সেনা সমর্থিত দূত পাঠাতে ভারতের প্রতি নাশিদের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্ত করতে সেনা সমর্থিত দূত পাঠাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মালদ্বীপের নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। দেশটিতে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারির পরবর্তী মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতিসহ দুই জ্যেষ্ঠ বিচারক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম গ্রেফতার হওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি এ আহ্বান জানান।

মালদ্বীপের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ বিরোধীদলীয় ৯ সংসদ সদস্যকে সন্ত্রাসবাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশ জারির পর পর্যটন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে চরম রাজনৈতিক সঙ্কটের শুরু হয় গত সপ্তাহে।

বিরোধীদলীয় নেতাদের মুক্তি দিতে ও বরখাস্তকৃত ১২ সংসদ সদস্যকে স্বপদে বহাল রাখতে সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার যে রায় দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিন।

সোমবার দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির পর সুপ্রিম কোর্ট অবরুদ্ধ করে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ এক বিচারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

২০১৩ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাশিদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতার মসনদে বসেন ইয়ামিন। তখন থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরগতির অস্থিরতা শুরু হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের ফলে ৮৫ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় বিরোধীরা। অভিশংসনের শঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দেয়া আদেশ সরকার বাস্তবায়ন করবে না জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন।

তবে এ রায়ের ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় থাকা মোহাম্মদ নাশিদের চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে যায়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশটির প্রথম এ প্রেসিডেন্টকে ২০১৫ সালে সন্ত্রাসবাদের বিতর্কিত এক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সেই সময় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় নাশিদকে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনে যাওয়ার অনুমতি পান তিনি। তখন থেকে নির্বাসনে থাকা নাশিদ বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট সর্বশেষ রায়ে মামলা থেকে খালাস দেয়ার পর বলছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সাবেক এ প্রেসিডেন্টকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টে যখন সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন ঠিক তখনই প্রধান বিচারপতিসহ ইয়ামিনের সৎভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামুন আব্দুল গাইয়ুম বর্তমানে সংসদের প্রধান বিরোধীদের সঙ্গে রয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় নির্বাসনে থাকা নাশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইট বার্তায় মালদ্বীপের মারাত্মক এ রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে প্রতিবেশি ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। টুইটে তিনি বলেন, মালদ্বীপের জনগণের পক্ষ থেকে আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি : বিচারক ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের মুক্ত করতে সেনাবাহিনীর সমর্থনে মালদ্বীপে দূত পাঠাতে ভারতকে অাহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ভারতের শারীরিক উপস্থিতি কামনা করছি।

একই সঙ্গে মালদ্বীপে ইয়ামিন সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাশিদ।

সূত্র : এনডিটিভি।

এসআইএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :