চন্দ্রযান ২-এর সাফল্য বাড়িয়ে বলা হচ্ছে, অভিযোগ খোদ ভারতেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চন্দ্রযান-২-এর সাফল্য নিয়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বর্তমান কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির সাবেকরা।

সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, ‘দিনের পর দিন ইসরোর সাফল্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কদিন পর হয়তো বলে দেবে চন্দ্রযান-২ একশ শতাংশ সফল।

গত ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং হওয়ার কথা ছিল চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের। কিন্তু, সফট ল্যান্ডিংয়ের সময় শেষ মুহূর্তে ইসরোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বিক্রম। তার সঙ্গে আর কোনোরকম যোগাযোগ করা যায়নি। পরে চন্দ্রযানের অরবিটারের মাধ্যমে তার থার্মাল ইমেজ পাওয়া যায়।

জানা যায়, নির্ধারিত লক্ষ্যের মাত্র ৫০০ মিটার দূরে হার্ড ল্যান্ডিং হয়েছে বিক্রমের। তারপর থেকেই ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরো। যোগাযোগ সাধন সম্ভব না হলেও, ইসরো প্রথমে দাবি করে চন্দ্রযান মিশনের ৯৫ শতাংশ সফল।

শনিবার চাঁদের মাটিতে রাত নেমে যাওয়ায় বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তা সত্ত্বেও শনিবার ইসরো প্রধান কে শিবন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা বিক্রমের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি এখনও। এ প্রকল্পটি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল্এ কটি বিজ্ঞান নির্ভর, একটি প্রযুক্তি নির্ভর। আমরা প্রজেক্টের বিজ্ঞানের দিকটিতে পুরোপুরি সফল, প্রযুক্তির দিকটিতেও প্রায় পুরোপুরি সফল। তাই চন্দ্রযানের সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশ বলা যায়।’

K-Shivan

ইসরো প্রধানের এই দাবিকেই কটাক্ষ করছেন সাবেকরা। শনিবার ভুবনেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে নাম জানাতে অনিচ্ছুক ইসরোর সাবেক এক গবেষক বলেন, ‘এক সপ্তাহে সাফল্যের হার ৯৫ থেকে বাড়িয়ে ৯৮ বলে দেয়া হলো। আর পাঁচদিন পর হয়তো বলবে চন্দ্রযান ১০০ শতাংশ সফল। আমার মনে হয় ইসরো প্রধান কী বলছেন, সেটা আরও একবার তার ভেবে দেখা উচিত। গোটা দুনিয়া আমাদের দেখছে। এখন ইসরোর উচিত কোনও বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেয়া। আমার খুবই খারাপ লাগছে এটা বলতে, যে ইসরো এখন যেভাবে কাজ করছে, তার কোনও দিশা নেই।’

চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণ করা হয় গত ২২ জুলাই। এই রকেটের রয়েছে তিনটি ভাগ: একটি অরবিটার, অবতরণযান বিক্রম এবং প্রজ্ঞান নামে ছয়-চাকার একটি রোবট-চালিত গাড়ি। এর লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করা।

এর আগে ভারত চন্দ্রযান-১ নামে একটি রকেট পাঠিয়েছিল যেটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের কণার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছিল।

জেডএ/পিআর