ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে হামলার পেছনে ইরানের হাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দুই তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ থেকে এটাই প্রমাণ করে যে, ওই হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে।

সৌদি বলছে, ১৮টি ড্রোন এবং সাতটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রও বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, যেখান থেকে সৌদিতে হামলা চালানো হয়েছে সেই এলাকা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইরান থেকেই সৌদির দুই তেলক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবারের ওই হামলার পর সৌদির তেল ও গ্যাস উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগ কমে গেছে। সৌদিতে তেল উৎপাদন প্রতিদিন ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। এদিকে মঙ্গলবার হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ওই এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কারণ সেখানে হুথি বিদ্রোহীরা আবারও হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। সৌদির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ওই ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে পারেননি কারণ তারা ইয়েমেন থেকে যে কোনো হামলা প্রতিহত করতে দক্ষিণাভিমুখে সতর্ক ছিল।

তবে প্রথম থেকেই ওই হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে তেহরান। কিন্তু ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওই হামলা চালিয়েছে বলে দাবী করায় সন্দেহের তীর বার বার ইরানের দিকেই যাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র আবকাইক তেলক্ষেত্র। এছাড়া খুরাইস এলাকায় অবস্থিত তেলক্ষেত্রটিও সৌদির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদির হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পুরো পরিস্থিতি দেখছি। আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি। আমাদের কাছে এর অনেক বিকল্প রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সব প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, উত্তর দিক থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এখানে কোনো সন্দেহ নেই যে এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থান থেকে হামলা চালানো হয়েছে তা নিশ্চিত হতে কাজ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে যেসব ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে ইরানের ইউএভি বা চালকবিহীন ড্রোন 'ডেল্টা উইং' ছিলো বলেও দাবি করা হয়। কম্পিউটারে ইউএভি ডাটা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এটি ইরানের।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল মালকি বলেন, যেসব ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে সেগুলো এসেছিল উত্তর অভিমুখে। তিনি ম্যাপ ও ক্ষয়ক্ষতির ছবিসহ আবকাইকে চালকবিহীন যানের হামলার ভিডিও প্রদর্শন করেন।

তবে ঠিক কোথা থেকে হামলাটি এসেছে সে জায়গাটি চিহ্নিত করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন এটি বের করা মাত্রই প্রকাশ করা হবে।

বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে ইরানের একটি কূটনৈতিক নোট দেয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে দ্রুত জবাব দেবে ইরান।

টিটিএন/পিআর