গরুর শিং রাখা যাবে কি-না জানতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৮

আরমিন কাপাউল নামের এক কৃষকের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা অবশেষে সফলতার মুখ দেখছে সুইজারল্যান্ডে। ওই কৃষক গত ৮ বছর ধরে গরুর শিং রাখার পক্ষে দেশটিতে একটি গণভোট আয়োজনের জন্য প্রায় এক লাখ মানুষের সাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে গরুর শিং রাখা হবে কি-না নির্ধারণ করতে আগামী রোববার দেশটিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে সাধারণত দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার ঘটনা এড়াতে গরুর শিং রাখার নিয়ম নেই। ছোট থাকা অবস্থায় সেখানে গরুর শিং পুড়িয়ে ফেলা হয়। তাছাড়া কোনো কৃষক যদি তার গরুর শিং বড় রাখে তাহলে সরকার থেকে তাকে ভর্তুকিও দেয়া হয় না।

গরুর শিং না কাটার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আরমিন কাপাউল নামের ওই কৃষক বলেন, ‘গরু থেকে আমরা দুধ পাই। এজন্য অবশ্যই তাদের সেবা করা উচিত। গরুর শিং কেটে ফেলাটা কখনোই উচিত নয়। খেয়াল করে থাকবেন তারা সব সময়ই তাদের মাথা উঁচু করে রাখে। যা তাদের গর্ব। আমি বলবো যদি এটা কেটে ফেলা হয় তাহলে অবশ্যই তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।’

তবে দেশটির সরকার সবসময়ই আরমিনের বিরোধিতা করে এসছে। তাদের যুক্তি হলো, যেসব গরুর শিং থাকে তা মানুষের জন্য বিপদজনক। শিংওয়ালা গরুর কারণে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি। তাছাড়া শিংওয়ালা গরু রাখতে জায়গাও বেশি লাগে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, অধিকাংশ কৃষক কম বয়সেই বিভিন্নভাবে মাথা খেকে গরুর শিং তুলে দেয়, অথবা তা এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয় যাতে আর কখনো সেটা বড় হতে না পারে। তবে আরমিনের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে আগামী রোববার দেশটির জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে, গরুর শিং কেটে ফেলা হবে নাকি রাখা হবে।

এসএ/আরআইপি