মসজিদে হামলার লাইভ ২০০ জনও দেখেনি : ফেসবুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালানোর সময় ঘাতক ব্রেন্টন ট্যারান্ট যে ফেসবুক লাইভ করেন তা ২০০ জনও দেখেনি বলে দাবি করছে ফেসবুক। তারা বলছে, হামলার ওই লাইভ ভিডিওটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলার আগে তা চার হাজারবার দেখা হয়েছে। দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিউনউড মসজিদে গত শুক্রবার নামাজরত মুসল্লিদের ওপর নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞ চালান শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের অনুসারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ট্যারান্টের সেই নৃশংস হামলায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হন। ঘাতক ট্যারান্ট শুধু নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যাই চালাননি তিনি সেই দৃশ্য টানা ১৭ মিনিট ফেসবুকে লাইভ করেন।

ফেসবুক বলছে, মসজিদে হামলার ওই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার শেষ হওয়ার ১২ মিনিট পরও কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারী হামলার ভিডিওটি নিয়ে তাদেরকে রিপোর্ট করেনি। তবে হামলার ভিডিও মুছে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও তা পারেননি বলে স্বীকার করেছে ফেসবুক।

আরও পড়ুন>> যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে নামাজের সময় পাহারা দিচ্ছেন অমুসলিমরা

ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মণিকা বিকার্ট হেরাল্ডকে বলেন, ‘হামলার ঘটনাটি যখন লাইভ করা হচ্ছিল তখন তা দেখে ২০০ জনেরও কম মানুষ। তাছাড়া ভিডিওটি লাইভ হওয়ার পর সেটি মুছে ফেলা পর্যন্ত আনুমানিক ৪ হাজার মানুষ তা দেখে।’

ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে ফেসবুকের সদর দফতর থেকে মণিকা বিকার্ট বলেন, ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স পদ্ধতি বন্দুকধারীর ওই হামলার ঘটনাটি লাইভ করার সময় তা চিহ্নিত (সহিংস ঘটনা হিসেবে) করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি সেটা খুঁজে পায়নি, তাছাড়া যখন লাইভ করা হয় তখন কেউ আমাদের রিপোর্ট করেননি।’

মণিকা বিকার্ট আরও বলেন, আমরা প্রথম বিষয়টি জানতে পারি লাইভ নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে। আর তাদের কাছ থেকে আপত্তি আসার পর আমরা দ্রুত সেটি মুছে ফেলি।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রোববার টুইটারে দেয়া এক বার্তায় জানায়, তারা মসজিদে হামলার পর গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে ফেলেছে। তাছাড়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার সেই ভিডিও তাদের প্লাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলতে কাজ করে যাচ্ছে ফেসবুক।

ফেসবুক নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তা মিয়া গারলিক বলেছেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও মানুষের সাহায্য নিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।’ ভিডিও মুছে দেয়া ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২ লাখ ভিডিও আপলোডে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শুধু ফেসবুক নয় ইউটিউব ও টুইটার কর্তৃপক্ষও মসজিদে হামলার ছড়িয়ে পড়া সেই সহিংস ভিডিও ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ঘাতক ব্রেন্টন ট্যারান্ট ক্রাইস্টচার্চে নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যার ভিডিও ফেসবুক লাইভের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি করা শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছুটোছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। তারপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যারা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

এসএ/জেআইএম