বোরকা নিষিদ্ধ হলো নেদারল্যান্ডসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বোরকা নিষিদ্ধের বিতর্কিত আইন পাস করে আরও কিছু ইউরোপীয় দেশের তালিকায় যোগ হলো নেদারল্যান্ডসের নাম। অনেকে মনে করেন, বোরকা নারী নিপীড়নের প্রতীক, আবার কেউ কেউ এমন সিদ্ধান্তকে দেখছেন ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে।

বৃহস্পতিবার থেকে নেদারল্যান্ডসের স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি স্থাপনা এবং গণপরিবহনে মুখ ঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ২০০৫ সালে উত্থাপিত প্রস্তাব ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার পর ২০১৫ সালে পাস হয়। ২০১৮ সালের জুনে দেশটির সিনেট এ আইনের অনুমোদন দেয়।

আইন অনুযায়ী, বোরকা পরিহিত কেউ এসব স্থানে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে মুখ দেখাতে বলতে পারবেন। আপত্তি জানালে উল্লিখিত স্থানে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ অমান্য করলে ১৫০ ইউরো (প্রায় ১৫ হাজার টাকা) জরিমানাও করা হতে পারে।

শুধু বোরকা নয় পুরো মুখ ঢাকা হেলমেট বা বালাক্লাভার ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। এই আইন কার্যকরের আগেই ব্যাপক বিরোধিতার মুখে। বেশ কয়েকটি শহর কর্তৃপক্ষ, হাসপাতাল, গণপরিবহন সংস্থা এমনকি পুলিশও এই আইন বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইউরোপ জুড়ে বিধিনিষেধ

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স প্রায় ১০ বছর আগে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করে। গত বছর জাতিসংঘের একটি কমিটি এই আইন মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে মত প্রকাশ করলেও ফ্রান্স তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

ফ্রান্সের পর অনেক দেশে এমন আইন চালু করা হয়েছে। ব্যাপক বিরোধিতা সত্ত্বেও ডেনমার্কে এক বছর ধরে চালু রয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা। চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রিয়া প্রথামিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশুদের মাথা ঢাকার স্কার্ফ নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে।

সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় এমন পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জার্মানির রাজ্য হেসেতেও। ছয় মাস আহে উত্তর জার্মানির কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় পুরো মুখ ঢাকা কোনো পোশাক পরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে মুখভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ, এমন যুক্তি দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বেশ কিছু রাজনীতিবিদ ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কারণে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী অনেক নারী ও মানবাধিকার কর্মীও এমন আইনের বিরোধিতা করে আসছেন।

সূত্র : ডয়েচেভেলে

এসএ/পিআর