ট্রাম্পের অভিবাসন পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অভিবাসন নীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নতুন এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ট্রাম্প নতুন যে অভিবাসন নীতি এনেছেন তাতে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আশ্রয় চাওয়ার সক্ষমতা ব্যাপক হারে হ্রাস করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

নতুন এই নীতির আওতায় তৃতীয় কোন দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে অভিবাসীদের আগে সে দেশেই আশ্রয় চাইতে হবে। তবে এ বিষয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে এই রুল জারি করায় এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, এটি এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, সীমান্তে আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এটি একটি বড় জয়। অভিবাসন কমিয়ে আনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শাসনামলের একটা বড় লক্ষ্য। সেই সঙ্গে এটি ২০২০ সালের পুনঃনির্বাচনের জন্যও তার প্রতিশ্রুতির একটা বড় অংশ পূরণ করবে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে এই পরিকল্পনাটি ঘোষণা করা হলে প্রায় সাথে সাথেই সেটি কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দেয়া হয়। ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই অনুমোদন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় আমেরিকার অভিবাসীরা উত্তর দিকে যাত্রা করে, পায়ে হেঁটে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সহিংসতা এবং দারিদ্রের কারণে দেশ ছাড়ে।

নতুন এই রুল কার্যকর হলে, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়ে এবং এল সালভাদরের অভিবাসন প্রত্যাশীদের আশ্রয় চাইতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের আগে প্রতিবেশী কোন দেশ বা মেক্সিকোতে আশ্রয় চাইতে হবে। তবে এই নতুন নীতি আমেরিকার বাইরের অভিবাসন প্রত্যাশীদের উপরও প্রভাব ফেলবে।

আমেরিকার সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এই রুলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেছে। তারা বলছে, আশ্রয় পাওয়ার যোগ্যদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে এই নিষেধাজ্ঞা।

এক পিটিশনে সংস্থাটি বলছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ সীমান্ত এবং প্রবেশ বন্দরে থাকা আশ্রয় প্রার্থীরা এমনকি শুধু মেক্সিকান ছাড়া আর কেউই আশ্রয় চাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

তবে তৃতীয় কোন দেশে আশ্রয় চাওয়ার পর তা নাকচ হলে কিংবা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা এখনো আশ্রয় চেয়ে আবেদন করতে পারবে। অভিবাসীরা যেভাবেই পৌঁছান না কেন সবার আশ্রয়ের আবেদন বিবেচনা করার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিকে বদলে দেবে এই নিষেধাজ্ঞা।

সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারকের মধ্যে দুই রুশ বিচারক ব্যাডার গিন্সবার্গ এবং সোনিয়া সটোমেয়র এই রুলের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিচারক সটোমেয়র বলেন, আবারও নির্বাহী শাখা এমন একটি রুল ইস্যু করলো যা নিপীড়নের শিকার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদন বিবেচনার দীর্ঘদিনের মার্কিন চর্চাকে উল্টে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর যাত্রাপথ বিপজ্জনক। এছাড়া অসহায় হওয়ার কারণে প্রায়ই মধ্য আমেরিকার অভিবাসীরা প্রতিবেশী দেশের গ্যাংগুলোর কবলে পরে। এছাড়া মেক্সিকো এবং গুয়েতেমালা অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্রোত সামাল দিতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পথে তৃতীয় দেশ হতে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে মেক্সিকো। কারণ এটি হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আগ্রহীদের আশ্রয় আবেদন আগে বিবেচনা করতে বাধ্য থাকবে মেক্সিকো।

টিটিএন/জেআইএম