মায়ের জন্য সুপাত্র চান ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৩ এএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

স্বনির্ভর সুপাত্র চাই। পাত্রীর বয়স ৪৫। স্নাতক পাস, বই পড়তে এবং গান শুনতে ভালোবাসেন, থাকেন চন্দননগরে। এমন করেই মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন গৌরব অধিকারী নামের এক ব্যক্তি।

মা দোলাদেবীর জন্য করা তার ওই ‘পোস্ট’ ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওই পোস্টে ১০ হাজার ‘লাইক’ পড়েছে। ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ওই পোস্ট শেয়ার করেছেন। ‘কমেন্ট’ করেছেন পাঁচশোরও বেশি মানুষ। অনেকেই গৌরবের এমন নজিরবিহীন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

আর যে দুই-একটা কটূক্তি এসেছে তার জবাব গৌরবকে দিতে হয়নি। তার ফেসবুক বন্ধু বা অন্যরাই এর জবাব দিয়েছেন। এক পোস্টে আকাশবাণীর উপস্থাপক গৌরব (২৬) বলেন, ভাইরাল করতে বা নিজে বিখ্যাত হতে এই পোস্ট করিনি। রান্নাঘরে মা জীবনটা কাটিয়ে দেবে এটা চাই না। আমি চাই, মা আবার আগের মতো জীবন কাটাক। বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলুক। মায়ের একাকীত্ব ঘোচানো আমার দায়িত্ব, কর্তব্যও। তাই মায়ের বিয়ে দিতে চাই। কেউ বাঁকা চোখে দেখলেও তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

২০১৪ সালে গৌরবের বাবা মারা যান। তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর স্টেশনের কাছে বৌবাজার শীতলাতলায় মা-ছেলের সংসার। কর্মসূত্রে বেশির ভাগ সময়ে গৌরবকে বাইরে থাকতে হয়। ফলে, দোলাদেবী বাড়িতে একাই থাকেন। বই পড়ে, গান শুনে সময় কাটান। প্রায় তিন মাস আগে গৌরব যখন প্রথম মায়ের বিয়ের কথা তোলেন তখন দোলাদেবী ভেবেছিলেন ছেলে মজা করছে! কিন্তু নাছোড়বান্দা ছেলে মাকে রাজি করিয়েছেন।

দোলাদেবী জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবন অনেকটাই বদলে গেছে তাদের। তিনি বলেন, তিন মাস আগে ছেলের ইচ্ছার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়ি। ছেলে খুব কাছের দু’-একজন বন্ধুকেও বিষয়টা বলেছিল। ওরাও আমাকে বোঝায়। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম। শেষে ছেলের যুক্তি আর ইচ্ছার কাছে হার মানতে হয়।

ইতোমধ্যেই ভালো ভালো পাত্রের খোঁজ আসতে শুরু করেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, এমনকি বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক এবং প্যারিসের পাত্ররাও রয়েছেন এই তালিকায়। গৌরব বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা এখনও ততটা ভাবা হয় না। এই শিকলটা ভেঙে যাক। অনেকেই বলেছেন, তারাও তাদের মাকে বিয়ে দিতে চান। কিন্তু সমাজের কথা ভেবে এগোতে পারেন না। আমি এগোতে চাই। দৃষ্টান্ত তৈরি হলে আরও অনেকে যদি সাহস পান, সেটা আমার জন্য অনেক।

টিটিএন/পিআর