কেন উইলিয়ামসনের যে ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ড যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। কেননা নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিকামী দেশে এ ধরনের ঘটনা এর আগে কেউ দেখেনি। বর্বর এ ঘটনার পর বিশ্বনেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনও বেশ সরব এ ঘটনায়। তাদের একজন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কেন উইলয়ামন। তিনি তার ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করেছে যেটি রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।

১৭ মার্চ কেন উইলিয়ামসনের শেয়ার করা ছবিটি দেশটির জাতীয় প্রতীক সিলভার ফার্ন। যেটি দেশটির জাতীয় প্রতীকের আদলে তৈরি করা নামাজের কাতার। নামাজরত কাতারবন্দী মানুষের বিপরীতে মানুষের প্রতিচ্ছবি যা বিনয় প্রকাশ করছে।

নিউজিল্যান্ড ক্যাপটেন ছবির ওপরে লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতো আমি বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি আসলে আজকে কী ঘটল। আমাদের দেশে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা কখনো তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। (এ ঘটনার পর) আমি আমার একাগ্রতা সব ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষী, মুসলিম সম্প্রদায় ও এ ঘটনায় আঘাত পাওয়া অন্য নিউজিল্যান্ড বাসির কাছে পৌঁছে দিতে চাই। চলুন আমরা এক হই।’

তিনি নিচে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ‘হ্যালোব্রাদার।’ ছবির বর্ণনায় লিখেছেন, ‘স্ট্যান্ডিং ইন সলিডারিটি। ১৫ মার্চ ২০১৯।’ যার অর্থ দাঁড়ায়-১৫ মার্চের ঘটনায় সংহতি প্রকাশ।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ক্যাপটেনের পোস্টটিতে লাইক পড়েছে ৪১ হাজার। কমেন্টস পড়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। শেয়ার করেছেন ২০ হাজার জন।

ছবির বিশ্লেষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি ছবিটি শেয়ার করার পাশাপাশি লিখেছেন, ‘সিলভার ফার্ন নিউজিল্যান্ডের জাতিসত্তার প্রতীক। নামাজ পড়া মানুষরাও একসঙ্গে একটা সিলভার ফার্ন। অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর (জাসিন্দা আর্ডান) দেশটিতে সাধারণ মানুষরা এই অভিব্যক্তি তুলে ধরে দাঁড়িয়েছেন বেদনায় বাকরুদ্ধ মুসলমানদের পাশে। শিখে নিই, এভাবে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। সব ধরনের অমানুষিকতা আর বর্বরতার বিরুদ্ধে।’

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। হামলাকারী ভিডিও গেমের ন্যায় ঠাস ঠাস করে গুলিতে ছুড়তে ছুড়তে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বৃষ্টির মতো গুলিতে লুটিয়ে পড়েন মুসল্লিরা। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে হামলাকারী।

হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ঢোকার পর থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করেন। মসজিদের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে গিয়ে প্রথম যে কক্ষটি পান সেখানে মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে টানা গুলি করা শুরু করেন। গুলির শব্দ শুনে মুসল্লিরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়েন। পরে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। জীবিত মানুষ দেখলে গুলি করে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদেও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। শান্তির দেশে এমন জঘন্য হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এই হামলাকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :