পাকিস্তান

Team Image

পাকিস্তান : আনপ্রেডিক্টেবল চরিত্রই ভরসা

একটা সময় ছিল যখন নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচও অলৌকিকভাবে জিতে যেত পাকিস্তান। এ কারণেই হয়তো ওদের ডাকা হতো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলে; কিন্তু চার-পাঁচ বছরে রীতিটা উল্টে গেছে। এখন হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচও হেরে যায় পাকিস্তান। আর ব্যাকফুটে থাকাগুলো তো হারেই। ম্যাচ ফিক্সিং, অধিনায়কত্ব সংকট, অন্তর্কোন্দল- সব মিলে যা-তা অবস্থা পাকিস্তান দলের।

তবে আগের সেই সমস্যাগুলো যেন পাকিস্তান দলে এখন অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর পাকিস্তান দলটিতে একটা স্থিতি চলে এসেছে। দীর্ঘদিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন মিসবাহ-উল হক। ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলে মিসবাহ-উল হক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইউনিস খান বিদায় নেয়ার পর এখন পাকিস্তান দলে চলছে সরফরাজ যুগ।

সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বেই তিন ফরম্যাটে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। ব্যাটসম্যান ফাখর জামান, পেসার হাসান আলিদের হাত ধরে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

তবে এবারের পাকিস্তান দলটি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ সংশয় রয়েছে। কারণ, এই দলটি কিছুদিন আগেই আরব আমিরাতে (নিজেদের হোম ভেন্যু) অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ ম্যাচে সিরিজে হেরেছে। তবুও, পাকিস্তান বিশ্বকাপের জন্য যে দল ঘোষণা করেছে, তাদের সামর্থ্য রয়েছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।

যদিও পেসার মোহাম্মদ আমিরকে অফ ফর্মের কারণে দলে নেয়া হয়নি। তবুও বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে রাখা হয়েছে তাকে। সেখানে ভালো করলে হয়তো বিশ্বকাপের দলে সুযোগ মিলে যেতে পারে তার। ওয়াসিম আকরাম তো বলেই দিয়েছেন, ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের জন্য আমিরকেই প্রয়োজন।

সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে বাবর আজম, শোয়েব মালিক, হারিস সোহেল, ফাখর জামান, ইমাম-উল হক, মোহাম্মদ হাফিজরা রয়েছেন ব্যাটিংয়ের লাইনআপে। এছাড়া ফাহিম আশরাফ, ইমাদ ওয়াসিমরা হচ্ছেন অলরাউন্ডার। বোলিং থেকে শুরু করে ব্যাটিং- সমানভাবে দুই দিকেই তারা দলের জন্য ভুমিকা রাখতে পারেন।

বোলিংয়ে জুনায়েদ খান, মোহাম্মদ হাসনাইন, হাসান আলি, শাহিন আফ্রিদিদের পেস নিশ্চিত অর্থেই পাকিস্তানকে অন্য দলের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। এছাড়া লেগ স্পিনার শাদাব খান অবশ্যই পাকিস্তানের জন্য বড় ট্রাম্পকার্ড হিসেবে দেখা দিতে পারে বিশ্বকাপে।

সব বিশ্বকাপে খেলা পাকিস্তান ৭১ ম্যাচে ৪০টি জয় সঙ্গী করে ২০১৯ সালের মিশন শুরু করবে। এর বিপরীতে আছে ২৯ হার আর দুটি ম্যাচ হয়েছে টাই। ১৯৯২ সালে কিংবদন্তি ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান একবারই বিশ্বকাপ জিতেছিল। তখনও দল খুব ভালো অবস্থায় ছিল, বলা যাবে না।

এমনকি বিশ্বকাপের শুরু থেকেও ভালো খেলছিল না পাকিস্তান। অনেকটা ভাগ্যের সহায়তায় শেষ চারে উঠে পুরোপুরি বদলে যায় দল। শেষমেশ চ্যাম্পিয়ন।

