বাইক না দেয়ায় আত্মহত্যা ছেলের, পুড়ে মরলেন মাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১৪ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

অনেক দিন ধরে মায়ের কাছে বাইক কিনে দেয়ার আবদার করে আসছিল ছেলে। কিন্তু পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো মায়ের সামর্থ ছিল না তা কিনে দেয়ার। তাই রাগ করে আত্মহত্যা করল ছেলে। এ পরিণতি সহ্য করতে না পেরে ছেলের শেষকৃত্যের আগেই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন মা-ও। গত মঙ্গলবার মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমের কিঝকোত্তাইয়ুর গ্রামে।

১৬ বছরের কিশোর গোবিন্দরাজন বাইকের স্বপ্ন দেখত। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই মা ইন্দ্রাণীর কাছে আবদার করেছিল। পরিচারিকার কাজ করেন ইন্দ্রাণী। স্বামী বছরখানেক আগেই মারা যান। দুই ছেলে। দু’জনই পড়াশোনা করে। বড় ছেলে গোবিন্দরাজন।

ছেলেকে ইন্দ্রাণী বলেছিলেন, ‘টানাটানির সংসার, বাইক কিনে দেওয়ার সামর্থ আমার নেই।’কিন্তু ছেলে ছাড়ার পাত্র নয়। কিনে যে তাকে দিতেই হবে! গোবিন্দরাজন উপায়ও বলে দিয়েছিল মাকে। তাকে বলেছিল, ‘তোমার যে জমানো টাকা রয়েছে সেটা দিয়ে কিনে দাও।’

বাইকের দাম দেড় লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা পাবেন কোথায়? ইন্দ্রাণী তাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু গোবিন্দরাজন গোঁ ধরে বসে থাকে। খাওয়া বন্ধ করে দেয়। মায়ের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, ইন্দ্রাণী তাদের কাছে প্রায়ই বলতেন ছেলেটাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। ভেবেছিলেন দু’দিনেই ছেলের রাগ পড়ে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ছেলে যে মনে মনে গুমরাচ্ছিল সেটা আঁচ করতে পারেননি ইন্দ্রাণী।

রোববার বাড়ির কাছেই কাজে গিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। কাজ থেকে ফিরে দেখেন ছেলের ঘর বন্ধ। বার বার ডাকা সত্ত্বেও সাড়া পাননি। ঘরের এক ফাঁক দিয়ে ভিতরে উঁকি মারতেই তার মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে। দেখতে পান, ছেলে ঘরের সিলিং থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে! চিত্কার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন ইন্দ্রাণী। পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবারই গোবিন্দরাজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। প্রতিবেশীরা গোবিন্দরাজনের দেহ দাহ করতে নিয়ে গেলে ইন্দ্রাণী ঘরে ঢুকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। মা-ছেলের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এনডিএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :