দক্ষিণ আফ্রিকা

Team Image

দক্ষিণ আফ্রিকা : চিরায়ত ট্র্যাজেডি

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেট সার্কিটে ফিরে আসার পর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফেবারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা; কিন্তু শক্তিশালী দল হয়েও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা হয়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। ১৯৯৮ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (তখনকার নক আউট বিশ্বকাপ) জয়ই এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

৩০ মে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্থ্যাৎ বিশ্বকাপটাই শুরু হচ্ছে হাই প্রোফাইল একটি ম্যাচ দিয়ে। খেলা হবে লন্ডনের দ্য ওভালে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমানে দলটি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় এবং ওয়ানডেতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এছাড়া ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলসের হাত ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা ত্রাস ছড়িয়েছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপে।

কিন্তু নবজাগরণের পাশাপাশি কোনো টুর্নামেন্টে বাজে সমাপ্তির অধ্যায়টাও শুরু হয়েছিল তখন থেকেই। সাদা বিদ্যুৎখ্যাত ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড কিংবা হ্যানসি ক্রোনিয়ের মতো তারকা ব্যাটসম্যানের এ দলটি বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হয়েও, সবাইকে অবাক করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলংকার কাছে হেরে যায়। শুধু তাই নয়, আসতে থাকে একের পর এক নিয়তির আঘাত।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের নিয়মনীতির চরম ব্যবহার বিশ্ব ক্রিকেট দেখল এ বিশ্বকাপেই। সেখানেও খগড় নেমে এলো তাদের ওপর। অনেক হিসাব কষে, শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেওয়া হলো এক বলে ২২ রানের অজাগতিক এক টার্গেট। তাই অনেক ভালো খেলেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় সম্ভাবনাময় দলটিকে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকা এসেছিল অপার সম্ভাবনা নিয়ে। প্রথম পর্বের খেলার সব ক’টিতে জয় নিয়ে নক আউট পর্বে উঠেছিল ক্রোনিয়ে-রোডস-কাস্টেনের দল; কিন্তু সেখানেই শেষ। সবাইকে অবাক করে ‘এ’ গ্রুপের প্রথম পর্বের পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তারা ১৯ রানে ধরাশায়ী হয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ফলে আবারও স্বপ্নের যবনিকা। এরপর আসে ১৯৯৯-এর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। এবারও প্রাথমিক পর্বের একটি বাদে বাকি ম্যাচগুলো জিতে গ্রুপসেরা হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা উঠে যায় সুপার সিক্সে। সেখানে তিন খেলায় জয় নিয়ে আশা জাগিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে শেষ চারের খেলায় প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টাই করে বসে আফ্রিকান দলটি। অ্যালান ডোনাল্ড আর ল্যান্স ক্লুজনারের ভুলে শেষ বলে এক রান নিতে না পেরে হয়ে যায় রানআউট। আবারও নিয়তির জালে আটকে যায় দলটি, রানরেটের হিসাবে বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপ থেকে।

২০০৩ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হলেও এবারের শুরুটা আগের মতো হলো না আফ্রিকানদের। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ‘বি’ গ্রুপের চার নম্বরে অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের সুপার সিক্সে ঠাঁই মেলেনি। ফলে এখান থেকেই বিদায় নিতে হলো স্বাগতিকদের।

২০০৭ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার মিশন শুরু করেছিল বেশ ভালোভাবেই। গ্রুপ পর্ব তারা শেষ করেছিল দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে। এরপর সুপার এইটও ভালোভাবে উতরে যায় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের দল। তখন পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরাও হচ্ছিল।

সেমিফাইনালে এসে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় আফ্রিকান দেশটি। কিন্তু গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং শন টেইটের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ১৪৯ রানেই মুখ থুবড়ে পড়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া এ রান অতিক্রম করে মাত্র ৩১.৩ ওভারে। একই সঙ্গে টানা পঞ্চমবারের মতো ধূলিসাৎ হয়ে যায় অমিত প্রতিভাধর এ দলটির বিশ্বকাপ মিশন।

২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ছিল প্রোটিয়াদের স্বপ্নের যাত্রা। গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বে গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচে জিতে শীর্ষে থেকেই উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ‘বি’ গ্রুপে সেবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত হয়েছিল দ্বিতীয়। শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তারা, ১৭১ রানের জবাবে ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে।

কিন্তু প্রোটিয়াদের দুর্ভাগ্য, কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় ৪৯ রানে। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে ফিরে যায় নিজ দেশে। অথচ সেরা প্রোটিয়া কোচ গ্যারি কারস্টেনের অভিভাবকের অধীনে থেকে বিশ্বকাপ জয় করে নেয় ভারত।

২০১৫ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে যায় এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বে। এবারও শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা। শিরোপার অন্যতম ফেবারিট। কিন্তু মোক্ষম সময়ে এসে ভেঙে পড়াটাই হচ্ছে তাদের ঐতিহ্য। গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের ৪টিতে জিতে হয়েছে দ্বিতীয়। কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৩ রানে অলআউট করে দিয়ে বীরদর্পেই তারা উঠে যায় সেমিফাইনালে। কিন্তু স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড এবারও তাদের পথের কাটা। অকল্যান্ডে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪ উইকেটে হেরে বিদায় নিতে হয় প্রোটিয়াদের।

এবারও তারা সবচেয়ে শক্তিশালী। ব্যাটিং-বোলিংয়ের বিচারে প্রোটিয়াদের চেয়ে শক্তিধর দেশ আর নেই। ফ্যাফ ডু প্লেসির নেতৃত্বে এই দলটিতে রয়েছেন হাশিম আমলা, এইডেন মারক্রাম, কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, রাশি ফন ডার ডুসেনরা। তবে বোলিংয়েই যেন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে প্রোটিয়ারা।

কাগিসো রাবাদা তো রয়েছেন ফর্মের চূড়ায়। লুঙ্গি এনগিদি, ডেল স্টেইন, আন্দিল পেহলুকাইয়ো, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, অ্যানরিখ নর্টজেরা রয়েছেন পেসারদের তালিকায়। এছাড়া ইমরান তাহির কিংবা তাবরিজ শামসিরা রয়েছেন স্পিনার হিসেবে। সুতরাং, এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি শিরোপা জিতে যায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

Captain Image

ফ্যাফ ডু প্লেসি

যে কোনো আইসিসি ইভেন্ট শুরুর আগে টপ ফেবারিট হিসেবেই থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের নাম; কিন্তু মূল আসর শুরুর পর দেখা যায় নকআউট কিংবা সেমিফাইনালে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে দলটি। আর এ ব্যর্থতার দায়ভার স্বাভাবিকভাবেই গিয়ে বর্তায় অধিনায়কের কাঁধে।

সে ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ভার কিংবা সফলতার জয়গান গাওয়ার দায়িত্বটা পেয়েছেন ডানহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ফ্যাফ ডু প্লেসি। যিনি নিয়মিত ভিত্তিতে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করছেন প্রায় বছরদুয়েক ধরে। তবে এর আগে ২০১৩ সালেই অধিনায়কত্বের স্বাদ পেয়ে যান ডু প্লেসি।

নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে ২০১৩ সালে দুই ম্যাচ, ২০১৪ সালে এক ম্যাচ এবং ২০১৬ সালে ছয়টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন ডু প্লেসি। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে এবি ডি ভিলিয়ার্স অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলে পাকাপোক্তভাবে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব পেয়ে যান ৩৪ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান।

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১১১ রানের ইনিংস খেলার মাধ্যমে ইতিহাসের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি গড়েন ডু প্লেসি। তার আগে এ অর্জন ছিলো কেবলমাত্র লঙ্কান কিংবদন্তি তিলকারাত্নে দিলশানের। তখনই বোঝা হয় অধিনায়কত্বটা ভালোই উপভোগ করেন ডু প্লেসি।

যে কারণে পরের বছরেই তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রিটোরিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এ ক্রিকেটারকে। সবমিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ৩০টি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডু প্লেসি। তার অধীনে ২৫টি ম্যাচেই জয়লাভ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের শতকরা হার ৮৩.৩৩, যা কি দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে কমপক্ষে ১০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা জয়ের হার।

এ সময়ে ব্যাট হাতেও সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন ডু প্লেসি। ত্রিশ ম্যাচের ২৮ ইনিংসে ব্যাট করে সেঞ্চুরি করেছেন ৪টি, পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫ ইনিংসে। ক্যারিয়ার গড় ৪৬ এর বিপরীতে অধিনায়ক হিসেবে তিনি ৫৫.৮২ গড়ে করেছেন ১২৮৪ রান। ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত ডু প্লেসি এ ৩০ ম্যাচে ক্যাচ ধরেছেন ১৭টি।

তবে ১৯৮৪ সালে প্রিটোরিয়াতে জন্ম নেয়া ডু প্লেসির ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকটা হয় ২০১১ সালে, খেলেছেন ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও। সবমিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ১৩৪ ওয়ানডেতে ১১ সেঞ্চুরি ও ৩২ হাফসেঞ্চুরিতে ৪৬.৫৪ গড়ে ৫১২০ রান করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাটের ধার বেড়ে যায়- তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এবারের বিশ্বকাপেও তেমন কিছুর আশায়ই থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকানরা।

Coach Image

ওটিস গিবসন

পারবেন কি দক্ষিণ আফ্রিকার ‘চোকার্স’ তকমা গোচাতে?

বছরজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপ এলে কেন যেনো ‘চোকার্স’ বনে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এটা একটি অপ্রমাণিত রহস্য! প্রতিবারই ফেবারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দলটির সূচনাও শুরু হয় দারুণভাবে; কিন্তু হঠাৎ করেই যেনো প্রতিবার দাবার ঘুটির মতো উল্টে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য; অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিতে হয় তাদের। ‘চোকার্স’ নামটার সার্থকতা বারবার প্রমাণ করে আসার মতো তিক্ত রেকর্ডের ভার আর কতদিন সইতে হবে প্রোটিয়াদের? সমর্থকদের এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে একজন মাস্টারমাইন্ডের মাথায়!

বলা হচ্ছে ওটিস গিবসনের কথা। ‘চোকার্স’ প্রোটিয়াদের চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দেয়ার বর্তমান স্বপ্নসারথি একজন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান! দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তার যাত্রা শুরু হয় বছর দুয়েক আগে; ২০১৭ সালের অগাস্টে।

রাসেল ডোমিংগোর ফেলে যাওয়া পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। মিডিয়া থেকে শুরু করে সমর্থক- সবাই কম বেশি প্রশ্ন তুলেছিল গিবসনের নিয়োগ নিয়ে! রাসেল ডোমিংগোর জায়গায় প্রথম কোনো বিদেশি হিসেবে প্রোটিয়াদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়।

সে সাথে বর্ণবাদ, ম্যানেজমেন্টের অস্থিতিশীলতা, বোর্ডের সাথে খেলোয়াড়দের মনোমালিন্য- এতো কিছু নিয়েও এখন পর্যন্ত বেশ সফল ওটিস গিবসন। আফ্রিকার বিমানে চড়ার আগে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে হয়ত একটা বড়সড় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছিলেন ওটিস। বিগত ১০ বছরের কোচিং অভিজ্ঞতা, সফলতা মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের নতুন আলোকবর্তিকা হিসেবে তিনি বেশ উপযুক্ত এবং সম্ভাবনাময়।

কোচ হিসেবে ওটিসের অতীত বেশ ঘটনাবহুল। দুই মেয়াদে ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ (২০০৭-২০১০,২০১৫-২০১৭) এবং এক মেয়াদে নিজের দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ (২০১০-২০১৪)। কোচিং ক্যারিয়ারে ওটিসের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে; ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য!

এছাড়াও ইংল্যান্ডের হয়ে একবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল (২০০৯), টি-টোয়েন্টি রানার্স আপ- একবার (২০১৬); পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণভাবে ২০১৫ অ্যাশেজ জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনন্য!

২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ গিবসনের আফ্রিকার সাথে সম্পর্কটা অনেক পুরনো। নব্বইর দশকে খেলেছিলেন আফ্রিকান ঘরোয়া লিগ-টুর্নামেন্ট-সানফয়েল সিরিজ। সেখানে ৩টি ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে এখন বেশ সাহায্য করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রোটিয়াদের কান্ডারি হিসেবে প্রথম সিরিজেই বাজিমাত করেছিলেন। বাংলাদেশকে তিন ফরম্যাটেই হোয়াইটওয়াশ করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেখিয়েছিলেন ওটিস। নিজের ক্রিকেটীয় মগজকে কাজে লাগিয়ে এখন পর্যন্ত প্রোটিয়া ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছেন এই ক্যারিবিয়ান।

তার অধীনে টেস্ট ফরম্যাটে অনবদ্য পারফরম্যান্স করে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা; যার ১৫ টেস্টে ১১টিতে জয়। তবে তাদের ওয়ানডে পার্ফরম্যান্স অতোটা আশানুরূপ হয়নি গিবসনের অধীনে; ২০টি ওডিআইয়ের মধ্যে জিতেছে সর্বসাকুল্যে ১২টি। এমন উত্থান-পতনের মাঝে ক্রিকেট আফ্রিকা ওটিসের ব্যবস্থাপনায় গড়েছে কিছু দারুণ রেকর্ড- আমলা-ডি ককের রেকর্ড পার্টনারশিপ (২৮১, বাংলাদেশের বিপক্ষে), ডেভিড মিলারের দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি, ডি ভিলিয়ার্সের একদিনের ম্যাচে সর্বোচ্চ রান (১৭৬), প্রমিজিং ইয়াংস্টার এইডেন মারক্রামের অভিষেক টেস্ট শতক কিংবা কাগিসো রাবাদার ১০০তম উইকেট!

