যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে সহায়তা করত অন্য দেশের সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিশ্বজুড়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা গোপনে যে নজরদারি চালাতো তাতে অন্য দেশের সরকারও সহায়তা করত বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করে বিশ্বে সাড়া জাগানো সাবেক সিআইএ কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন।

স্নোডেন তার ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ নামের নতুন বইয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বইটিতে ‘অ্যামেরিকার প্রিমিয়ার সিগন্যাল এজেন্সিতে‘ কাজ করাকে ‘স্বপ্নের কাজ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন নজরদারি কর্মসূচি নিয়ে বইটিতে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন নজরদারি কর্মসূচির বিস্তারিত ফাঁস করে দেয়ার পর ২০১৩ সাল থেকে রাশিয়ায় বাস করছেন স্নোডেন। তবে ফ্রান্স তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবে বলে সম্প্রতি আশা প্রকাশ করছেন তিনি। বিশ্বের বহু মানবাধিকারকর্মী স্নোডেনকে ‘বীর’ হিসেবে বিবেচনা করলেও তার নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়।

বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন বুকস স্নোডেনের নতুন বই ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ প্রকাশ করেছে। ২০০৯ সালে মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা সংস্থায় চুক্তিতে যোগ দিয়েছিলেন এ কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ।

নতুন বইয়ে স্নোডেন আরেও গভীরতর গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি বলেছেন, পিআরআইএসএম প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এনএসএ বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের জন্য নজরদারি করত। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পরে এ প্রোগ্রামটি চালু করা হয়।

স্নোডেন দাবি করেছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত অনুভব করেছিলেন যে, তার প্রজন্ম যদি হস্তক্ষেপ না করে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই তিনি এসব ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং সাংবাদিকদের সাথে এনএসএ কী করছে তাও সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন।

২০১৩ সালে স্নোডেনের তথ্যগুলো যখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছিল, তখন তিনি চিহ্নিত করেন, যেসব দেশের নাগরিকরা অ্যামেরিকার গণ-নজরদারির সবথেকে বিরোধী ছিল সেসব দেশের সরকারই তাদের এ কাজে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে।

স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের পর জার্মানিরা তাদের দেশে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে আবিষ্কার করে। দেশটিতে এনএসএর নজরদারিকে সমর্থন করেছিল বিএনডি। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সেল ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে ম্যার্কেল বলেছিলেন, বন্ধুদের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি, এটি সহজভাবে করা হয়নি। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের পর ২০১৪ সালে জার্মানিতে একটি সংসদীয় তদন্তও করা হয়।

মেট্রোপলিটন বুকস-এর মুখপাত্র প্যাট ইসিম্যান আগেই জানিয়েছেন, আত্মজীবনী লিখছেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। তার লেখা ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ বইটি ২০টি দেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থায় যোগদানের পর স্নোডেন সেখানে যে বিবেকের সংকট দেখেছিলেন, সেসব নিয়েই বইটি লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি।

আরএস/জেআইএম