জম্মুতে কাশ্মীরিদের ওপর হামলায় আহত ৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলওয়ামারে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে। জম্মুতে কাশ্মীরিদের উপর হামলার জের ধরে কার্ফু জারি করা হয়েছে। সেখানে জনতার হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। অন্যদিকে কাশ্মীরিদের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার উপত্যকায় হরতাল ডাকা হয়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মতে, পুলওয়ামার হামলা যেন কোনও বিভেদকামী চক্রান্তে ইন্ধন না জোগায় তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার পুলওয়ামার হামলার প্রতিবাদে জম্মুতে হরতালের ডাক দেয় বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। জম্মুর বিভিন্ন অংশে বড় মাপের পাকিস্তানবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমশ তা কাশ্মীরিবিরোধী বিক্ষোভের চেহারা নেয়।

কাশ্মীরি প্রধান এলাকা বেছে বেছে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েল চক, পুরানি মান্ডি, রেহরি, শক্তিনগর, পাক্কা ডাঙ্গা, জানিপুর, গাঁধীনগর, বক্সীনগর এলাকায় পথে নামে জনতা। গুজ্জর নগরে কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। অন্য রাজ্যেও কাশ্মীরিদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক।

আজও বিক্ষিপ্ত হিংসা দেখেছে জম্মু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। বাঁচতে চাইলে জম্মু ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। অনেকেই নিজেদের জিনিসপত্র গোছানো শুরু করেছেন।

রাজ্য পর্যটন দফতরের জম্মুর রিসেপশন সেন্টারে কর্মরত কাশ্মীরিরা সুরক্ষা চেয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল থেকেই কার্ফু জারি হয়েছে জম্মুতে। ফ্ল্যাগ মার্চ করছে সেনারাও। দু’দিনে জনতার হামলায় প্রায় ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কাশ্মীরিদের উপরে হামলার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে উপত্যকায়। শনিবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে হরতালের ডাক দিয়েছে কাশ্মীরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। দুপুর তিনটা নাগাদ বন্ধ হয়ে গেছে উপত্যকার বেশিরভাগ দোকানের দরজা। জম্মু ও দেশের অন্যান্য অংশে কাশ্মীরিদের সুরক্ষার দাবিতে শ্রীনগরে মিছিল করে একদল বিক্ষোভকারী।

জম্মুর পরিস্থিতি প্রতিবাদে সরব হয়েছে উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলো। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, জম্মুতে দুষ্কৃতকারীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে দেখে আমি উদ্বিগ্ন। রাজ্যপালের প্রশাসনের উচিত ছিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। জম্মুর আইজিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি।

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা বলেন, কাশ্মীরি বা মুসলিমেরা সিআরপি জওয়ানদের উপর হামলা করেননি, করেছে জঙ্গিরা। ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে নিরীহ মানুষের উপরে হামলা চালিয়ে জওয়ানদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো যাবে না।

টিটিএন/এমএস

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :