এবার ইবোলাকে হার মানালেন চিকিৎসকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৯

এটাই হয়তো এ বছরের সবচেয়ে বড় খবর। কারণ ভয়াবহ রোগ ইবোলাকে হার মানানো সম্ভব হচ্ছে। কঙ্গোর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে যে, এবার ইবোলা আক্রান্ত রোগীদেরও বাঁচানো সম্ভব হবে।

কয়েক দশক ধরে মানুষের জন্য বড় আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইবোলা। কারণ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে গেছেন এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। কারণ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বিজ্ঞানীরা ইবোলার চিকিৎসায় সাফল্য পাবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

তাদের গবেষণা বলছে, দ্রুত চিকিৎসা নিতে শুরু করলে ৯০ শতাংশ আক্রান্ত রোগীই বেঁচে যেতে পারেন। কঙ্গোতে ইবোলা রেসপন্স এর সমন্বয়ক প্রফেসর জিয়ান জ্যাকুয়াস মুয়েম্বে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলেছেন, এই রোগ হয়তো খুব শিগগিরই প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য হবে এবং তিনি এ পরীক্ষাকে বছরের সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমি এটা নিয়ে খুব খুশী। ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে আমি চার দশক চিন্তা করেছি। তাই এটা আমার জীবনের একটা বড় অর্জন।

এই গবেষণাটি হয়েছে কঙ্গোতে। সেখানে গত আগস্ট থেকে ইবোলায় মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত এক হাজার আটশ। চারটি ওষুধ ব্যবহার করে পরীক্ষাটি শুরু হয় গত নভেম্বরে। ৭শ ব্যক্তিকে বাছাই করা হয় পরীক্ষার জন্য।

এর মধ্যে প্রথম ৪৯৯ জনই ওই ওষুধের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছেন। চিকিৎসকরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। ড. মুয়েম্বে বলেন, দু'টি ওষুধ যেগুলো ল্যাবরেটরিতে আরইজিএন-ইবি৩ ও এমএবি১১৪ নামে পরিচিত সেগুলো ইবোলার বিরুদ্ধে খুবই সক্রিয়।

মূলত এই চিকিৎসায় ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। আরইজিএন-ইবি৩ যেসব রোগীদের প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের মৃত্যুর হার কমে ২৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে চিকিৎসা না করলে মৃতের হার ৬০-৭০ শতাংশ।

ড. মুয়েম্বে বলেন, এটা বড় ধরণের আবিষ্কার। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইবোলার কোনো চিকিৎসা নেই, কোনো টিকা নেই। তাই এটাই বছরের সবচেয়ে বড় খবর। তিনি আরও বলেন, যাদের এন্টিবডিসহ ইনজেকশন দেয়া হয়েছে তারা এক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো বোধ করতে শুরু করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মনে রাখতে হবে এটি চিকিৎসা কোন প্রতিরোধ নয়।

এই চিকিৎসার মাধ্যমে ইবোলাকে রক্ত থেকে দু সপ্তাহের মধ্যেই সরিয়ে দেবে। এটা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে একটি চিকিৎসা। কিন্তু এটা কোনো টিকা নয় এবং রোগীরাও সারা জীবনের জন্য সুরক্ষিত নয়।

তার আশা আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে এই পরীক্ষা নিরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানা যাবে। ১৯৭৬ সালে যে দলটি ইবোলা চিহ্নিত করেছিল সেই দলের একজন সদস্য মুয়েম্বে। তিনি বলেন, নতুন আবিষ্কার রোগটির বিস্তার বন্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এর প্রভাব হবে অসাধারণ। কারণ মানুষ ইবোলার প্রতিরোধে চিকিৎসাই নিচ্ছিলোনা। মানুষ চিকিৎসা কেন্দ্রকে মৃত্যুকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছিল। এখন যদি তারা দেখে চিকিৎসা নিয়ে লোকজন সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরছে তাহলে তারা আর রোগীকে লুকিয়ে রাখবেনা। বরং হাসপাতালে নিয়ে আসবে। তাই রোগটির বিস্তার বন্ধ করার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার এক মা ও তার সন্তান ইবোলার চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। ৪২ বছর বয়সী ওই মা এবং তার এক বছর বয়সী সন্তান দু'সপ্তাহ আগে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার স্বামী ইবোলায় মারা গেছেন। তিনি বলেন, আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। এখন আমি সুস্থ যদিও আমার স্বামী মারা গেছেন। তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে দেরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইবোলা আছে ও এতে মানুষ মরছে কিন্তু আশার কথা আপনি দ্রুত সুস্থও হতে পারেন। ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এতে শুরুতে জ্বর হয়ে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল ও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। গলায় সমস্যা দেখা দেয়। এরপর বমি, ডায়রিয়া ও শরীরে রক্তক্ষরণ দেখা দেয়।

আক্রান্ত ব্যক্তির কেটে যাওয়া ত্বক, তার মুখ, নাক, বমি, রক্ত, মল বা শরীরের অন্য ধরনের তরল কোন পদার্থের সংস্পর্শে এলে নতুন করে যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পানিশূন্য হয়ে মারা যায় বা শরীরে কয়েকটি অঙ্গ অকার্যকর হয়েও মৃত্যু হতে পারে।

টিটিএন/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :