সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আইন করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুয়া সংবাদ, মানহানিকর পোস্ট এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন তৈরি করছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন এই আইন চূড়ান্ত করা হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মাদ্রাজ, মুম্বাই এবং মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সংক্রান্ত বিচারাধীন সব মামলা সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব পড়তে পারে এমন যুক্তিতে ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ সংক্রান্ত মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করার নির্দেশের জন্যে আবেদন করা হয়েছিল। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলছে, সামাজিক যোগােযোগমাধ্যম সম্পর্কিত সব মামলার শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে করা হবে।

তবে তামিলনাড়ু প্রদেশের সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত মামলা শীর্ষ আদালতে স্থানান্তর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপাল বলেছেন, বিশ্লেষণের জন্য সরকার যেসব তথ্য চাচ্ছে; সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের ডিক্রিপ্ট করা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরের সম্মতি দেয়ার আগে তামিলনাড়ু সরকারের এই আইনজীবী বলেন, ভারতে আসার পর হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক বলতে পারে না যে, তারা তথ্য ডিক্রিপ্ট করতে পারে না। তবে এ দুই কোম্পানি বলছে, তথ্য ডিক্রিপ্ট করার চাবি তাদের হাতে নেই এবং তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুধুমাত্র সহযোগিতা করতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় বেঞ্চের বিচারক দীপক গুপ্ত ও অনিরুদ্ধ বোস বলেন, সরকার বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে চাবি চায় এবং মালিকরা বলেছেন, তাদের কাছে চাবি নেই। মামলার আরেক আবেদনকারী বেসরকারি ইন্টারনেট সংস্থা ইন্টারনেট ফ্রিডম এসোসিয়েশন সুপ্রিম কোর্টকে বলেছে, তাদের পিটিশন সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি বেঞ্চের কাছে পাঠানো হয়েছে; তবে বিচারাধীন রয়েছে। এই বেঞ্চ নাগরিক অধিকার পদদলিত না করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিনিধি ও আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের আইন চূড়ান্ত করার পদক্ষেপ নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে না। বরং এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে।

সূত্র : এনডিটিভি।

এসআইএস/জেআইএম