১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৯৯ আসরেও ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। ‘টু ডব্লিউ’ জুটি ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউনুসের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের প্রাণ ইনজামাম-উল-হক ছিলেন তখনকার দলে। দুর্দান্ত এক দল নিয়েও ফাইনালে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে তারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৩২ রানে অল আউট হয়ে ফাইনালের মজাটাই নষ্ট করে দেয়।

যদিও ’৯২-র চিত্রটা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। সেবার টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বকালে সেরা দুই ক্রিকেটার ইমরান খান আর জাভেদ মিয়াঁদাদের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। শেষ ভাগে ইনজি আর আকরামের দুটি ঝড়ো ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ২৪৯ রান তোলে তারা।

জবাবে ২২৭ রানে আটকে যায় ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড। ২২ রানের সেই জয় পাকিস্তান দলের অলটাইম অনুপ্রেরণা। তবে প্রশ্ন হলো, এ দলে ইমরান-মিয়াঁদাদ কোথায়? আর আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে দল হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান যেমন সুসংহত নয়। তেমনি ব্যাটসম্যান বা বোলাররাও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। পাকিস্তান আছে র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর অবস্থানে। এটাই বলে দিচ্ছে বিশ্বকাপ জয় ওদের জন্য কঠিনই বটে।

Captain Image

সরফরাজ আহমেদ

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে শুরু করতে পারবেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কেননা তার সঙ্গে রয়েছে আইসিসি আয়োজিত সবশেষ বহুজাতিক টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের সুখস্মৃতি। যা তিনি নিজ দেশকে জিতিয়েছিলেন অধিনায়কত্ব পাওয়ার ৫ মাসের মাথায়।

ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গন কিংবা পাকিস্তান ক্রিকেটে তেমন কোনো বড় নাম না হলেও, অধিনায়ক হিসেবে এরই মধ্যে নিজেকে অনেক উঁচুতে তুলে ফেলেছেন সরফরাজ আহমেদ। তার অধীনেই আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার পর এবার ২৭ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার মিশনে নামবে পাকিস্তান।

২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচে আপাতকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৩১ বছর বয়সী সরফরাজ। তবে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন অধিনায়ক আজহার আলিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে পাকিস্তান ওয়ানডে ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক নির্বাচিত হন ডানহাতি এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত সফলতার সঙ্গেই দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন সরফরাজ।

তার অধীনে এখনো পর্যন্ত ৩৭টি ওয়ানডে খেলেছে পাকিস্তান। জিতেছে ২১ ম্যাচে, পরাজয়ের সংখ্যা ১৪ ম্যাচে, জয়ের শতকরা হার ৬০.০০। অধিনায়ক হিসেবে খেলা ম্যাচগুলোতে ২৪ ইনিংসে ব্যাট করে ৩ ফিফটির সাহায্যে মাত্র ২৭.৭৫ গড়ে কেবল ৪৪৪ রান করতে সক্ষম হয়েছেন সরফরাজ।

অথচ ২০০৭ সালে শুরু হওয়া তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান এর চেয়ে ঢের ভালো। এখনো পর্যন্ত সরফরাজ খেলেছেন ১০৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তবে ব্যাটিং করেছেন ৭৭ ইনিংসে। এর মধ্যে ৯ ফিফটি এবং ১ সেঞ্চুরিতে ৩৩.৬১ গড়ে ১৯৮৩ রান করেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে তার কাছ থেকে অধিনায়কত্ব গুণের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও বিশেষ কিছুর আশায়ই থাকবে পাকিস্তান।

Coach Image

মিকি আর্থার

২০১৫ সালে বাংলাদেশে সফর করতে এসে লজ্জাজনকভাবে হোয়াইটওয়াশ হয় পাকিস্তান। এরপর দলের দায়িত্ব ছাড়েন সে সময়কার পাকিস্তানি কোচ ওয়াকার ইউনুস। ওয়াকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর শুরু হয় নানান নাটকীয়তা, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন দক্ষিণ আফ্রিকান মিকি আর্থার। ক্রিকেটার হিসেবে খুব একটা সফল হতে না পারলেও কোচ হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন আর্থার।

