প্রতি ২০ জনে একজন মরে মদপানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সারা বিশ্বে প্রতিবছর ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় মদ্যপানের কারণে। এ হিসেবে প্রতি ২০ জনে একজন মানুষ মারা যায় মদপানে। যা এইডসে মৃত্যুর থেকেও বেশি। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে এইডস, সড়ক দুর্ঘটনা ও সহিংসতায় যত মানুষের মৃত্যু হয় তা যোগ করলেও অ্যালকোহলে মৃত্যুর সংখ্যার কাছাকাছি আসবে না।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) এক রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হু'র তথ্যমতে, বিশ্বের পাঁচ শতাংশ মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী অ্যালকোহল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল ডা. টেডরস আদহানম গেবারিয়াসেস জানান, ২০১৬ সালে বিশ্বে ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায় অ্যালকোহলজনিত নানাবিধ কারণে। ওই বছর বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৫.৩ শতাংশ অ্যালকোহলজনিত কারণে, ১.৮ শতাংশ এইচআইভিতে, ২.৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় এবং সহিংসতায় ০.৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হু জানিয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ২৩০ কোটি মানুষ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সেবন করে। এর মধ্যে ২৩ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ এবং ৪ কোটি ৬০ লাখ নারী নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ইউরোপীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। অ্যালকোহল পানের ফলে যত নারী-পুরুষ ভুগছে, তার মধ্যে ১৪.৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩.৫ শতাংশ নারীই বাস ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এরপরই খারাপ অবস্থা বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ১১.৫ শতাংশ এবং ৫.১ শতাংশ।

উদ্বেগজনক বিষয় হল, আগামী ১০ বছরে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সেবনের প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

হু জানিয়েছে, মদ্যপায়ীদের ক্ষেত্রে গড়ে ১৫০ মিলিলিটার করে দুই গ্লাস ওয়াইন বা ৭৫০ মিলি বিয়ার বা ৪০ মিলি করে দুটি শট মদ। তবে যে পানীয় প্রীতিই থাকুক না কেন, এ কারণে প্রতিদিন পানরসিকদের শরীরে ঢুকছে ৩৩ গ্রাম করে অ্যালকোহল!

হু’র দেয়া মারাত্মক চিত্রটি হল- বিশ্বে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়ে এবং সদ্য প্রাপ্তবয়স্কদের কমপক্ষে চার ভাগের এক ভাগই অ্যালকোহল পান করছে। এর হার ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ৪৪ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৮ শতাংশ মানুষ মদ্যপান করে।

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপে গড়ে তিন শতাংশ মদ্যাপান কমেছে। কিন্তু তিন শতাংশ করে বিয়ার ও ওয়াইন পান বেড়েও গেছে।

এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :