‘মিয়ানমারও উদ্বিগ্ন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৩:৩২ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
‘মিয়ানমারও উদ্বিগ্ন’

রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে লোকজনের পালিয়ে আসার ঘটনায় মিয়ানমার সরকার ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই সমস্যার তদন্ত করছে মিয়ানমার।

সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মিয়ানমারের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই সঙ্কটের কারণ পরিষ্কার নয়। সেখানে এখনো মুসলিমদের বৃহৎ একটি অংশ অবস্থান করছেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চি মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সঙ্কট ঘিরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তবে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও সেবিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি সু চি।

মিয়ানামরের সরকার রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিমদেরকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সু চি তার ভাষণে রাখাইনের সহিংসতায় মুসলিমদের পলায়নের ব্যাপারে কথা বললেও রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, রাখাইনের অর্ধেকের বেশি মুসলিম এখনো সেখানে আছে।

সু চির দাবি, গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে কোনো সহিংসতা অথবা অভিযানের ঘটনা ঘটেনি। সু চির এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার সাধারণ পরিষদের বিতর্কে ভ্যান থিও সু চির সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, রাখাইন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে অং সান সু চির ভাষণ দেয়ার ছিল।

রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে অান্তর্জাতিক তীব্র সমালোচনার মুখে সু চি শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। রাখাইনের সঙ্কট মোকাবেলা করতে তিনি অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন বলে স্টেট কাউন্সেলরের অফিস থেকে জানানো হয়। সু চির বদলে জাতিসংঘে অংশ নিয়েছেন মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান থিও।

সু চির সুরে ভ্যান থিও বলেন, শুধুমাত্র মুসলিমরা নয় অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোও পালিয়েছে। নির্দোষ ও বেসামরিক মানুষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে নিরাপত্তাবাহিনীকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাখাইনে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়া ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র : বিবিসি।

এসআইএস/আরআইপি