মিকি আর্থারের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। তার পুরো নাম জন মাইকেল মিকি আর্থার। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত এই মুখ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পেলেও খেলেছেন দেশটির ‘এ’ দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও গ্রিকল্যান্ড ওয়েস্টের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচ খেলে ১৩ সেঞ্চুরি ও ৩৫ ফিফটিতে ৬৬৫৭ রান করেন আর্থার। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও বেশ সফল ছিলেন মিকি। ১৫০ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরি ও ১৯ ফিফটিতে ২৬.৭৮ গড়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩৭৭৪ রান করেন আর্থার। ২০০৩ সালে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরপরই কোচিং শুরু করেন আর্থার। প্রথমে দায়িত্ব নেন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেট দল ইস্টার্ন কোপের। পরে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের দুই বছরের মাথায় দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের। ৫ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার অধীনে ৪৫টি টেস্ট খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় লাভ করে ২২টিতে, টানা ১৩ ওডিআই সিরিজ জয়ের রেকর্ডও স্পর্শ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরপর অস্ট্রেলিয়দের বাইরে প্রথম কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের। তবে সেখানে খুব ভালো সময় যায়নি মিকির। ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্ত হন ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তানকে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতান আর্থার, পাকিস্তানকে তুলেন টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে। এবারের বিশ্বকাপে মিকি আর্থারের ক্রিকেট জ্ঞানের কারণেও অনেকে ফেবারিট মানছেন পাকিস্তানকে।

পাকিস্তান স্কোয়াড

সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফাখর জামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, আসিফ আলি, শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, হারিস সোহেল, হাসান আলি, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ এবং মোহাম্মদ হাসনাইন।

পাকিস্তান

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ১১ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : ১৯৯২
  • রানার্সআপ : ১৯৯৯
  • সেমিফাইনাল : ১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৮৭, ২০১১
  • কোয়ার্টার ফাইনাল : ১৯৯৬, ২০১৫
  • সুপার সিক্স : নেই
  • প্রথম পর্ব : ১৯৭৫, ২০০৩, ২০০৭

সময়সূচি

৩১ মে, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ট্রেন্টব্রিজ

পাকিস্তান পাকিস্তান ১০৫/১০

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৮/৩

ম্যাচ রিপোর্ট

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী

০৩ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ট্রেন্টব্রিজ

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৩৩৪/৯

পাকিস্তান পাকিস্তান ৩৪৮/৮

ম্যাচ রিপোর্ট

পাকিস্তান ১৪ রানে জয়ী

০৭ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড

পাকিস্তান পাকিস্তান

শ্রীলংকা শ্রীলংকা

ম্যাচ রিপোর্ট

কোনো বল মাঠে গড়ানো ছাড়াই ম্যাচ বাতিল

১২ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

কাউন্টি গ্রাউন্ড টন্টন

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ৩০৭/১০

পাকিস্তান পাকিস্তান ২৬৬/১০

অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী

১৬ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড

ভারত ভারত ৩৩৬/৫(৫০.০)

পাকিস্তান পাকিস্তান ২১২/৬ (৪০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

বৃষ্টি আইনে ভারত ৮৯ রানে জয়ী

২৩ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

লর্ডস

পাকিস্তান পাকিস্তান

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা

২৬ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

এজবাস্টন

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড

পাকিস্তান পাকিস্তান

২৯ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হেডিংলি

পাকিস্তান পাকিস্তান

আফগানিস্তান আফগানিস্তান

০৫ জুলাই, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

লর্ডস

বাংলাদেশ বাংলাদেশ

পাকিস্তান পাকিস্তান

আরও

মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার পুরান

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার পুরান

শুরুতেই ক্যারিবীয়দের গেম প্ল্যান নষ্ট করা চমক টাইগারদের!

শুরুতেই ক্যারিবীয়দের গেম প্ল্যান নষ্ট করা চমক টাইগারদের!

বিধ্বংসী লুইসকে ফেরালেন সাকিব

বিধ্বংসী লুইসকে ফেরালেন সাকিব