২২ বছর আগে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান দিল গুগল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাইশ বছর আগের কথা। যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তি হারিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তার খোঁজ মেলেনি। কোথায় গেলেন কিংবা কী হলো তার কিছুই জানতে পারেনি পরিবার। নিখোঁজ সেই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেল অবশেষে। মূলত ‘গুগল আর্থ’র মাধ্যমে তার খোঁজ মিলেছে।

উইলিয়াম আর্ল মোল্ডট নামের ওই ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে হারিয়ে যান। তখন তার বয়স ছিল ৪০ বছর। তিনি ফ্লোরিডায় ল্যান্টানার এক নৈশক্লাবে গিয়েছিলেন। সচরাচর মদ্যপান না করলেও ওই রাতে মদ্যপান করার পণ করেই বের হন। বাড়ির পাশের ওই ক্লাবটিতে তিনি প্রায়শই সময় কাটাতেন।

নাইট ক্লাব থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বান্ধবীকে ফোন করে বলেন, কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরছেন। তারপর রাত ১১টার দিকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। ন্যাশনাল মিসিং অ্যান্ড আনআইডেন্টিফাডেট পার্সনস সিস্টেম থেকে এসব তথ্য দিয়ে বলছে, তিনি নাকি ওই রাত্রে মদ্যপানই করেননি।

সেদিন রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। ২২ বছর ধরে নিখোঁজ তিনি। সম্প্রতি গুগল আর্থের মাধ্যমে একটি পুকুরে উইলিয়ামের ব্যবহৃত গাড়িটির খোঁজ মেলে। সেখানেই সন্ধান পাওয়া যায় তার দেহাবশেষের। গুগল আর্থের ছবি দেখেই মূলত তাকে শনাক্ত করা হয়।

ফ্লোরিডার ওয়েলিংটনে জরিপ কাজ চলাকালীন গ্র্যান্ড আইসেলস নামে আবাসন এলাকার একটি পুকুরের মধ্যে একটি গাড়ি দেখা যায়। ২০০৭ সাল থেকেই গুগল আর্থে গাড়িটি দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ২০১৯ পর্যন্ত কেউ সেটি কেউ নেড়েচেড়ে দেখননি।

সম্প্রতি ওই আবাসন প্রকল্পের এক বাসিন্দা ড্রোন (মনুষ্যবিহীন আকাশযান) ওড়াচ্ছিলেন। গত ২৮ আগস্ট তার ড্রোনের ক্যামেরায় গাড়ির ছবিটি ধরা পড়ে। গাড়িটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। ১৯৯৭ সালে ওই আবাসন এলাকায় নির্মাণ কাজ চলছিল।

Google Earth

স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ গাড়ির ছবি ও সব তথ্য মেলাতে শুরু করে। জানা যায়, গাড়ির মালিক নিখোঁজ উইলিয়াম আর্ল মোল্ডট। গাড়িটি পুকুর থেকে তোলা হয়। গাড়ির ভেতর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে শেরিফ অফিস।

তবে একটা রহস্য এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। ল্যান্টানা থেকে ওয়েলিংটনের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। ল্যান্টানার ওই নাইট ক্লাব থেকে ওয়েলিংটনের আবাসন এলাকায় কেন গেলেন উইলিয়াম। সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে রহস্য উদঘাটন হবে নাকি রহস্যই থেকে যাবে সেটাই প্রশ্ন।

এসএ/এমকেএইচ