জাপানে হাগিবিসের তাণ্ডব মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবল সুপার টাইফুন হাগিবিসের আঘাতে লন্ডভন্ড জাপানে ১৯ জন নিহত ও আরো এক ডজনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। টাইফুন হাগিবিসের প্রভাবে রেকর্ড বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে বহু বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী টোকিওতে হাজার হাজার মানুষ বন্যায় আটকা পড়েছেন। রোববার আটকা পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কয়েক হাজার সেনাসদস্য ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানের ইতিহাসে এমন প্রলয়ঙ্করী ঝড় দেখা যায় ১৯৫৮ সালে; ওই বছরের টাইফুন কানোগাওয়ার পর এবারই সর্বোচ্চ শক্তিশালী সুপার টাইফুন হাগিবিস আঘাত হেনেছে দেশটিতে। টাইফুন কানোগাওয়ার আঘাতে ওই বছর এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

Typhoon-hagibis-1

রাজধানী টোকিও ও পূর্বাঞ্চলের ওপর ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়েছে সুপার টাইফুন হাগিবিস। প্রলয়ঙ্করী এই ঝড়ের তাণ্ডবে টোকিওর কিছু অংশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে বলছে, সুপার টাইফুন হাগিবেসের তাণ্ডবে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১৩ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো কয়েকশ মানুষ। জাপানের মধ্য এবং পূর্বাঞ্চলের নিচু এলাকার ওপর দিয়ে এই ঝড়ে বয়ে যাচ্ছে। এতে এসব অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে টোকিও ও এর আশপাশের এলাকার প্রায় ৫ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এনএইচকে বলছে, টোকিও নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরে বিমানের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বাতিল করা হয়েছিল। এতে প্রায় ৮০০ ফ্লাইটের ওঠা-নামার সূচিতে বিপর্যয় দেখা দেয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে সুপার টাইফুনের তাণ্ডব পরবর্তী বিপর্যয় মোকাবেলা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঝড়ের তাণ্ডবে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে শিনজো অ্যাবে। তিনি বলেন, তার সরকার দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে ও সম্পত্তি রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছে।

japan

দেশটির সরকার বলছে, মধ্যাঞ্চলের নাগানো ও এর আশপাশের এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডবে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে জাপানের আত্ম-প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের প্রায় ২৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এনএইচকে বলছে, দেশের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে ৪ লাখ ২৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্থাপনে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

ফিলিপাইনের তাগালোগ ভাষায় সুপার টাইফুন ‘হাগিবিস’ অর্থ ‘গতি’; স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যার দিকে জাপানের হনশু দ্বীপে আছড়ে পড়ে।

সূত্র : রয়টার্স।

এসআইএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]