পাকিস্তানিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজস্থান ছাড়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের রাজস্থান ছাড়তে নির্দেশ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় এই প্রদেশের বিকানার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই নির্দেশনা জারি করেন।

গত বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় জঙ্গি হামলায় দেশটির কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৪০ সদস্যের প্রাণহানির পর সোমবার ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৪৪ ধারা অনুযায়ী বেশ কিছু নির্দেশ জারি করে বিকানার জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। জেলার হোটেল, লজে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভাড়া দেয়া ও অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানিদের কোনো কাজ কিংবা চাকরিতে নিয়োগ না দেয়া এবং রাজস্থান সীমান্তের কাছের এই জেলার নাগরিকদের পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক না রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

যে কোনো ধরনের ফোন কল কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। অপরিচিত কাউকে ফোনে ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কিত অথবা অন্য স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে তথ্য না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তানি কোনো সিমও বিকানার জেলার বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারবেন না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই আদেশ আগামী দুই মাস ধরে বলবৎ থাকবে।

পুলওয়ামা হামলার একদিন পর শুক্রবার পাকিস্তানকে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকা থেকে বের করে দেয় ভারত। পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে ভারত অভিযোগ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।

এই হামলার জেরে পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ শুরু করেছে নয়াদিল্লি। তবে পাকিস্তান বলছে, ভারতের এই চেষ্টা কখনই সফল হবে না।

এদিকে, পুলওয়ামার পিংলান গ্রামে সোমবার সকালের দিকে আবারো জঙ্গিদের সঙ্গে টানা দশ ঘণ্টার লড়াই হয়েছে ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যদের। এই সংঘর্ষে বৃহস্পতিবারের হামলার মূলহোতা ও জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদের কমান্ডার আব্দুল রশিদ গাজী ওরফে কামরান ওরফে আফগানি এবং আরও দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ চার জওয়ান নিহত হয়েছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এসআইএস/এমকেএইচ

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :