প্রথম ম্যানবুকার উঠছে আরব লেখিকার হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ২৩ মে ২০১৯

ব্রিটেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতেছেন এক আরব লেখিকা। চলতি বছরের ম্যানবুকার পুরস্কার জয়ী এই ওমানি লেখিকার নাম জোখা আলহারথি। তিনিই প্রথম কোনো আরব লেখিকা, যিনি এ পুরস্কার পেলেন।

‘সেলেস্টিয়াল বডিস’ নামের উপন্যাসের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন। ওমানে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করছেন -এমন তিন বোন এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী। বিচারকরা লেখিকার ঐশ্বর্যময় কল্পনাশক্তি, লেখার চিত্তাকর্ষক শৈলি এবং কাব্যিক অন্তর্দৃষ্টির প্রশংসা করেছেন।

জোখা আলহারথি সাংবাদিকদের জানান, তিনি রোমাঞ্চিত বোধ করছেন এই ভেবে যে, সমৃদ্ধ আরব সংস্কৃতির জন্য একটি জানালা খুলে গেল। এই লেখার অনুপ্রেরণা এসেছে তার নিজের দেশ ওমান থেকে। কিন্তু তিনি মনে করেন আন্তর্জাতিক পাঠকরাও এই গল্পের যেটি মূল বিষয় -স্বাধীনতা এবং ভালোবাসার মতো মূল্যবোধের সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল দেখতে পাবেন।

উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে স্যান্ডস্টোন প্রেস। নতুন এই প্রকাশনা সংস্থা মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে বছরে ২০ হতে ২৫টি বই প্রকাশ করে। ম্যানবুকার পুরস্কার তাদের প্রকাশনা সংস্থার জন্যও এক বিরাট সাফল্য।

‘সেলেস্টিয়াল বডিজ’ উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আল-আওয়াফি গ্রামকে ঘিরে। একটি সনাতনী সমাজ থেকে ঔপনিবেশ উত্তর যুগে যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে ওমান যাচ্ছিল, তিন বোনের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন দেখাতে চেয়েছেন লেখিকা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ওমানিরা কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

Jokha

আলহারথি বলেন, ‘এতে দাসপ্রথার বিষয়টি নিয়েও কথা রয়েছে। আমার মনে হয় এই আলোচনার সবচেয়ে উত্তম জায়গা হচ্ছে সাহিত্য।’

ওমানের কোনো উপন্যাস এটিই প্রথম যা ইংরেজীতে অনুবাদ করা হয়েছে। ৫০ হাজার পাউন্ডের পুরস্কারের অর্থ জোখা আলহারথি এবং তার উপন্যাসের মার্কিন অনুবাদক মারিলিন বুথের মধ্যে ভাগাভাগি হবে।

লেখিকা জোখা আলহারথি যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে তার আরও কিছু বই বের হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দুটি ছোটগল্প সংকলন, একটি শিশুতোষ বই এবং তিনটি উপন্যাস রয়েছে। সূত্র : বিবিসি

আরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :