স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯

নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের অনুসারী নির্বিচারে গুলি করে নামাজরত অর্ধশত মুসল্লিকে হত্যার পর দেশটির নাগরিকরা স্বেচ্ছায় তাদের লাইসেন্স করা বৈধ আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জমা দিচ্ছেন। দেশটির জাতীয় দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর অনেকে স্বেচ্ছায় তাদের আধা স্বয়ংক্রিয় গুলি লোড হতে সক্ষম বন্দুক স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জমা দিচ্ছেন। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড সরকারও দেশটিতে অস্ত্র আইন কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে।

অনেক অধিবাসী তাদের লাইসেন্স করা আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক জমা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করছেন। তাদের মধ্যে একজন কৃষক জন হার্ট । তিনি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে তার বৈধ বন্দুকটি জমা দেন। হার্টের মতো আরও অনেকে লাইসেন্স করা আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র স্বেচ্ছায় জমা দিচ্ছেন।

কৃষক জন হার্ট বলেন, তিনি তার খামারের জীবজন্তু তাড়ানোর কাজে এটি ব্যবহার করতেন। সেই কাজটি এখন অন্যভাবে করতে চান তিনি। তাই বন্দুকটি জমা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাবকের কাজ করেছে গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলা।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময় বিবেচনা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পুলিশ স্টেশন থেকে জেনে আসি কীভাবে অস্ত্র জমা দিতে হবে। পরে বন্দুকটি জমা দেই। এই বন্দুকটি নিয়ে উন্মাদনা দেখানোর কোনো ইচ্ছাই আর আমার নেই।’

তিনি আরও জানান, ‘বন্দুক জমা দেয়া খুব সহজ কাজ। আমি একটি ফর্ম পূরণ করে আমার অস্ত্র জমা দিয়েছি।’ তার জমা দেয়া বন্দুকটি ধ্বংস করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তাছাড়া আরও যাদের এমন অস্ত্র আছে তাদেরকে সেগুলো জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইটারে একটি পোস্টও করেছেন হার্ট।

সবাইকে অস্ত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের এমন ধরনের অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। এমন ঘটনা (ক্রাইস্টচার্চে হামলা) যেন আর না ঘটে সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

জন হার্ট গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দুক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মাস্টারটনে ৫০ একর জমি নিয়ে তার একটি খামার আছে। যেখানে তিনি গরু ও ভেড়া পালন করেন। সেসব দেখভাল করার জন্যই সাথে অস্ত্র রাখতেন। কিন্তু অস্ত্র জমা দেয়ার পর নিজেকে নির্ভার মনে করছেন বলে জানান তিনি।

এসএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :