড উঠে আসে নকঃআউট পর্বে; কিন্তু সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায়ঘণ্টা বাজে ব্রিটিশদের। পরেরবার, ১৯৭৯ বিশ্বকাপে ঠিকই ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। এবার তারা মুখোমুখি হয় ওই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাই সেবারও শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের বিশ্বসেরার মিশন।

১৯৮৩ বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের গ্রুপের সেরা হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে ইংল্যান্ড; কিন্তু সেমিফাইনালে কপিল দেবের ভারতের কাছে হেরে ওই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংলিশরা। এরপর ১৯৮৭ সালে আবারও শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয় তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ রানের ব্যবধানে হেরে যায় ব্রিটিশরা। পরের বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের হ্যাটট্রিক করে বসে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওঠা ইমরান খানের পাকিস্তানের কাছে তারা হেরে যায় ২২ রানে। এরপর ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অংশ নিলেও খেলায় ছিল না কোনো ধার। নিজেদের গ্রুপের চতুর্থ দল হিসেবে তারা কোনোমতে উঠে শেষ আটের লড়াইয়ে; কিন্তু ওখানেই শেষ।

সেবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার কাছে বাজেভাবে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তিনবারের রানার্সআপ ইংল্যান্ড। এর পরেরবার ১৯৯৯ সালে স্বাগতিক হয়েও স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটাররা বিদায় নেন প্রথম পর্ব থেকেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ২০০৩ বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ড দেখাল একই প্রদর্শনী।

এবারও প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। সর্বশেষ ২০০৭ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের হয়ে সুপার এইটে ওঠে ইংল্যান্ড; কিন্তু সেবারও ভাগ্য মুখ তুলে তাকালো না ব্রিটিশদের দিকে। ২০১১ বিশ্বকাপে উমহাদেশে ইংলিশরা খেলতে আসে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের নেতৃত্বে।

ছিলেন কেভিন পিটারসেনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। সঙ্গে ইয়ান বেল, পল কলিংউডের মতো তারকাও। স্টুয়ার্ট ব্রড, এবারের ইংলিশ অধিানয়ক ইয়ন মরগ্যান, লুক রাইটরা ছিলেন শক্তির উৎস। আর বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে শাসন করতে প্রস্তুত ছিলেন গ্রায়েম সোয়ান, জেমস অ্যান্ডারসন, আজমল শাহজাদরা।

কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বড় বড় ধাক্কা খায় ইংলিশরা। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শুরু করলেও পরের ম্যাচে ভারতের করা ৩৩৮ রানের জবাব দিতে নেমে ম্যাচ টাই করে ফেলে ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচেই তারা ৩ উইকেটে হেরে যায় আয়ারল্যান্ডের কাছে। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগুনে ম্যাচ। তিন্তু এই ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৭১ রান করেও ৬ রানে হারিয়ে দেয় ইংলিশরা।

পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচ চট্টগ্রামে। এই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে ইংলিশদের ২ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে সেবারের ফাইনালিস্ট শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেয় ইংল্যান্ড। ছিল ‘এ’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড এবং বাংলাদেশের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের শুরু। পরের ম্যাচে তারা হেরে যায় আরেক স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে তারা প্রথম জয় পায় স্কটল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে।

পরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কার। ওই ম্যাচে লঙ্কানদের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় ইংলিশরা। এরপর ইংলিশরা মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের। নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য ইংলিশদের কাছে এ ম্যাচ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্যও একই অবস্থা; কিন্তু উজ্জীবিত বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় ইংল্যান্ড এবং তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বান্তনার জয় পেয়ে যায় ইয়ন মরগ্যানের বাহিনী।

এবার আর আগের মত ভুল করতে চায় না ইংল্যান্ড। অধিনায়ক সেই ইয়ন মরগ্যান। তার নেতৃত্বে জস বাটলার, জনি বেয়ারেস্ট, জো রুট, জেসন রয়, জো ড্যনলি, অলরাউন্ডার বেন স্টোকস, মঈন আলি, বোলার আদিল রশিদ, ডেভিড উইলি, মার্ক উড, টম কুরান, লিয়াম প্লাঙ্কেট, ক্রিস ওকসরা রয়েছেন ইংলিশ দলে। সবচেয়ে বড় কথা, সবাই রয়েছে দারুণ ফর্মে। সুতরাং, এবার যে ইংল্যান্ডই চ্যাম্পিয়ন, সেটা অনেকেই আগাম বলে দিচ্ছেন।

Captain Image

ইয়ন মরগ্যান

এবারের বিশ্বকাপের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বর্ণিল চরিত্র সন্দেহাতীতভাবে স্বাগতিক দেশের ইয়ন মরগ্যানের। তিনিই এ বিশ্বকাপের একমাত্র অধিনায়ক যার জন্ম আরেক দেশে। আয়ারল্যান্ডে রাজধানী ডাবলিনে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ইয়ন মরগ্যানই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডে।

২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের হয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখান মরগ্যান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচে তিনি আউট হন ৯৯ রান করে। শুরুটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও, ক্যারিয়ারের পরের অংশটা সাফল্যমণ্ডিত বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের।

অভিষেকের পরের বছর আইরিশ ক্রিকেট দলের হয়েই ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেন মরগ্যান। তার দল আয়ারল্যান্ড সে বিশ্বকাপে ভালো করলেও নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৯ ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ৯১ রান করতে সক্ষম হন। তবে সবমিলিয়ে আইরিশদের হয়ে ২৩ ওয়ানডেতে ৩৫.৪২ গড়ে ৭৪৪ রান করেন তিনি।

সে বছরই মরগ্যান ইচ্ছাপ্রকাশ করেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলার। তার মানের একজন ক্রিকেটারকে দলে নিতে কোনো সমস্যাই ছিলো না ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের। তাই তো ২০০৭ সালের মে মাসেই দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ পেয়ে যান ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে। তবু ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের হয়ে বাংলাদেশ সফরে ছিলেন তিনি।

পরে ২০০৯ সালে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেন মরগ্যান, সুযোগ পেয়ে যান ২০০৯ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ড স্কোয়াডে। একই বছর ইংলিশদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যায় মরগ্যানের। নিজের প্রথম দুই ইনিংসে ২* ও ৬* রান করলেও ক্ষিপ্রগতির ফিল্ডিংয়ে মন জয় করেন সবার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করার পুরষ্কারস্বরূপ ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে যান ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলা মরগ্যান। ইংলিশদের হয়ে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মরগ্যান। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। সে বছরই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব করার গৌরব অর্জন করেন মরগ্যান।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানান বৈচিত্রপূর্ণ ঘটনার জন্ম দেয়া মরগ্যানের, পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পটভূমিটাও বেশ দারুণ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দেশটির কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুক। কিন্তু বিশ্বকাপের মাত্র ২ মাস আগে বাজে ফর্মের কারণ দেখিয়ে কুকের বদলে অধিনায়কত্ব দেয়া হয় মরগ্যানের কাঁধে। যা চলমান রয়েছে এখনো।

তবে মরগ্যানের অধীনে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের কাছে ১৫ রানে হেরে তারা বিদায় নেয় গ্রুপপর্ব থেকেই। ২০০৭ সালের মতো এ বিশ্বকাপেও বাজে ব্যাটিং করেন মরগ্যান। পাঁচ ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ৯০ রান করতে সক্ষম হন তিনি।

ওই বিশ্বকাপের পর থেকেই ভোজবাজির মতো বদলে যায় সবকিছু। ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাপারে আরও সচেতন হয় ইংল্যান্ড। এবার আর অধিনায়কত্বে দোষারোপ না করে, লম্বা সময়ের জন্য মরগ্যানের ওপরেই আস্থা রাখে তারা। যার প্রতিদানও দিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।

গত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দলে পরিণত হয়েছে ইংল্যান্ড, খেলেছে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে। এখনো পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৭ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড গড়েছেন মরগ্যান। এ সময়ে তার অধীনে ৫৮টি ম্যাচ জিতেছে ইংল্যান্ড, হেরেছে ৩২টিতে। জয়ের শতকরা হার ৬৪.২৮। যা কিনা ইংল্যান্ডকে কমপক্ষে ৪০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া যেকোনো অধিনায়কের চেয়ে ভালো।

অধিনায়ক হিসেবে মরগ্যানের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয়। ৯৭ ম্যাচের ৮৯ ইনিংসে ব্যাট করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ৭টি। যা কিনা ইংল্যান্ডের যেকোনো অধিনায়কের চেয়ে বেশি। এর সঙ্গে ২৫ ফিফটিতে ৪৪.৪৯ গড়ে ৩৫১৫ রান করেছেন তিনি।

সবমিলিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২১৯ ম্যাচ খেলে ১২ সেঞ্চুরি এবং ৪৩ ফিফটিতে ৩৮.৯৩ গড়ে ৬৮১৩ রান সংগ্রহ করেছেন মরগ্যান। তবে শুধু ইংল্যান্ডের হয়ে এখনো পর্যন্ত খেলেছেন ১৯৬ ম্যাচ। আর মাত্র ২টি ম্যাচ খেললেই ভেঙে ফেলবেন পল কলিংউডের ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯৭ ম্যাচ খেলার রেকর্ড।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ১৯৬ ম্যাচে মরগ্যান গড়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে রানের রেকর্ড। ১১ সেঞ্চুরি এবং ৩৮ ফিফটিতে ভর করে ৩৯.৪০ গড়ে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে তার রানের সংখ্যা ৬০৬৯। এবারের বিশ্বকাপে তার ব্যাট থেকে বের হবে অনেক ম্যাচ জেতানো ইনিংস এবং চতুর অধিনায়কত্ব দিয়ে সাফল্য এনে দেবেন দলকে- মরগ্যানের কাছে এটিই থাকবে স্বাগতিক দেশটির চাওয়া।

Coach Image

ট্রেবর বেলিস

ট্রেভর বেলিস একজন পুরোদস্তুর অস্ট্রেলিয়ান। খেলোয়াড়ি জীবনে অজিদের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে চড়ানোর সুযোগ না হলেও খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া দল নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অবদান আহামরি না হলেও বেলিস ঠিকই নাম কুড়িয়েছেন; তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন মাস্টারমাইন্ড ট্যাকটেশিয়ান হিসেবে।

নিজের দল নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে শুরু করেছিলেন নিজের কোচিং ক্যারিয়ার। ২০০৪ সালে সিডনি ভিত্তিক দলটির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে একে একে পেরিয়ে গেছে ১৫ টি বছর; এর মাঝে বেলিস দায়িত্ব সামলেছেন শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল, বিগব্যাশ ফ্রাঞ্চাইজি সিডনি সিক্সার্স, আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। অস্ট্রেলিয়া থেকে এশিয়া ঘুরে একরাশ সফলতা নিয়ে অবশেষে ট্রেভর থিতু হলেন অস্ট্রেলিয়ানদের চিরশত্রু ইংলশ শিবিরে!

ক্রিকেটের কুলগৌরব ইংল্যান্ড! ক্রিকেটের আদিলগ্ন থেকেই ইংল্যান্ড শক্তিশালি দল। ইংলিশ খেলোয়াড়দের সুবিখ্যাত চওড়া দাম্ভিকতা কিংবা চরম আশাবাদি সমর্থকগোষ্ঠি, ক্রিকেট নামক জেন্টলম্যান গেমকে দিয়েছ বাড়তি আমেজ। এই আমেজে প্রতিদ্বন্দ্বীতা আছে, আক্রমণাত্মক ভাব আছে, আছে বিদ্রুপাত্মক ব্যাপার-স্যাপার।

যুগে যুগে আথারটন, গুচ, বোথাম, পিটারসেন, গাওয়ার, বয়কট, ফ্লিন্টফদের মতো কিংবদন্তীরা ইংল্যান্ডের হয়ে খেলে গেছেন, চরম আশাবাদী ইংরেজদের মনে একটি আরাধ্য বিশ্বকাপ পাবার আশা বারবার জাগিয়েও ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে গিয়েছেন। ১১টি বিশ্বকাপের ৩টিতে ফাইনাল খেলে একবারো চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার বেদনা ইংলিশদের চাইতে আর কারাই বা বেশি উপলব্ধি করতে পারবে!

তবে এবারের দৃশ্যপট বেশ ভিন্ন। এই ইংল্যান্ড তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য দল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, এমনকি রিজার্ভ বেঞ্চ- সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে হটেস্ট ফেবারিট। বাড়তি পাওনা হিসেবে হোম অ্যাডভান্টেজ তো থাকছেই। রুট, স্টোকস, বাটলার, অ্যান্ডারসনদের জন্য লর্ডস, এজবাস্টন, ওভাল, টেন্টব্রিজের উইকেট যে তাদের সঙ্গে স্ত্রীসুলভ আচরণ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

ইংলিশদের এই আচমকা জাগরণের সূতিকাগার সেই ট্রেভর বেলিস হয়ত নিজে কষ্মিণকালেও ভাবেননি যে স্বদেশের চিরশত্রু শিবিরে বিশ্বকাপ জয়ের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবেন তিনি! সম্ভাবনাময় এই ইংলিশ টিমের কান্ডারি হিসেবে ইংরেজরা তাকে বেশ উষ্ণ সমাদরেই রেখেছে।

কোচ হিসেবে ট্রেভরের অর্জনের খাতা বেশ সমৃদ্ধ বলা চলে। ইংল্যান্ড পাড়ি জমানোর আগে তার ঝুলিতে পুরে নিয়েছিলেন বেশ কিছু শিরোপা। কলকাতার হয়ে দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন (২০১২ এবং ২০১৪), সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করে দলকে একবার বিগব্যাশ চ্যাম্পিয়ন (২০১১) এবং একটি চ্যাম্পিয়ন লিগ ট্রফি (২০১২) জিতিয়েছেন ট্রেভর।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার হয়ে তার সময়কালীন চার বছর (২০০৭-২০১১) ছিল বেশ অম্লমধুর। উত্থান-পতনে সয়লাব ট্রেভরের শ্রীলঙ্কা বিদায় হয়েছিল সুখ-দুঃখের মিশ্র অনুভূতিতে! ওয়াংখেড়েতে ২০১১ সালের ২ এপ্রিল, ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হলে ট্রেভরে ঝুলিতে একটি বিশ্বকাপও থাকতে পারতো! অবশ্য সে সব ট্রেভরকে ভাবায়না আদৌ।

তিনি ইংল্যান্ড নিয়ে খুব আশাবাদী। ২০১৫-তে থ্রি-লায়ন্সদের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ঘরের মাঠে এখন পর্যন্ত কোন সিরিজ হারেনি তারা; ৭টি সিরিজের ৬টিতে জয়, একটি ড্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৫ অ্যাশেজ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট, ওডিআই- দুই ফরম্যাটেই জয়।

ট্রেভরের অধীনে মোট ১৭টি সিরিজের ৮টি জিতেছে ইংল্যান্ড, ৪টিতে হার এবং বাকি ৫টি অমিমাংসিত। বেলিসের তত্ত্বাবধানে টেস্টের চেয়ে একদিনের ম্যাচে বেশি ধারালো থ্রি লায়ন্সরা। এখন পর্যন্ত ৭৬টি ওডিআই খেলে জিতেছে ৫৩ টি; যার মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে তিন শতাধিক রানের স্কোর ছিল ২৯টি ম্যাচে!

এই ২৯টি তিন শতাধিক স্কোরের ১৮টি ছিল ঘরের মাঠে। এমন ঈর্ষণীয় রেকর্ড এটাই প্রমাণ করে, ঘরের মাঠে কতোটা অদম্য থ্রি লায়ন্সরা। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরো ধারালো, তেজি মনোভাব দেখাচ্ছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাথে চলতি সিরিজ-ই তার প্রমাণ। ট্রেভরের জাদুকরি হাতের ছোঁয়ায় বেমালুম পাল্টে যাওয়া এই ইংলিশ দল নিয়ে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে সাবেক খেলোয়াড়,বোদ্ধা- সবাই বেশ আশাবদী! এবার হয়ত চিরশত্রু এক ভিনদেশির হাত ধরেই বহু আকাঙ্খিত, আরাধ্য বিশ্বকাপটা ঘরে আসবে ইংলিশদের!

ইংল্যান্ড স্কোয়াড

ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), মঈন আলি, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, টম কুরান, লিয়াম ডসন, জেমস ভিনস, লিয়াম প্লাংকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, জোফ্রা আর্চার, ক্রিস ওকস এবং মার্ক উড।

ইংল্যান্ড

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ১১ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই
  • রানার্সআপ : ১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২
  • সেমিফাইনাল : ১৯৭৫, ১৯৮৩
  • কোয়ার্টার ফাইনাল : ১৯৯৬, ২০০৭, ২০১১
  • সুপার সিক্স : নেই
  • প্রথম পর্ব : ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১৫

ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী (১০ জন)

খেলোয়াড়

ম্যাচ

রান

রান

গড়

১০০

৫০

গ্রাহাম গুচ

২১

৮৯৭

১১৫

৪৪.৮৫

ইয়ান বেল

২১

৭১৮

৮১

৩৫.৯০

অ্যালান ল্যাম্ব

 ১৯

৬৫৬

১০২

৫০.৪৬

গ্রায়েম হিক

২০

৬৩৫

১০৪*

৪২.৩৩

অ্যালেব স্টুয়ার্ট

২৫

৬০৬

৮৮

২৮.৮৫

কেভিন পিটারসেন

১৩

৫৭৫

১০৪

৪৭.৯১

পল কলিংউড

১৮

৪৭৪

৯০

৩৯.৫০

মার্টিন গাপটিল

১৫

৪৩৭

৬০

৩৯.৭২

ডেভিড গাওয়ার

১২

৪৩৪

১৩০

৫৪.২৫

নেইল ফেয়ারব্রাদার

১৯

৪৩০

৭৫*

৪৩.০০

 

ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (১০ জন)

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

রান

উইকেট

সেরা

গড়

ইয়ান বোথাম

২২

২২২.০

৭৬২

৩০

৪/৩১

২৫.৪০

ডি ফ্রেইটাস

 ২২

১৮৭.৫

৭৪২

২৯

৩/২৮

২৫.৫৮

জেমস অ্যান্ডারসন

২৫

২০৯.০

১০৮১

২৭

৪/২৫

৪০.০৩

অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ

১৮

১৩৫.৪

৫৩৪

২৩

৪/৪৩

২৩.২১

বব উইলিস

১১

১১৮.১

৩১৫

১৮

৪/১১

১৭.৫০

ক্রিস ওল্ড

৯০.৩

২৪৩

১৬

৪/৮

১৫.১৮

ড্যারেন গফ

১১

৯৯.৪

৪৩০

১৫

৪/৩৪

২৮.৬৬

এডি হেমিংস

৫৯.৩

২৭৪

১৩

৪/৫২

২১.০৭

ভিক মার্কস

৭৮.০

২৪৬

১৩

৫/৩৯

১৮.৯২

এডি হেমিংস

১০

৯৮.১

৪২৪

১২

৩/৩৩

৩৫.৩৩

 

সময়সূচি

৩০ মে, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য ওভাল

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৩১১/৮

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৭/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

ইংল্যান্ড ১০৪ রানে জয়ী

০৩ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ট্রেন্টব্রিজ

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৩৩৪/৯

পাকিস্তান পাকিস্তান ৩৪৮/৮

ম্যাচ রিপোর্ট

পাকিস্তান ১৪ রানে জয়ী

০৮ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

সোফিয়া গার্ডেন, কার্ডিফ

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড 386/6

বাংলাদেশ বাংলাদেশ 280/10

ম্যাচ রিপোর্ট

১০৬ রানে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড

১৪ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হ্যাম্পশায়ার বোল

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২১২/১০ (৪৪.৪)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ২১৩/২ (৩৩.১)

ম্যাচ রিপোর্ট

ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

১৮ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৩৯৭/৬ (৫০.০)

আফগানিস্তান আফগানিস্তান ২৪৭/৮ (৫০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ইংল্যান্ডে ১৫০ রানে জয়ী

২১ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হেডিংলি

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ২১২/১০ (৪৭ ওভার)

শ্রীলংকা শ্রীলংকা ২৩২/৯ (৫০ ওভার)

ম্যাচ রিপোর্ট

শ্রীলঙ্কা ২০ রানে জয়ী।

২৫ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

লর্ডস

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

৩০ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

এজবাস্টন

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

ভারত ভারত

০৩ জুলাই, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য রিভারসাইড ডারহাম

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড

আরও

বাংলাদেশকে ব্যঙ্গ করে পাকিস্তানি পত্রিকায় কার্টুন!

বাংলাদেশকে ব্যঙ্গ করে পাকিস্তানি পত্রিকায় কার্টুন!

ভারতীয় স্পিনারদের ভয় না পেয়ে উল্টো হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন যোশী

ভারতীয় স্পিনারদের ভয় না পেয়ে উল্টো হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন যোশী

সাকিবময় ম্যাচে রেকর্ড গড়েছেন মুশফিকও

সাকিবময় ম্যাচে রেকর্ড গড়েছেন মুশফিকও

পাঁচদিনের ছুটিতে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ফ্রান্স যাবেন সাকিব

পাঁচদিনের ছুটিতে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ফ্রান্স যাবেন সাকিব