সব মিলিয়ে; ওটিস গিবসনের অতীত, বর্তমান বিবেচনায় আনলে দক্ষিণ আফ্রিকার চোকার্স অপবাদ গোচানোর মতো যেসব রসদ,মাইন্ড গেম, মাস্টার প্ল্যান দরকার তার সবকিছুরই যোগান আছে এই ক্যারিবিয়ানের মগজে। মাঠে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণার যোগানদাতা হিসেবে ওটিসের সুনাম বেশ পুরনো। অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত প্রোটিয়াদের দলগত ভারসাম্য আনয়ন এবং বজায় রাখার ক্ষেত্রে অটিস সাধুবাদ পেতেই পারেন।

আসন্ন বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার দলগত পার্ফরমেন্স অনেকাংশেই নির্ভর করবে গিবসনের গেম প্ল্যানের উপর। তবে মাইন্ড গেম খেলে, দলকে মোটিভেট করে প্রোটিয়াদের চোকার্স তকমা কি আসলেই গোচাতে পারবেন ওটিস গিবসন? তা সময়ই বলে দেবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড

ফ্যাফ ডু প্লেসি (অধিনায়ক), জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ডেল স্টেইন, আন্দিল পেহলুকাইয়ো, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদা, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এনরিখ নর্টজে, লুঙ্গি এনগিদি, এইডেন মারক্রাম, রাশি ফন ডার ডুসেন, হাশিম আমলা এবং তাবরিজ শামসি।

দক্ষিণ আফ্রিকা

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ৭ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই
  • রানার্সআপ : নেই
  • সেমিফাইনাল : ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫
  • কোয়ার্টার ফাইনাল : ১৯৯৬, ২০১১
  • সুপার সিক্স: নেই
  • প্রথম পর্ব : ২০০৩।

সময়সূচি

৩০ মে, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য ওভাল

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৩১১/৮

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৭/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

ইংল্যান্ড ১০৪ রানে জয়ী

০২ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য ওভাল

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০৯/৮

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৩৩০/৬

ম্যাচ রিপোর্ট

বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী

০৫ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হ্যাম্পশায়ার বোল

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২২৭/৯

ভারত ভারত ২৩০/৪

ম্যাচ রিপোর্ট

ভারত ৬ উইকেটে জয়ী (১৫ বল হাতে রেখে)

১০ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

হ্যাম্পশায়ার বোল

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২৯/২, (৭.৩ ওভার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ম্যাচ রিপোর্ট

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত

১৫ জুন, ২০১৯, ০৬:৩০ পিএম

সোফিয়া গার্ডেন, কার্ডিফ

আফগানিস্তান আফগানিস্তান ১২৫/১০ (৩৪.১)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩১/১ (২৮.৪)

ম্যাচ রিপোর্ট

দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী

১৯ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

এজবাস্টন

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪১/৬ (৪৯.০)

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২৪৫/৬ (৪৮.৩)

ম্যাচ রিপোর্ট

নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

২৩ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

লর্ডস

পাকিস্তান পাকিস্তান ৩০৮/৭ (৫০.০)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২৫৯/৯ (৫০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

পাকিস্তান ৪৯ রানে জয়ী

২৮ জুন, ২০১৯, ০৩:৩০ পিএম

দ্য রিভারসাইড ডারহাম

শ্রীলংকা শ্রীলংকা

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা

০৬ জুলাই, ২০১৯, ০৬:৩০ পিএম

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

আরও

উইলিয়ামসনের মতো ব্যাট করো, সতীর্থদের হোল্ডার

উইলিয়ামসনের মতো ব্যাট করো, সতীর্থদের হোল্ডার

পরিসংখ্যান বলছে ভারত থেকে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পরিসংখ্যান বলছে ভারত থেকে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ভারতীয় ধারাভাষ্যকারের পক্ষপাতিত্ব : আইসিসির কাছে দর্শকের চিঠি

ভারতীয় ধারাভাষ্যকারের পক্ষপাতিত্ব : আইসিসির কাছে দর্শকের চিঠি

একক নৈপুণ্য নয়, ভারতকে হারাতে প্রয়োজন দলীয় প্রচেষ্টা

একক নৈপুণ্য নয়, ভারতকে হারাতে প্রয়োজন দলীয় প্রচেষ্টা